Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ক্লাব ফুটবলেই বেশি স্বাচ্ছন্দ

প্রকাশের সময় : ২৩ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আর্জেন্টিনার হয়ে অলিম্পিক ফুটবলে সোনা জিতিয়েছেন মেসি। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে এখনও কোনো শিরোপার দেখা পাননি তিনি। গত বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়াই জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা সাফল্য। গত বছরের কোপা আমেরিকাতেও রানার্সআপ হয় তার দল।
২০১২ সালই এখন পর্যন্ত সেরা সময়
২০১২ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৯১ গোল করেন মেসি। অন্য বছরগুলোয় এর ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি।
সাল গোল
২০০৫ ৩
২০০৬ ১২
২০০৭ ৩১
২০০৮ ২২
২০০৯ ৪১
২০১০ ৬০
২০১১ ৫৯
২০১২ ৯১
২০১৩ ৪৫
২০১৪ ৫৮
২০১৫ ৫২
২০১৬ ২৬*


গোলে সহায়তাকারীরা
জাভি হার্নান্দেস আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সঙ্গে দারুণ সমন্বয় মেসির। তবে তাদের চেয়ে মেসিকে গোলে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন দানি আলভেজ (৪২টি)। ৩৩ ও ৩১ টি করে সহায়তা করেন যথাক্রমে ইনিয়েস্তা ও জাভি।

সহায়তাকারী সংখ্যা
দানি আলভেস ৪২
আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ৩৩
জাভি হার্নন্দেস ৩১
পেদ্রো রদ্রিগুয়েজ ২৫
লুইস সুয়ারেস ১৬
সেস ফাব্রিগাস ১৫
নেইমার ১৪

হ্যাটট্রিক হিরো
মেসি ক্যারিয়ারে ৩৮টি ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করেন। ২০১২ সালে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৭-১ গোলের জয়ের ম্যাচে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে ৫ গোল করার কীর্তি গড়েন মেসি। এছাড়া জোড়া গোল করেন ৯৮টি ম্যাচে। চার গোল করেন ৪ বার।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গোল
বেশি ম্যাচ খেলার সুবাদে স্বাভবতই মেসির সবচেয়ে বেশি গোল লা লিগায়। ৩০৯ গোল করে স্পেনের শীর্ষ লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। এছাড়া শীর্ষ ইউরোপিয়ান ফুটবল প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার গোলসংখ্যা ৮৩টি। তিনটি বিশ্বকাপ খেলে তার গোল ৫টি। রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে সংখ্যাটা নিশ্চয়ই বাড়িয়ে নিতে উন্মুখ থাকবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

প্রতিযোগিতা গোল
লা লিগা ৩০৯
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ৮৩
কোপা দেল রে ৩৯
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ২৭
বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ১৫
স্প্যানিশ সুপার কাপ ১১
বিশ্বকাপ ৫
ক্লাব বিশ্বকাপ ৫
কোপা আমেরিকা ৩
ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ৩

প্রিয় প্রতিপক্ষ
মেসি তার ৫০০টি গোল করেছেন ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন দলের বিপক্ষে। তবে এই দলগুলোর মধ্যে মেসি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন আতলেতিকো মাদ্রিদ আর সেভিয়ার বিপক্ষে। এই দুই ক্লাবের বিপক্ষে ২৫টি করেগোল করেছেন তিনি। এর পর সবচেয়ে বেশি গোল মেসির বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে (২১টি)।
প্রতিপক্ষ গোল
আতলেতিকো মাদ্রিদ ২৫
সেভিয়া ২৫
রিয়াল মাদ্রিদ ২১
ভালেন্সিয়া ২০
ওসাসুনা ১৯
আথলেতিক বিলবাও ১৯
গেতাফে ১৮
আতলেতিকো মাদ্রিদ ২৫
সেভিয়া ২৫
রিয়াল মাদ্রিদ ২১
ভালেন্সিয়া ২০
ওসাসুনা ১৯
আথলেতিক বিলবাও ১৯
গেতাফে ১৮
আতলেতিকো মাদ্রিদ ২৫
সেভিয়া ২৫
রিয়াল মাদ্রিদ ২১
ভালেন্সিয়া ২০
ওসাসুনা ১৯
আথলেতিক বিলবাও ১৯
গেতাফে ১৮

টানা ৮ মৌসুম চল্লিশোর্ধো গোল
চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা ৪২টি। এ নিয়ে টানা ৮ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে ৪০ বা তার বেশি গোল করেন মেসি। সবশেষ তিনি এক মৌসুমে ৪০ গোল করতে ব্যর্থ হন ২০০৭-০৮ মৌসুমে। সেবার ২১ গোল করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ২০১১-১২ মৌসুমে করেছিলেন সর্বোচ্চ ৮২টি গোল।

মৌসুম গোল
২০০৪-০৫ ১
২০০৫-০৬ ১০
২০০৬-০৭ ১৯
২০০৭-০৮ ২১
২০০৮-০৯ ৪১
২০০৯-১০ ৪৮
২০১০-১১ ৫৭
২০১১-১২ ৮২
২০১২-১৩ ৬৯
২০১৩-১৪ ৪৮
২০১৪-১৫ ৬২
২০১৫-১৬ ৪২*


বাঁ পায়ের ভেলকি
জাদুকরী বাঁ পা দিয়েই বেশি গোল করেছেন মেসি। মোট গোলের যা ৮১ শতাংশ। বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় তিনি গোল করেছেন ৪০৬টি,
ডান পায়ের গোল ৭১টি, হেড থেকে করেছেন ২১টি গোল। এছাড়া শরীরের অন্য অংশ দিয়ে ২টি গোল করেছেন ফুটবল জাদুকর।

বাঁ পায়ে : ৪০৬ গোল
ডান পায়ে : ৭১ গোল
হেড থেকে : ২১ গোল
শরীরের অন্য অংশ দিয়ে : ২ গোল

কখন করেন গোল
মাঠে তিনি লড়ার সময় পান ৯০ মিনিট। কিন্তু কোন সময়ে তার পা থেকে আসে বেশি গোল? ৫০০ গোলের মধ্যে প্রথম ১৫ মিনিটে আসে ৫০টি। তবে ম্যাচের সময় গড়ানোর সাথে সাথে বিশেষ করে শেষ দিকে তার গোলের সংখ্যা বিস্ময়কর। বার্সেলোনার এই তারকা ফরোয়ার্ডের মোট গোলের ২৫ শতাংশের বেশি এসেছে ৭৬তম মিনিটের পর।
১ থেকে ১৫ মিনিট : ৫০ গোল
১৬ থেকে ৩০ মিনিট : ৭৯ গোল
৩১ থেকে ৪৫ মিনিট : ৯২ গোল
৪৬ থেকে ৬০ মিনিট : ৭০ গোল
৬১ থেকে ৭৫ মিনিট : ৭৯ গোল
৭৬ থেকে ৯০ মিনিট : ১২৯ গোল
অতিরিক্ত সময়ে : ১ গোল

অপরাজিত
৫০০

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের
জয়ে পেনাল্টি থেকে ক্যারিয়ারের ৪৯৯তম গোল
করেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের জার্সি
গায়েযা ছিল তার ৫০তম গোল।

ইমামুল হাবীব বাপ্পি

২০০৫ সালে আলবাতাসের বিপক্ষে করা লিওনেল মেসির প্রথম গোলটির কথা কি মনে আছে? না থাকারই কথা। শুধু আপনি কেন, অধিকাংশেরই মনে থাকার কথা না। এবার যদি বলি গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের কথা? যে ম্যাচে রক্ষনের একাধিক খেলোয়াড়কে নাকানি-চুপানি খাওয়ানোর পর বিশ্বের সেরা গোলরক্ষককেও নিপুন দক্ষতায় পরাস্থ করেছিলেন মেসি? এখন নিশ্চই বলবে ‘হ্যাঁ’। আসলে সেদিনের ১৭ বছর বয়সীকে ক’জনাই বা চিনত। আর চিনলেও কেই কি জানত সেই ছোট্ট বালকটিই একদিন ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে বেড়াবে। জানলে নিশ্চয় ঐ একটি গোলের সাক্ষি হতে ব্যাকুল তাকত পৃথিবীর কোটি ফুটবল প্রেমীর মন। সেদিনের পর থেকে এ পর্যন্ত ( ২১/০৪/২০১৬), এই ১১ বছরেরও কম সময়ের যাত্রায় ক্যারিয়ারে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন আর্জেন্টিনার এই তারকা ফরোয়ার্ড। ক্লাব আর জাতীয় দলের হয়ে স্পর্শ করলেন ৫০০ গোলের মাইলফলক। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে পেনাল্টি থেকে ক্যারিয়ারের ৪৯৯তম গোল করেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যা ছিল তার ৫০তম গোল। এরপর ৫০০তম গোলের মহেন্দ্রক্ষণের জন্য মাঝখানে তাকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ৫১৫ মিনিট। গোল ক্ষরার বিবেচনায় যা ছিল তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময়। অবশেষে লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে সেই জাদুকরি সংখ্যা স্পর্শ করলেন সময়ের সেরা এই খেলোয়াড়। এজন্য তাকে মাঠে নামতে হয়েছে মোট ৬৩৩বার। এর মধ্যে ৪৫০টি গোল করেন তার ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে, বাকি ৫০টি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে। মেসির এত এত গোলের প্রসংগ আসলেই চলে আসে ব্যক্তিগতভাবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। রিয়াল তারকার গোল মেসির চেয়ে ১৩২টি বেশি। এজন্য তিনি ম্যাচ বেশি খেলেছেন ১৩৯ টি। মোট ৭৯২ ম্যাচে পর্তুগীজ তারকার গোল ৬৩২টি। দু’জনের মিলিত গোলসংখ্যা ১০৩৯টি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।