Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

প্রতি মুহূর্তে সংগ্রাম করছে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা গণহত্যা-নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের এখতিয়ার আছে আইসিসির

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

মিয়ানমারে এখনও স্বল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা কোনোমতে টিকে থাকলেও বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকে প্রতি মুহূর্তে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অনেকের মধ্যে এরকম একজন হলেন ব্রাইটস ইসলাম। গত ৬ বছর ধরে তিনি সপরিবারে সিতওয়েস্থিত নিজ বাড়ি ছেড়ে ভাসমান অবস্থায় রয়েছেন। সেসময় সেনাবাহিনীর চালানো হামলায় প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এদের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান। যারা পালাতে পারেননি তারা ছোটছোট শিবিরে বাস করছেন। এই ব্যাপারে ব্রাইটস ইসলাম বলেন, ২০১২ সালে আমাদের নিজেদের বাড়িঘর ছিলো। আর এখন খুব খারাপ অবস্থায় আমাদের এসব শিবিরে বসবাস করতে হচ্ছে। ২০১২ সালের এই হামলার পর ২০১৭ সালে আরো বড় পরিসরে রোহিঙ্গাদের উপর হামলা চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এই হামলার পর সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। তখন যেসব রোহিঙ্গা পালায়নি তারাও এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ দেবার চেষ্টা করা হলেও মিয়ানমারে সে সুযোগ নেই। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা সরকারি শিবিরে এক ঘরে অনেকগুলো পরিবার গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। মিয়ানমারে জাতিসংঘ কার্যালয়ের মুখপাত্র পিয়েরে পেরন বলেন, ‘এই স¤প্রদায়ের শিশুরা সরকারি স্কুলে যেতে পারে না। কৃষকদের নিজের জমিতেই প্রবেশ করতে দেয়া হয় না, জেলেরা আগের মতো করে মাছ ধরতে পারে না, ব্যবসায়ীদের বাজারে যেতে দেয়া হয় না, এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিরা হাসপাতালে যেতে পারে না। অপর এক খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোর করে পাঠিয়ে দেয়া এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার কর্তৃত্ব আদালতের রয়েছে। নেদারল্যান্ডস-এর দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তাদের এ রায় দিয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজন একমত পোষণ করলেও একজন ভিন্নমত দেখিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, রোহিঙ্গাদের যেভাবে মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে সেটির তদন্ত করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে কি না। সে প্রেক্ষাপটে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার রায় দিয়েছে যে, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে অন্যদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ সেখানে সংঘটিত হয়েছে। ফলে আইসিসি মনে করেছে রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে আদালত জানিয়েছে যে এ ধরণের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। ইউএসনিউজ, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ