Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

শহরের মাসদাইরে মাদক সন্ত্রাসীদের হাতে মাদক ব্যবসায়ী খুন

স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ থেকে | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৪:১৯ পিএম

শহরের মাসদাইরে মাদক সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছে সুমন (৩২) নামে অপর এক মাদক ব্যবসায়ী। তাকে মাদক ব্যবসায়ীরা পিটিয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুর্মুর্ষ অবস্থায় সুমনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার ভোর ৫টায় সে মারা যায়। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় ফতুল্লা থানার মাসদাইর পাকাপুল এলাকার সুরুজ্জামালের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মাসদাইর এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে। সুমনের লাশ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সুমনের নয় বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, মাসদাইর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সুমন একজন পাইকারি মাদক বিক্রেতা। সে বিভিন্ন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদক সরবরাহ করে। মাসদাইর পাকাপুল এলাকার সুরুজ্জামালের বাড়ির ভাড়াটিয়া বিপ্লব খুচরা মাদক বিক্রেতা। তার কাছে সুমন মাদক বিক্রির ৭০হাজার টাকা পায়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় সুমন মাদকের পাওনা টাকা আনতে বিপ্লবের কাছে যায়। এসময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিপ্লব ও তার সহযোগীরা সুমনের উপর হামলা চালালে সে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় বিপ‌লব ও তার সহযোগীরা কেরোসিন তেল ঢেলে সুমনের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী সুমনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৫টায় সুমন মারা যায়।
সুমনের পরিবার জানায়, প্রতিবেশী সোহেল মণ্ডল ও বিপ্লবের কাছে সত্তর হাজার করে টাকা পাওনা ছিলো নিহত সুমন। কোরবানি ঈদের সময় সুমনের কাছে পাওনা পরিশোধের জন্য বিপ্লব ও সোহেল এক সপ্তাহ সময় চায়। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টায় একটি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় সুমন। যাওয়ার সময় তার মাকে জানিয়ে যায় পাওনা টাকা আনতে বিপ্লব কাছে যাচ্ছে । তার কিছুক্ষণ পরেই সুমনের পরিবার জানতে পারে সুমনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
সেখান থেকে সুমনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে শনিবার ভোর ৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। মৃত্যুর আগে সুমন তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে বলে জানায় তার পরিবার।
সুমনের বোন রীতা জানান, সুমনের দেয়া বর্ণনা মতে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত মোট চার জন। তারা হলেন, বিপ্লব, তার স্ত্রী শায়লা, সুমন মণ্ডল ও হোটেল মাসুদ। সুমন তার পাওনা টাকা আনতে গেলে শায়লা, মাসুদ ও বিপ্লব তাকে আটক করে। পরে বিপ্লব সুমনের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। ঘটনার পর থেকেই এই চারজন পলাতক রয়েছে বলেও জানায় রীতা।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, এবিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি, মামলাও হয়নি। শুনেছি সুমন বিপ্লব নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে শুক্রবার রাতে মারামারি হয়েছে। আগুনে ঝলসে সুমন ডাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে সুমন মারা যাবার তথ্য এখনো পর্যন্ত (দুপুর ১টা) তিনি পাননি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর