Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নির্বাচনে যাচ্ছে মালদ্বীপ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

খ্যাতির বিড়ম্বনাও আছে, বিশেষ করে কূটনীতিতে। মালদ্বীপে ১৯৮৮ সালে তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান বানচাল করে দিতে ভারতের সফল নৌ হস্তক্ষেপ দৃশ্যত ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপদেশটিতে নয়া দিল্লির ভাবমর্যাদা গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ত্রিশ বছর পর এই অঞ্চল ও এর বাইরের অনেকে প্রত্যাশা করেছিল মালদ্বীপের বর্তমান সঙ্কট নিরসনে দক্ষিণ এশিয়ার ‘বড় ভাইটি’ এবারো ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। আবদুল্লাহ ইয়ামিনের সরকার কেবল বিরোধী রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্ট সদস্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের দমন, কারারুদ্ধ ও নির্বাসনই দেননি, গত ফেব্রুয়ারিতে জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে যেসব নীতি গ্রহণ করেছে তা ভারতের মূল স্বার্থও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে। সাবেক মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ফেব্রুয়ারিতে উত্তেজক এক বিবৃতিতে আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, বিচারপতি ও রাজবন্দিদের মুক্ত করতে আমরা আশা করব ভারত সরকার সামরিক বাহিনীর সমর্থনে একজন দূত পাঠাবে। আরো সা¤প্রতিক সময়ে বিজেপির এমপি ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুব্রাম্যানিয়াম স্বামী ২৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে হওয়া নিশ্চিত করতে এবং সেখানকার ভারতীয়দের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে সেখানে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ কামনা করে কয়েক দফা টুইট করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মনে করে, ভারতের উচিত কিছু ‘কঠোর’ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবে ভারত দ্রুততার সাথে স্বামীর টুইট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। মালদ্বীপ যেসব চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, সেগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে ভাবছে। কারণ তিন দশক আগের ঘটনাটি এখনো এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে মনে থাকায় নয়া দিল্লির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, মালেতে যে চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলা করার জন্য আরো ত্বরিত, কুশলী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। প্রায় ৪০ বছর ধরে ভারত ও বাকি বিশ্ব দৃশ্যত গাইয়ুমের স্থিতিশীল শাসনে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিল। বিরোধী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের কঠোর হাতে দমন করা সত্তে¡ও তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। ২০০৮ সালে মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে হওয়া নির্বাচনে মোহাম্মদ নাশিদকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়ায় মালদ্বীপ সমাজের চেপে থাকা বিভিন্ন বিষয় সামনে আসতে থাকে। এরপর যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ছড়িয়ে পড়ে, এখনো তা বহাল রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি সত্তে¡ও এখন পর্যন্ত তিনি মালে সফর করেননি। ২০১৫ সালে সেখানকার রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে নির্ধারিত সফর স্থগিত করেন। তবে ২০১৬ সালের এপ্রিল নয়া দিল্লিতে ইয়ামিনকে স্বাগত জানানোর পর দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। দুই পক্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ ছয়টি চুক্তিতে সই করে। সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর