Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

নতুন এমডির খোঁজে বেসিক ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

নতুন এমডির (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) খোঁজে নেমেছে বেসিক ব্যাংক। দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত এই ব্যাংকটির এমডি মুহাম্মদ আউয়াল খান গত ১৪ আগস্ট এই পদ থেকে ইস্তাফা দেন। এর পর থেকে বেসিক ব্যাংকের এমডি পদটি খালি রয়েছে। আউয়াল খান তিন মাসের সময় দিয়ে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে তিনি ১৬ আগস্টের পর আর অফিস করছেন না। তার পদত্যাগপত্র গত ৩০ আগস্ট বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে উত্থাপন করা হয়। কিন্তু পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ না করে বলা হয়, নতুন এমডি নিয়োগ দেয়ার সাথে সাথে তার পদত্যাগপত্রটি গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে।
জানা গেছে, বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বেসিক ব্যাংকের এমডি পদে যোগদানের জন্য আগ্রহী কাউকে পাওয়া যায়নি। দুই-একজনের সাথে এ বিষয়ে কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু তারা এই পরিস্থিতিতে এই দায়িত্ব পালন করতে রাজি নয়। তবে নতুন এমডি নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা চালিয়া যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হতে পারে।
এ দিকে আলোচিত বেসিক ব্যাংকের এমডির পদত্যাগের বিষয়ে এই ব্যাংকে নানা কথা চালু রয়েছে। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঋণ অনুমোদন ও কিছু ঋণ পুনঃতফসিলের মতো ব্যাংক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পেরে আউয়াল খান পদত্যাগ করেছেন। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সুদহার কমে যাওয়া, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছর বেসিক ব্যাংক ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা লোকসান করবে- এমন পরিস্থিতি বুঝেই সমালোচনা এড়াতে তিনি আগেভাগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন।
আউয়াল খান এর আগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকেরও এমডি ছিলেন।
মুহাম্মদ আউয়াল খান ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে তিন বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেয়। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত চার বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের লোকসান হয়েছে দুই হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ৬৮ শাখার মধ্যে ২১টি শাখাই লোকসান গুনছে। বর্তমানে ব্যাংকটির দেয়া ঋণের ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি। এখন তাদের মোট খেলাপি ঋণ আট হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা।
সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্ত এরপর যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু নিয়োগ দেয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে। চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে যায় অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ সেই ঋণ অনুমোদন করেছে।
৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পরিষদ এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় না। পরিষদেরর ১১টি সভায় ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যার বেশির ভাগ ঋণই গুরুতর অনিয়ম সংঘটনের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ বা আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর