Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

হামলা-মামলায় অসহায় বিএনপি

তৃণমূলের রাজনীতি : কুমিল্লা উত্তর

কুমিল্লা থেকে সাদিক মামুন | প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

কুমিল্লা উত্তররের সাতটি উপজেলায় রাজপথের বিরোধীদল বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা থাকা সত্তে¡ও ক্ষমতাসীন দলের হামলা ও পুলিশের মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক ভর করেছে নেতাকর্মীদের ওপর। এবছরের ডিম্বেরেরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এসময়টিতে কুমিল্লা উত্তরের কিছু কিছু উপজেলায় সাংগঠনিক বিরোধ চলছে। আবার কোথাও সাংগঠনিক অবস্থা গোছানো থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে দলের অসহায়ত্ব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপিতে কোন্দল গ্রুপিং না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের হামলা, মামলা ও পুলিশের মারমুখি আচরণ এবং গ্রেফতার আতঙ্কে মাঠের রাজনীতিতে পা রেখেও টিকে থাকতে পারছে না নেতাকর্মীরা। এরপরও রাজনৈতিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে দলীয় কার্যক্রম গতিশীল রাখতে বসে নেই। দলটির নেতা সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ দেশে না থাকলেও তার দিকনির্দেশনাতেই চলছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। আগামী নির্বাচনের আগেই সবকটি ইউনিয়নের কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হয়েও দাউদকান্দি উপজেলায় দলকে মাঠে রাখতে পারছেন না খন্দকার মোশাররফ হোসেন। হামলা-মামলার ভয়ে দাউদকান্দিতে দলের নেতারা মাঠে নামেন না। ফলে তৃণমূলের সাথে উপজেলা নেতাদের দুরত্ব দেখা দিয়েছে। দাউদকান্দির একসময়কার শক্ত বিএনপি সাংগঠনিক দিক থেকে মাঠের রাজনীতিতে বর্তমানে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
হোমনা বিএনপির অভিভাবক এমকে আনোয়ারের মৃত্যুর পর এ উপজেলায় নেতৃত্ব সঙ্কট কাটিয়ে তুলতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা দলের হাল ধরেছেন ঠিকই। কিন্তু এরিমধ্যে কেন্দ্রিয় নির্দেশে হোমনা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব এমকে আনোয়ার পুত্র মাহমুদ আনোয়ার কাইজারের উপর বর্তালে দলটিতে নিরব গ্রুপিং শুরু হয়েছে। আবার হোমনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহর ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামও হোমনা বিএনপির নেতৃত্বে থাকার জন্য আলাদা গ্রুপ গড়ে তুলেছেন।
দায়সারা ভাবেই চলছে মেঘনা উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম। নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক মামলার শিকার। দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল না থাকলেও নেতৃত্বের প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্ব›দ্ব রয়েছে। মেঘনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হক শাহিনের মধ্যে বৈরি সম্পর্কের প্রভাব তৃণমূলেও ছুঁয়েছে। এ উপজেলায় বিএনপির শক্ত নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।
তিতাস উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই ঢিমেতালে চলছে। দলে বড়ধরণের গ্রুপিং না থাকলেও তিতাসের নেতৃস্থানীয় নেতাদের সাথে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনুসারিদের মধ্যে বিভক্তিভাব রয়েছে। তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সরকার দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তৃণমূলে বিভাজন সৃষ্টি করতে দলের ছোট্ট একটি গ্রুপ ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নেতৃত্ব শূন্যতায় আক্রান্ত চান্দিনা উপজেলা বিএনপি। চান্দিনা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত খোরশেদ আলমের মৃত্যুর পর দলটিতে ওই উপজেলায় নেতৃত্ব শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তবে খোরশেদ আলমের ছেলে আতিকুল আলম উপজেলায় দলের নেতৃত্বে আসায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি হলেও দলের কিছু কিছু সিনিয়র নেতা তাতে নাখোশ। অন্যদিকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি থেকে একসময় বেরিয়ে যাওয়া সুযোগসন্ধানী নেতাকর্মীরা দলে ভিড়তে চেষ্টা করছে। তণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন সুযোগসন্ধানীরা দলে ফিরতে পারলে বিভাজন সৃষ্টি করবে।
বর্তমানে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিতে চলছে ক্রান্তিকাল। একসময়কার দাপুটে নেতা সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির নেতৃত্ব অনেকেই মানছে না। তার করে দেয়া উপজেলা বিএনপির কমিটিকে তৃণমূল নেতারা পকেট কমিটি বলছেন। দেবিদ্বার বিএনপির বেশিরভাগ নেতা কর্মীই নতুন নেতৃত্ব চান। ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রিয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান ও হংকং বিএনপির সভাপতি তারেক মুন্সির নেতৃত্বে আলাদা গ্রুপও উঁকি দিয়েছে।



 

Show all comments
  • Hasan Islam ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১১:০১ এএম says : 0
    স্বৈরচারের রাজত্ব বেশি দিন টিকে থাকবেনা।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর