Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ভোলায় আ.লীগ সরব বিএনপি নীরব

ভোলা থেকে মো. জহিরুল হক | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ভোলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের ঈদে আ.লীগ প্রার্থীরা সরব থাকলেও বিএনপি নেতাদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তারা একে বারেই নিরব। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন।
ভোলা-১, ভোলায় ঈদ উপলক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ তোফায়েল আহমেদ এমপি। যিনি সকলের প্রিয় মানুষ। ঈদের পূর্ব থেকে গুইংগারহাটে এক জনসভার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। ঈদের পরেও তিনি ভোলায় বিভিন্ন জনসভা করে জেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলু, জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লবসহ নেতা কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের নিকট একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। এমনকি তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে তার বাসায় নির্বাচনী কার্যক্রমের বিষয়ে দফায় দফায় মিটিং করে দলীয় কর্মীদের নির্বাচন কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
এ আসনে বিএনপির কোন কার্যক্রমই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার না। অনেকে এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থকে মনে করলেও তাকেসহ কাউকেই এবার ঈদে দেখা যায়নি ভোলায়। অন্য দিকে বিএনপির জেলা কমিটির সভপতি আলমগীর হাজীসহ নেতৃবৃন্দেরও তেমন একটা তৎপরতা দেখা যায়নি।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) এর বর্তমান এমপি আলী আযম মুক্লু দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন জোরে সোরে। তিনি তার কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। সে হিসেবে তিনি এলাকায় অনেক সাড়া পাচ্ছেন বলে মনে করছেন ভোটারা। তিনি দল মতের উর্র্ধ্বে ওঠে কাজ করার চেষ্টা করছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
আ.লীগের মনোনয়ন দাবি করে ঈদে শোক দিবস উপলক্ষে গুইংগারহাট মসজিদে মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে দলীয় কাজ করেন মরহুম মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছেলে আশিকুর রহমান শান্ত। উল্লেখ তিনি ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোলা-২ আসনে নির্বাচন করে হেরে যান।
অন্যদিকে বিএনপির সাবেক এমপি আলহাজ হাফিজ ইব্রাহীমই এলাকার বিএনপির প্রার্থীই মনে করছেন অনেকে। কারণ তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন ভোলা জেলার সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে বলে তাকেই যোগ্য প্রার্থী মনে করছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া ছেলে বা স্ত্রীর নাম আলোচনায় থাকলেও তাদের কারোই দেখা যাচ্ছে না এলাকায়।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমুদ্দিন) এখানেও আ.লীগের সরব উপস্থিতি। এমপি আলহাজ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবারের ঈদে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষকে মধ্যাহ্নভোজন করিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে যাকে মানুষ মনে করছেন তিনি হলেন সাবেক বাণিজ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি তো ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একদিনের জন্যও আসেননি। তার তো এলাকায় তেমন একটা তৎপরতা দেখা যায় না। কোনো ঈদ-পার্বণেও তাকে এলাকায় দেখা যায় না। এ আসনে অন্য কোনো প্রার্থীর তেমন কোনো দলীয় কার্যক্রম দেখা যায় না।
ভোলা-৪ (চরফ্যাসন-মনপুরা) এ আসনে বর্তমান জলবায়ু, পরিবেশ ও বন মন্ত্রনায়ের উপ-মন্ত্রী আলহাজ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি। তিনি হলেন উন্নয়নের আইকন। সে সব উন্নয়নের কাজকে সামনে রেখেই তিনি আগামী নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এবারের ঈদে তিনি টানা ১০ থেকে ১২ দিন এলাকায় থেকে দলীয় কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কাজ করেছেন জোড়ে শোরে।
অন্যদিকে এ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম ২০০৮ এর নির্বাচনের পরে কয়েকবার এসে সরকার দলীয় প্রতিরোধের মুখে পরেন। তাই তিনি এলাকায় আসেন না বলে জানান তারা। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নাম শোনা গেলেও কারোই এলাকায় কোন সরব উপস্থিতি বা কোন দলীয় কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকার দলীয়দের দাবি বিএনপির বিগত দিনের কৃতকর্মের কারণে তারা এলাকায় দলীয় কাজ করতে পারছে না। অন্যদিকে বিএনপির দাবি তাদের উপর বিভিন্ন মিথ্যা মামলা হামলা করে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের কোনো দলীয় কার্যক্রম করতে দিচ্ছে না সরকারি দল। যা সম্পূর্ণ গণতন্ত্রের পরিপন্থী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর