Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

রেমিট্যান্সে ধীরগতি

আগস্টে এসেছে ১৪১ কোটি ডলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ঈদের পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ১৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়ে গত অর্থবছর শেষ হলেও চলতি অর্থবছরে সেটা ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোরবানির ঈদের ছুটির আগে বেশ ভালোই রেমিট্যান্স এসেছিল। কিন্তু ঈদের কয়েক দিনের ছুটি এবং ঈদ শেষে মাসের বাকি দিনগুলোতে তেমন রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা।
সে কারণে আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে রেমিট্যান্স প্রায় আট শতাংশ বেড়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার রেমিট্যান্স সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের অগাস্ট মাসের চেয়ে দশমিক ৫৩ শতাংশ কম। তবে অর্থবছরের প্রথম মাসের চেয়ে অর্থাৎ জুলাই মাসের চেয়ে সাত দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে ২৭২ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সাত দশমিক সাত শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল বাংলাদেশে।
গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় ‘সুখবর’ নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন অর্থবছর। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ (১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের একই মাসের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের খরা কাটিয়ে ১৭ দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে গত অর্থবছর শেষ করে বাংলাদেশ।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্সের নিম্নগতি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল। রেমিট্যান্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্ত এখন পর্যন্ত মাশুল কমানোর অর্থমন্ত্রীর সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থবছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও সেটা ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় আছে।
আমার বিশ্লেষণ হচ্ছে, গত অর্থবছরের ইতিবাচক ধারা নাও থাকতে পারে। সে কারণে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে হলে যেসব ভাই-বোনদের আমরা বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছি তাদের অবশ্যই দক্ষ করে পাঠাতে হবে। আর আরেকটি হচ্ছে, তারা যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়া কম খরচে দ্রুত টাকা দেশে পাঠাতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ২২ আগস্ট কোরবানি ঈদের পর তেমন রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঈদ হয়েছিল। সে কারণে প্রবাসীরা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে আগস্ট মাসজুড়েই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ছিলেন। যার ফলে গত বছরের অগাস্ট মাসে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এবার ঈদ আগে হওয়ায় পরও প্রায় সমান রেমিট্যান্স এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে বাংলাদেশে অর্থনীতিতে।
বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বিদেশি মুদ্রা। বর্তমানে এক কোটির বেশি প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। দেশের রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ- সউদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে।
রেমিট্যান্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও রয়েছে সন্তোষজনক অবস্থায়। গত সোমবার দিন শেষে রিজার্ভে ছিল ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এদিকে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় গত কয়েক মাস ধরে ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে ডলারের চাহিদা কমে আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে কোন ডলার বিক্রি করেনি। চাহিদা বাড়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩০ কোটি ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) বিক্রি করে ১১ কোটি ডলার। গত সোমবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাস আগেও ডলারের দর একই ছিল। যদিও বাস্তবে ডলারের দাম আরও বেশি। অথচ এক বছর আগে এই দর ছিল ৮০ টাকা ৫৯ পয়সা। এ হিসাবে এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।