Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

হাস্যকর ভুলে কান্নাভেজা বিদায়

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

টানা দুই ম্যাচে জয়। ড্র করলেই সেমিফাইনালের টিকিট। অথচ গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের হাস্যকর এক ভুলে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে আরো একবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রæপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল লাল-সবুজের দল। ২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৫ সালের পর এবারও সেমির গেড়ো খোলা হলো না জেমি ডের শিষ্যদের।
গ্রæপ পর্বের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা নিদারুন কষ্টের। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঐ ভুল থেকে বিমল মাগারের কাছে গোল হজমের শুরু বাংলাদেশের। অন্তিম মূহুর্তে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন নাওয়াউং শ্রেষ্ঠা। আর তাতেই স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নেপাল। দু’জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এ-গ্রæপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নেয় হিমালয় কণ্যার দেশটি। অন্যদিকে সমান পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তান গোল ব্যবধানে স্বাগতিকদের পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে ওঠে।
গতকাল কানায় কানায় পূর্ণ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আশা দেখাচ্ছিলো দারুণ কিছুর। তবে তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া- বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন কিছু নয়। আরও একবার মিললো সেই প্রবাদবাক্যের সত্যতা। ম্যাচের ১২ মিনিটেই আক্রমণের জেরে কর্ণায় আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। মামুনুলের কর্ণার লাফিয়ে উঠে হেড দিয়ে কর্ণারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন নেপালের ডিফেন্ডার। দ্বিতীয় কর্ণারটিও কাজে লাগাতে পারেনি জেমির শিষ্যরা। ২৭ মিনিটে বক্সের সামান্য দূরেই এবার ফ্রি কিক পায় স্বাগতিকরা। ওয়ালী ফয়সালের বাকানো শট বারের উপর দিয়ে চলে গেলে সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। তার কিছু পরেই আসে সেই লজ্জষ্কর ক্ষণ।
ঘড়ির কাঁটায় তখন ম্যাচের বয়স ৩২ মিনিট। উপূর্যপরী আক্রমণে ফ্রি কিক আদায় করে নেন নেপালের সেনানী বিমল মাগার। নিজেই নেন শট। বক্সের ৪০ গজ দূর থেকে নেয়া বিমলের শট প্রথমবার হাত দিয়ে ফেরালেও সোহেলের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়ায়। এমন হাস্যকর ভুলের পর প্রশ্ন উঠেছে সোহেলের দক্ষতা নিয়েই। গ্যালারি থেকে চেচিয়ে উঠে একজন তো বলেই ফেললেন, ‘গো টু হেল.. সোহেল। আর তোমাকে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখতে চাইনা।’ সেখান থেকেই মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে দলে তিন পরিবর্তন এনেও কাজ হয়নি। বিপলু আহমেদের পরিবর্তে সোহেল রানা, মাসুক মিয়া জনির পরিবর্তে ইমন মাহমুদ বাবু এবং সাদ উদ্দিনকে তুলে মাঠে নামান সাখাওয়াত হোসেন রনিকে। কিন্তু কোচের এই কৌশল কাজে আসেনি। কার্যত রনি, ইমন, সোহেলরা কিছুই করতে পারেননি। মাঝমাঠে ছিল কার্যত ফাঁকা। প্রথমার্ধের তবুও কিছু আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নেপালের রক্ষণে একটি বারের জন্যও ফাটল ধরাতে পারেনি। বাংলাদেশ না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে কাজের কাজ সেরেছে নেপাল। ৮৯ মিনিটে দলটির হয়ে দ্বিতীয় ও ম্যাচের শেষ গোলটি করেন বিমল নওয়াযুগ শ্রেষ্ঠ। এই গোলেই বাংলাদেশের কফিনে হারের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় হিমালয়বাসীরা।
সাফের এটি ১২তম আসর। বাংলাদেশ আয়োজক তৃতীয়বারের মতো। প্রথমবার আয়োজক হয় ২০০৩ সালে। সেবার মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়বার আয়োজক ২০০৯ সালে। সেবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল দল। কিন্তু তৃতীয়বার গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায়। আয়োজক হয়ে এবারই সবচেয়ে বাজে ফল করেছে বাংলাদেশ। ২০১১ সাল থেকে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের শুরু। ২০১৮ সাল এসে টানা চারটি সাফেই গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিল বাংলাদেশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর