Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ইদলিবে অভিযান শুরু, নিহত ১০

ইদলিব অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটি ইদলিবে বিমান হামলা শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অনুগত বাহিনী ও তার মিত্র রাশিয়া। শুক্রবার ইরানে আসাদের এই অভিযান নিয়ে আলোচনায় বসার কথা ছিলো রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের। তবে তার আগেই মঙ্গলবার রাশিয়া হামলা শুরু করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার থেকে অন্তত ২৪টি হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় এই হামলা শেষ হয়। ইদলিবের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিস আল শুগরেই মূলত এই হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এর চারপাশে থাকা ছোট শহর ও গ্রামগুলোও। হোয়াইট হেলমেটস নামে খ্যাত সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানায়, বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। অন্যা সূত্রগুলো জানায় নিহতের সংখ্যা ১৭। এদিকে, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সে ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, ইদলিবে অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসীরা এবং সেখানে অভিযান অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প সোমবার ইদলিব প্রদেশে অভিযান চালানোর ব্যাপারে সিরিয়ার পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ইদলিবে যেন বেপরোয়া অভিযান চালানো না হয়। তিনি এক টুইটার বার্তায় দাবি করেন, ইদলিবে সেনা অভিযান চালালে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। ট্রাম্প তার ভাষায় এই বড় ভুলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে ইরান ও রাশিয়ার প্রতি আহŸান জানান। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যে সন্ত্রাসবাদ গোটা সিরিয়া পরিস্থিতিকে হুমকিগ্রস্ত করছে তার কথা বিবেচনা না করে নিছক সতর্কবার্তা উচ্চারণ যথার্থ নয়। ট্রাম্প সার্বিক পরিস্থিতি বিচার না করেই এ বক্তব্য দিয়েছেন। সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে নিজেদের জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে বেশ কয়েকটি উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। আসন্ন ইদলিব অভিযানের বদনাম করে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক আগ্রাসন চালানোর অজুহাত সৃষ্টি করার জন্য ওই প্রদেশে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে রাসায়নিক হামলা চালানো হতে পারে বলে রাশিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহীদের দমন করতে পারলেও ইদলিবে এখনও বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের শেষ বড় ধরনের লড়াই হবে এখানেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ইদলিবে এখনও ১০ হাজার আল-নসুরা ও আল-কায়েদা সদস্য অবস্থান করছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ইদলিবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প টুইটারে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, এই বেপরোয়া অভিযান হবে বড় ধরনের মানবিক ভুল এবং এই অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, ইদলিবে আসাদ, রাশিয়া ও ইরানের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছিলো ইদলিবে হামলা চালালে সেখানে ‘রক্তবন্যা’ হয়ে যেতে পারে। আরটি, বিবিসি, রয়টার্স।

 



 

Show all comments
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭:০১ পিএম says : 0
    সাধারণত জনগণ সাথে কম হতাহত হয় সেই হিসাবে হামলা চালাতে হবে. ঐ সমস্ত সনএাসৗদের কে আশ্রয় প্রশয় এবং লালন পালন করে আসছে আমেরিকা এবং ইসরায়েল কাজেই এর জন্য সনএাসৗ রাষ্ট্র আমেরিকা এবং ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল কে চড়া মুল দিতে হবে.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর