Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ট্রাম্পের ফিলিস্তিন বিরোধী নীতিতে ইসরায়েলেরও ক্ষতি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৯:৪২ পিএম | আপডেট : ১২:০৮ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি, বা আনরওয়া, প্রায় সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করেছে। কিন্তু গত শুক্রবার, ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছে যে, তারা এই ইউএন এজেন্সিকে অর্থায়ন বন্ধ করবে, যা ১৯৪৯ সালে চালু করা হয়েছিল ৭,০০,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনির জন্য যারা বিতাড়িত হয়েছে অথবা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল তাদের বাড়ি থেকে যা এখন ইসরায়েলের দখলে। বর্তমানে জর্ডান, সিরিয়া ও লেবানন-এর আশ্রয় শিবিরগুলোতে ৫০ লাখেরও বেশী ফিলিস্তিনি শরনার্থী রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সহ অনেক নেতৃস্থানীয় ইসরায়েলি রাজনীতিবিদরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এদিকে, আনরওয়া এর কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে বলেন যে, অর্থপূর্ণ শান্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মিশনটি প্রয়োজনীয় এবং তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নর এবং আরব দেশগুলির কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
আনরওয়া এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপটি ফিলিস্তিনিদের জন্য ট্রাম্পের সর্বশেষ আঘাত। প্রথমে পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ, এরপর গত বছর ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়া, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প ফিলিস্তিনি জনগনের ন্যায্য দাবীর বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি, মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বধীন কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের দুরত্ব বাড়াচ্ছে, যিনি ইসরায়েলের সাথে শান্তি চুক্তির প্রধান আলোচক ছিলেন। যদিও ট্রাম্পের লেফটেন্যান্টরা দাবি করে যে, তারা একটি নতুন গ্র্যান্ড চুক্তির পথ তৈরি করছে কিন্তু এটি এখন স্পষ্ট যে হোয়াইট হাউস, নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের সাথে মতাদর্শগত বন্ধনে রয়েছে, যেখানে তারা খোলাখুলিভাবে দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনিদের কখনোই নিজস্ব রাষ্ট্র হবে না।
ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের মহাসচিব সেয়ে ইরেকাত বলেন, “ট্রাম্পের আচরন আমাদেরকে এমন অবস্থানের দিকে নিয়ে গেছে যেখানে আর হারানোর কিছুই নেই। কেন আমরা তাদের সাথে কথা বলবো? তারা নিজেদেরকে শান্তি রক্ষায় অযোগ্য প্রমান করেছে বং শান্তির সব সম্ভাবনা ধ্বংস করেছে।”
জাতিসংঘের মিশনে সহায়তা বন্ধ করাটা এর উপর নির্ভরশীল ফিলিস্তিনিদের জন্য সল্পমেয়াদে বিপজ্জনক ফলাফল বয়ে আনার সাথে এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের নিরাপত্তার অবনতি ঘটা ও মানবিক সংকটের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের অনেকেরই এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে ইসরায়েলের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি বিপদ রয়েছে। নেতানিয়াহু একটি আরও কঠোর জাতীয়তাবাদ গ্রহণ করেছেন, যা সংখ্যালঘু অধিকার ক্ষুন্ন করে এমন একটি বিতর্কিত জাতীয় পরিচয় আইন দ্বারা প্রণীত। তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামেও ক্রমশ গ্রহণ যোগ্যতা হারাচ্ছেন ফিলিস্তিনি জনগণের উপর তার সামরিক বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়ার কারনে। তিনি ফিলিস্তিনিদের সাথে শান্তিচুক্তি ভেঙ্গে ফেলার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি আরব দেশগুলি যেমন, মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন।
এই সব ঘটনায় নেতানিয়াহু ইসরায়েলি রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়েছেন, কিন্তু এটি দেশের বাইরে তার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। দুই রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানের কফিনে যেভাবে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু পেরেক ঠুকে চলেছেন তা আপাত দৃষ্টিতে বর্ণবাদ-যুগের দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনা করা যায়। বিভিন্ন দেশে সরকার ও কর্পোরেশনগুলির উপর চাপ বাড়ছে, ইসরায়েলকে বয়কট, বিভাজন ও নিষেধাজ্ঞার জন্য যতদিন তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর তাদের দখলদারিত্ব না ছাড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলের জন্য দ্বিপাক্ষিক সমর্থন ও নেতানিয়াহু এর ডানপন্থী অবস্থান দেশটিকে আরও ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু এই বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে চিন্তিত বলে মনে হয় না। গত সপ্তাহে একটি ভাষণে নেতানিয়াহু তার দেশের উদারনৈতিক মূল্যবোধগুলো এড়িয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে দুর্বলদের জন্য কোন স্থান নেই।” এর ফলে ফিলিস্তিনি উগ্রবাদীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে যারা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দাবী আদায়ে বেশী আগ্রহী। সূত্র-ওয়াশিংটন পোস্ট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ