Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

হাসপাতালে ফেলে যাওয়া নবজাতকের মা-বাবার সন্ধান

মুন্সী কাামল আতাতুর্ক মিসেল, হাজীগঞ্জ থেকে ফিরে : | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৫ এএম


কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অসুস্থ নবজাতককে চিকিৎসা দিতে গিয়ে মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছিল এক দম্পতি। ফলে গা ঢাকা দিয়েছিল দরিদ্র ওই দম্পতি। কিন্তু এই নিয়ে হইচই পড়লে শেষ পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বালিকা ইউনিয়নের ফুলছোঁয়া গ্রামে তাদের বাড়ি। এরা হচ্ছেন- দিনমজুর শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া নবজাতককে নিয়ে কুমিল্লা শহরের ঝাউতলা এলাকার কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইড হাসপাতাল নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে যান এই দম্পতি। পরে চিকিৎসা খরচ মোটা অঙ্কের হওয়ায় তারা নবজাতককে রেখেই গা ঢাকা দেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমানসহ নবজাতক শিশুর মা রোকেয়া বেগমকে সাথে নিয়ে কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইড হাসপাতাল যান শিশুটি দেখতে। এ সময় কুমিল্লা পুলিশ সুপার নবজাতক শিশুটির নাম দিলেন ”দৃষ্টান্ত”। ঘোষণা এলো শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। সন্তানকে দেখে মা রোকেয়ার আনন্দে তখন ঠোট কেঁপে বলছিল, আগের দুটি সন্তানকে বুকে নিতে পারিনি। কয়েকজনের কাছে ধার করে যে টাকা এনেছিলেন সেটাও শেষ। ৭ দিন পর এতো টাকা বিল কোথা থেকে দিব। স্বামী দিনমজুর। এরপর বুকে কষ্ট নিয়ে এখান থেকে চলে যাই। বাচ্চার বাবা বাড়ি গিয়ে কান্না করতে করতে কোথায় গেছে এখনও জানি না।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে হাজীগঞ্জের ফুলছোঁয়া গ্রামের খাঁ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের আনা গোনা। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে সামনে এগিয়ে আসেন হাসমতি বেগম, সাফিয়া বেগম ও বিলকিছ বেগমসহ আরও বেশ কয়েকজন নারী। তারা সবাই বলতে থাকেন, দ্যাননা স্যার, হোলাডারে আনি (ছেলেটাকে এনে দেন)। মা অসুস্থ শরীর লই কানতে কানতে বুক ভাসাই ফেলতেছে। বাপে কই গেছে কেউ জানে না। আন্নেরা একটা বিহিত করেন।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য সেবায় অনেকটা এগিয়ে গেলেও মানবিক দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসা সেবায় জড়িতদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আবু সাঈদ মো. তারেক জানান, শিশুটি আগের চেয়ে সুস্থ আছে।



 

Show all comments
  • jamal hossain ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:৩৯ পিএম says : 0
    Alhamdulillah very good
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর