Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কোন্দল-মামলায় আ.লীগ

ইয়াছিন রানা | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১:১৮ এএম

তৃণমূলের কোন্দল এবং বিভিন্ন সময় মারামারি-খুনোখুনির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জর্জরিত আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল, এমপি লীগের অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গত দশ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হত্যার শিকার হয়েছে হাজারের উপরে। আর নিজ দলের নেতাকর্মীদের নামে হয়েছে মামলার পাহাড়। ক্ষমতায় থাকতেই ঘরছাড়া তারা। এমপির অপশাসনকে আইয়্যামে জাহিলিয়াতের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেক কর্মী।
নির্বাচনের সময় মামলার আসামী নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। যারা জামিনে নেই তাদের গ্রেফতারও করা হবে। এতে দলের অনেক ক্ষতি হবে বলে ধারণা করছে নীতি-নির্ধারকরা।
সূত্র জানায়, কোন্দলে জর্জড়িত এ রকম আসনের সংখ্যা প্রায় ৭০টি। অন্য আসনগুলোতেও কোন্দল রয়েছে তবে সংঘর্ষের পরিমাণ কম। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় কম বেশি যেসব আসনে কোন্দল রয়েছে সেগুলোও প্রকাশ্য রুপ ধারণ করছে। অত্যাচারী এমপিদের বিরুদ্ধে সচ্চার হয়ে উঠছে এলাকার নেতাকর্মীরা। এমপিদের অবাঞ্চিত করার ঘটনাও ঘটছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের হাইকমান্ড যখন ভোট ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে গণসম্পৃক্ততামূলক কর্মকান্ডের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন বিনাভোটের নির্বাচিত কিছু এমপি অন্য দলের চেয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের শায়েস্তা করতে বেশি ব্যস্ত। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ৯ বছরে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়নগঞ্জ-১ রূপগঞ্জে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮০০। এই অভিযোগ আর কারও নয়, রূপগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়ার। গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কমপক্ষে ২৫ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা নেতারা। একইভাবে যশোরের এক উপজেলায় আওয়ামী লীগের শাসনকালে দলের ৪৫ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। নোয়াখালীর হাতিয়ায় খুন হয়েছেন ১১ জন নেতাকর্মী।
সাভারের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে এর আগে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্থানীয় এমপির অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেই আসছেন । কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতিকে ইয়াবা মামলায় জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সরকার দলীয় এমপি আলী আজগর টগরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অভিযোগ পাঠিয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নোয়াখালী-৬ হাতিয়ায় চলছে বর্তমান এমপি আয়েশা ফেরদাউসের স্বামী সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর শাসন। তার বিরুদ্ধে গেলে এলাকায় ঢুকতে বাধাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। মোহাম্মদ আলীর বাহিনীদের তান্ডবে গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাসহ অন্তত আওয়ামী লীগের ১১ নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন।
হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাইফ উদ্দিন আহমদ ইনকিলাবকে বলেন, ‘হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর শাসন খুলনার খুনি এরশাদ শিকদারকেও হার মানায়। তার অর্ডার ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। তার অন্যায়ের বিরোধিতা করলেই হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। দল মনোনীত ছয়জন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৮-১০টি করে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। এ উপজেলায় কমপক্ষে ২০০ দলীয় নেতা-কর্মী হুলিয়া নিয়ে ঘুরছেন।’ তিনি বলেন, আয়েশা ফেরদৌস এমপি হলেও মূলত মোহাম্মদ আলীই শাসন করেন এ এলাকায়।
জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক ও চরকিং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ, ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম রাজুসহ প্রতিটি আওয়ামী লীগের নেতার বিরুদ্ধে ২০-২৫টি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা নির্যাতিত হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মোহাম্মদ আলীর অনুমতি ছাড়া কোনো মামলা নেন না বলে অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের।
এদিকে ২৯ আগস্ট নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আলোচিত যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন আহম্মেদ, যুবলীগ কর্মী রিয়াজ উদ্দিন ও নুর আলম খুনের সহ ২৭ মামলার ১৫৭ জনের জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছেন বিজ্ঞ বিচারক। বাদীপক্ষের আইনজীবী হাতিয়া উপজেলার আদালতের এজিপি ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এই সন্ত্রাসীরা সবাই মোহাম্মদ আলীর ক্যাডার।
১৫৭জন আসামীদের মধ্যে সোনাদিয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত, তমরদ্দি ইউপির চেয়ারম্যান ফারুখ আহম্মেদ ফারুখ, জাহাজমারা ইউপির চেয়ারম্যান এডভোকেট মাছুম বিল্লা, পৌরসভার কমিশনার মোঃ শাহিন, আলী আফরোজ খান নহেল, বাবুর্চি বাহার, মোবাশ্বর, তমরদ্দি ইউপির সদস্য এমরান উদ্দিন, অপর আসামী কামরুল ইসলাম, মফিজুর রহমান, এনায়েত কাজী, দালাল শাহজাহান, আবদুর শহীদ, মাইন উদ্দিন, ফারুক, রিয়াজ, নুরুল করিম, নেছার উদ্দিন, আবদুল ওহাব, সামছুদ্দিন সহ ১৫৭ জন।
মামলা সূত্রে জানায়, মার্চে ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য উপজেলা ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন আহম্মেদকে রাতে আফাজিয়া বাজারে আসামীরা গুলি করে হত্যা করছে। আওয়ামী লীগ কর্মী নুর আলমকে ১৫ এপ্রিল ২০১৭ ওয়ারেন্ট আসামীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর হাতিয়ার এমপি আয়েশা ফেরদৌসের পালিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্রীজ বাজারের আবু তাহের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডার মিরাজ বাহিনীর প্রধান মিরাজ ডাকাত ও তার ৬ সদস্যসহ ৩টার সময় ৬টি দেশীয় অস্ত্র ৫টা রামদা এবং ১০পিস কার্টুজসহ গ্রেফতার করেছে কোস্টগার্ড হাতিয়া তমরুদ্দি স্টেশন।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সরকার দলীয় এমপি আলী আজগর টগরের বিরুদ্ধে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নালিশ দিয়েছেন তার নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তার বিরুদ্ধে গুরুতর তার পরিবারের সদস্যদের মাদক বাণিজ্যে, দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা করে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। এমপির দুই ভাই আলী মুনসুর বাবু ও আরিফ হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনে তাদের নাম আসায় বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এছাড়াও এমপি দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলেন। দলের প্রার্থী তার অনুসারী না হলেই তাকে পরাজিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থী দাড় করিয়েছেন। এলাকায় বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলেছেন। নির্বাচনী এলাকার সদরের তিতুদহ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান টিপু। এখানে বিএনপির প্রার্থী আকতারের পক্ষ নেন এমপি টগর। নাটুদা ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ছিলেন ইয়াসিন আলী, এখানে এমপির সমর্থন পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন আবদুল হাকিম। এখানে জামায়াত-বিএনপির প্রার্থী সফিকুল ইসলাম পাশ করেন। কারপাসডাঙ্গা ইউনিয়নে দীলয় প্রার্থী ছিলেন খলিলুর রহমান। তাকে হারাতে বিদ্রোহী পার্থী শহিদুল ইসলাম ও আবদুল করিম দুজনকেই সমর্থন দেন। এছাড়াও জীবননগর পৌরসভায় এমপির সমর্থিত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করা এবং খাস জমি দখলে প্রতিবাদ করায় খুন হন গঙ্গাদাসপুর গ্রামের আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী মোহাম্মদ আলী ও শাহাবুদ্দিন। খুনিরা এমপির লোক বলে অভিযোগ রয়েছে।
নারায়নগঞ্জ-১ আসনের সরকার দলীয় এমপি গোলাম দস্তগীরের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রুপগঞ্জের সন্তান হাফিজুর রহমান সজীব ইনকিলাবকে বলেন, এখানকার আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগে বসবাস করছি। গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মামলা-হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীরের অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বললেই তাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়। এ পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে হত্যা, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অসংখ্য মামলা করা হয়েছে এমপির নির্দেশে।
এদিকে নেত্রকোনায়-৫ আসনে চলছে এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের রাজত্ব। তার বিরুদ্ধে কথা বলে ঘরছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একেকজন নেতাকর্মীর নামে ২৫ থেকে ৩০টি মামলাসহ শতাধিক মামলা রয়েছে নিজ দলের কর্মীর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের সঙ্গে মনোনয়ন দ›েদ্ব প্রায়ই হচ্ছে মারামারি। মনোনয়ন প্রত্যাশী লন্ডন প্রবাশী ইঞ্জি. তুহিন আহমেদ খানের উপরও এমপির পালিত সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে বলে জানিয়েছেন তুহিন।
এছাড়া গত ১৫ আগস্ট নেত্রকোনার পূর্বধলায় পাশাপাশি সমাবেশ ডাকে এমপি ওয়ারেসাত ও আহমদ হোসেনের সমর্থকরা। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে এ দুই নেতার দ্ব›দ্ব থাকায় সমাবেশ ঘিরে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। তা সত্তে¡ও সেদিন ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং মঞ্চসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু উক্ত ঘটনায় কোন মামলাই হয় নি বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার ৪ সেপ্টেম্বর বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক বাণিজ্য ও অপরাজনীতির অভিযোগ এনে বরগুনা-১ আসনের এমপি, সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সব অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময়ে যশোর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, শরীয়তপুরে সবচেয়ে বেশি খুনের শিকার হয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পিরোজপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, নাটোর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ কমপক্ষে ৪০টি জেলায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন গত কয়েক বছরে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভিতরে থেকে দলের ক্ষতি সাধনকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বনাশ হবে আওয়ামী লীগকে দিয়েই।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩ মাস সময় বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। লাগাম টানতে হবে ওইসব এমপি-মন্ত্রীদের, যারা বিনাভোটে এমপি হয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়নেই বেশি মনোযোগী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, কোন্দল মোকাবেলায় কেন্দ্রের ১৫টি টিম কাজ করছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দলের একটি বড় টিম উত্তরাঞ্চল সফরে যাবেন। এ সফরে পাবনা, জয়পুরহাট, রংপুর, নীলফামারীতে জনসভা করা হবে। মূলত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী কাজ সেরে ফেলতে চায় আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া জেলা ও বিভাগীয় সমাবেশ করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য বলছি আমরা। আর যারা অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান ইনকিলাবকে বলেন, যারা অপকর্ম করছে তারা আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবে না তা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা অপরাধী তাদের কোন ছাড় নয়। যারা মামলার আসামী নিজ দলের হলেও তারা ছাড় পাবে না।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ