Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিরোধে বিভক্ত আওয়ামী লীগ

তৃণমূলের রাজনীতি : কুমিল্লা উত্তর

কুমিল্লা থেকে সাদিক মামুন | প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

রাজনীতিতে অগ্রসর জনপদ কুমিল্লা জেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর উপজেলা কেন্দ্রিক সাংগঠনিক অংশ দুইভাগে বিভক্ত। একটি উত্তর জেলা আরেকটি দক্ষিণ জেলা। এ বছরের ডিম্বেরেরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। কুমিল্লা উত্তরের বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের কোন্দল, কমিটি-পাল্টা কমিটি গঠনসহ দ্বিধাবিভক্তির প্রভাব তৃণমূলের রাজনীতিতে পড়েছে।
কুমিল্লা উত্তরের বড় উপজেলা মুরাদনগরে আ’লীগের সাংগঠনিক অবস্থা কোন্দলে বিপর্যস্ত। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বর্তমানে মুরাদনগরে উত্তর জেলা আ’লীগের অনুমোদিত একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি সৈয়দ আহমেদ হোসেন আউয়াল ও সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার। এটি উত্তর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি। আরেকটি কমিটি করেছেন স্থানীয় এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। এ কমিটিতে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদকে সভাপতি ও পার্থ সারথি দত্তকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর সরকার ও ইউসুফ হারুনের নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে মুরাদনগরে প্রতিটি ওয়ার্ডেও দুই নেতার গ্রুপিং দানা বেধেছে। ফলে মুরাদনগর আ’লীগে তৃণমূলের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
দাউদকান্দিতে আ’লীগের দুইটি গ্রুপ রয়েছে। সাংগঠনিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রুপ দুইটি পৃথকভাবে পালন করে থাকে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব রয়েছেন স্থানীয় এমপি সুবিদ আলী ভূইয়া। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ফুটবল তারকা বাদল রায়। দাউদকান্দিতে এ দুই গ্রুপেরই আলাদা কমিটি রয়েছে।
হোমনায় তিন ভাগে বিভক্ত ক্ষমতাসীন আ’লীগ। তার মধ্যে প্রধান ও বড় গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন হোমনা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ। অন্য দুইটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন আ’লীগ নেতা এনামুল হক ইমন ও নিটল টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমেদের স্ত্রী সেলিমা আহমেদ। হোমনা আ’লীগের নেতা-কর্মীরা তিনভাগে বিভক্ত থেকেই দলীয় কর্মসূচি ও স্থানীয়ভাবে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন।
মেঘনা উপজেলা আ’লীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অনেকটাই বিপর্যস্ত। এখানে আ’লীগের দুইটি গ্রুপই সক্রিয়। মেঘনা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রতন শিকদারের নেতৃত্বে চলছে এক গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম। আর মেঘনা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সালামের নেতৃত্ব অপর গ্রুপ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। নেতৃত্বের কোন্দলের প্রভাব ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃণমূলেও প্রভাব ফেলেছে।
তিতাস উপজেলা আ’লীগের কোন্দলের ধরণ অন্যসব উপজেলা থেকে অনেকটা ভিন্ন। এখানে একই দলের নেতা হটাও দ্ব›দ্ব বিদ্যমান। তিতাস উপজেলা আ’লীগের একাংশের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার ও আরেক অংশের সভাপতি শওকত আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মহসীন ভূইয়ার মধ্যে দ্ব›দ্ব, গ্রুপিং বর্তমানে না থাকলেও দলের আরেকটি গ্রুপ পারভেজ সরকারকে তিতাস থেকে হটাতে ব্যস্ত। অথচ দলের অন্যতম সহায়ক শক্তি উপজেলা ছাত্রলীগ পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন পারভেজ সরকার।
চান্দিনা উপজেলায় আ’লীগের দুই নেতার গ্রুপিংয়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে তৃণমূলের রাজনীতি। চান্দিনা আসনের এমপি ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের দ্বদ্বে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা।
দেবিদ্বার উপজেলায় আ’লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চারভাগে বিভক্ত হয়ে চলছে। স্থানীয় এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মুন্সি, কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সহসভাপতি সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক এম হুমায়ুন মাহমুদ ও আরেক যুগ্ম সম্পাদক রওশন আলী মাষ্টারকে ঘিরে দেবিদ্বার আ’লীগে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চলে আসছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নতুন কমিটিও হচ্ছেনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ