Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কাস্টমসে চালু হচ্ছে ই-অকশন

সব নিলাম হবে অনলাইনে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

দেশের সব কাস্টম হাউসের নিলাম কার্যক্রম অনলাইনে নিয়ে আসতে ই-অকশন সফটওয়্যার চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঢাকায় আগামী বৃহস্পতিবার এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করবে সংস্থাটি। একইসঙ্গে কাস্টমস-সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য সহজলভ্য করতে ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্ট (এনইপি) ও শুল্ক ফাঁকির তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা হট লাইনেরও উদ্বোধন করতে যাচ্ছে এনবিআর।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, কাস্টমসের আধুনিকায়নের আওতায় নতুন তিনটি সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। বাণিজ্য পদ্ধতি সহজীকরণ, আমদানি-রফতানির ব্যয় কমানো, নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণের লক্ষ্যে এসব সফটওয়্যার চালু করা হচ্ছে। নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে আনলে এ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি কাস্টমসের পণ্যজটের সমাধান হবে। আর হট লাইন ও এনইপি চালুর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সেবাপ্রাপ্তি অনেক বেশি সহজতর হবে।
এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন) রিয়াদুল ইসলাম বলেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা পণ্য আটকের পর তা নিলামে তোলার জন্য কাস্টমস আইনে একটি নীতিমালা রয়েছে। তবে আটককৃত পণ্য নিলামে তোলার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়াসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় ব্যয় হয়। অনলাইন সফটওয়্যার চালু হলে পণ্যের তালিকা ও দরপত্রের সবকিছুই অনলাইনে থাকবে। দরপত্র আহ্বানকারীরা কাস্টমস অফিসে না এসেই আবেদন করতে পারবেন। এরপর অনলাইনের মাধ্যমেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। অন্য দুটি সফটওয়্যার আমদানি-রফতানিকারক ও যাত্রীদের তথ্য প্রাপ্তি এবং রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এর উদ্বোধন করবেন। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের আর্থিক সহায়তায় এ তিনটি সফটওয়্যার স্থাপন করছে এনবিআরের কাস্টমস আধুনিকায়ন বিভাগ। ই-অকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে দরপত্র জমা দেওয়াসহ পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। যেকোনো কাস্টম হাউজের দরপত্র কাস্টমসের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হবে। অন্যদিকে এনইপি চালুর মাধ্যমে প্রতিটি কাস্টমস অফিসে একটি তথ্য পয়েন্ট বসানো হবে।
আমদানি-রফতানিকারক ও বিদেশগামী যাত্রীসহ যেকোনো করদাতা কাস্টমস অফিসে গিয়ে যেকোনো তথ্য জানতে পারবেন। ব্যাগেজ রুলসের আওতায় একজন ব্যক্তি কী পরিমাণ জিনিসপত্র আনতে পারবেন তা জানতে পারবেন এ তথ্য পয়েন্ট থেকে। পাশাপাশি কাস্টমসের ক্লিয়ারেন্স, আমদানিযোগ্য পণ্য তালিকা, পণ্যের এইচএস কোড, আমদানি প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন তথ্যও জানা যাবে এ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে।
তৃতীয় সফটওয়্যার ‘হট লাইন ফর কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স’ মূলত কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সংগ্রহে চালু করতে যাচ্ছে এনবিআর। এ সফটওয়্যার চালু হলে কাস্টমসের যেকোনো অনিয়মের তথ্য এনবিআরের কর্মকর্তাদের জানাতে পারবেন যে কেউ। গোয়েন্দাদের হট লাইনে রাজস্ব ফাঁকি-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যে কেউ অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। কোনো ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো চোরাচালানির তথ্যও দিতে পারবেন। পরে কাস্টমস কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে অভিযান পরিচালনা করবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ