Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা : এমপি রানাকে আদালতে হাজির পরবর্তী

পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ সেপ্টেম্বর

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:৩২ পিএম

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় আসামী এমপি রানাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সোয়া এগারোটায় টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
পাশাপাশি এমপি রানার জামিনের বিষয়ে আজ আদেশ দেয়ার কথা থাকলেও, সেটি আজ বিকেল চারটায় জানানোর সময় নির্ধারণ করেছে আদালত। এর আগে গত ৮ আগস্ট আসামীপক্ষের জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি হয়। সে শুনানিতে আজ জামিন বিষয়ে আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেছিলো আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন, তারা বলেন এই পর্যায়ে আসামী জামিন দেয়া হলে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যাহত হবে। পরে এমপি রানা আদালতের অনুমতি নিয়ে আদালতে বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দেশ দুই বছর ধরে স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জেল হাজতে আটক রয়েছি। যে কোন শর্তে আদালতের কাছে তিনি জামিনের প্রার্থনা করেন।
এদিকে জামিনের আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে আজ সকাল থেকেই পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করে। আদালত চত্বর ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেলা ১১ টার দিকে আসামীপক্ষের সমর্থকরা শহরের শামসুল হক তোরণ এলাকায় অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় এক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার বিচার দাবিতে আদালত চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় আমানুর ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
এর আগে দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তারপর থেকে প্রায় ২ বছর ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ আছেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকারদলীয় এই সাংসদ। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ