Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

তালিবানের সাথে লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে আফগান সরকার

প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : এটা হচ্ছে উপলব্ধির যুদ্ধ যা আপনি বারবারই শুনছেন। উপলব্ধিটা হচ্ছে তালিবান জয়লাভ করছে মানে, তালিবান জয়ী হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগান সরকারকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে তালিবান জয়লাভ করছে।  
এ কথা যারা বলছেন তাদের কথায় কিছু যুক্তি আছে। কাবুলে সরকার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রায়ই কথাটা শোনা যায়, বিশেষ করে যারা বিজয়ী বিদ্রোহীদের পক্ষে রয়েছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সমর্থনের মাত্রা কমবেশী হয়ে থাকে।
ব্যাপকভাবে মনে হচ্ছে তালিবান জয়ী হচ্ছে। বিজয়ের পথে তারা অগ্রসর হচ্ছে যদিও তাদের গতি ধীর। মঙ্গলবার কাবুলে আত্মঘাতী ট্রাক বোমা বিস্ফোরণে কয়েক ডজন নারী ও শিশু নিহত হয়। সরকারের ভিআইপি বডিগার্ড সার্ভিসের উপর হামলার জন্য লক্ষ্যস্থলের পিছনে একটি পার্কিং লটে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রথমে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৮। বুধবারে সে সংখ্যা ৬৪-ত পৌঁছেছে। ২০০১ সালে তালিবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটাই কাবুলে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।  
হতাহতের অন্যান্য বিবরণ থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরো স্পষ্ট উপলব্ধি করা যাবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৫০০ সদস্য নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা দশ বছরে আফগানিস্তানে ন্যাটোর মোট নিহতের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশী। এছাড়া বেসামরিক নিহত লোকের সংখ্যা ৩৫০০। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী অধিকাংশই নিহত হয়েছে তালিবান হামলায়। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর দু’তৃতীয়াংশ সদস্য অনুপস্থিত। তারা মারা যায়নি, সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান। তারা আরো বলেন, ২০০১-এর চেয়ে অনেক বেশী এলাকা তালিবান নিয়ন্ত্রণে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আফগান নিরাপত্তা বাহিনী তালিবান ঠেকাতে অনেক বেশী সক্ষম বলে ২০১৪ সালে ন্যাটো অব্যাহত ভাবে সাংবাদিক, গোটা বিশ্ব ও আফগানদের যে আশ্বাস দিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে যে তা বেদনাদায়ক ভাবে অসত্য।
আফগান সরকারে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সাথে ক্ষমতা ভাগ করে নিয়েছেন। অনেকেরই যুক্তি যে এ জাতিগোষ্ঠিগত সংঘাত শুরু থেকেই রয়েছে। ন্যাটো সমর্থন কমে আসার সাথে সাথে আফগান অর্থনীতিতেও ধস নেমেছে। আর ন্যাটোর প্রত্যাহার মানে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পূর্ণ বিপর্যয়।
ব্যবস্থা নিলে হয়ত এসবের কিছু পরিহার করা যাবে, এর বেশীর ভাগটাই ঘটার সম্ভাবনা। পাশ্চাত্য ¯্রফে এখন অর্থায়ন বন্ধ ও যুদ্ধের ইচ্ছায় ইতি টানতে চাইছে, আফগানিস্তানকে ছেড়ে দিতে চাইছে নিজের ভাগ্যের উপর।
তাহলে থাকছে কী? যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান যে অভিন্ন কৌশল ও ধারণা পোষণ করে তা হল লড়াই সত্ত্বেও তালিবানের সাথে একটি সমঝোতার আলোচনা। গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এটা চেয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে অর্জিত সাফল্যের প্রেক্ষিতে তালিবান এ ধরনের কোনো আলোচনায় না বসার তাদের বর্তমান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক বলে মনে হয় না। আল কায়েদার সাথে তাদের সম্পর্ক,  যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান যাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী বলে,  কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সহায়ক হবে বলে মনে হয় না।
মঙ্গলবারের হামলার পর আফগান ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে তালিবানরা যুদ্ধক্ষেত্রে আফগান সেনাবাহিনীকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে দুর্বল স্থানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে এবং তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। চার বছর আগেও এ কথা তারা শুনিয়েছিল যখন এটা সত্য ছিল যে তালিবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বিমান শক্তি আফগান সেনাবাহিনীকে প্রাধান্য এনে দিয়েছিল। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে এবং ঐ কথা আর এখন কার্যকর নয়।
যা সত্য তা স্বীকার করে নিতে হবে। তালিবানের সাথে কাবুল সরকার যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে ধারণা করা হচ্ছে, জয়ী হচ্ছে তালিবান, যদিও সরকার তা স্বীকার করে না। কিন্তু আফগান সরকারের সামনে কমই বিকল্প আছে। সূত্র সিএনএন।     



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন