Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমন্বিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ইইউ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১:২৭ পিএম

মিয়ানমারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বেশ কয়েকটি দেশ। রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট শীর্ষ দুটি কোম্পানির ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা চলছে। এতে পুরো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কোনও কোনও দেশ বিকল্প নিষেধাজ্ঞার কথাও ভাবছে। সেক্ষেত্রে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তাদের সম্পত্তি জব্দ করা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এই খবর জানিয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও ইউরোপীয় কমিশনের ওপর চাপ তৈরি করতে আগামী সোমবার ব্রাসেলস সফর করবেন কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিক।
রয়টার্সের সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে বিক্ষোভ হয়েছে
গত বছরের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গা বিরোধী সেনা অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের সাতজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের সম্পত্তি জব্দ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ওই সেনা অভিযানের কারণে গত বছরে সাত লাখের পাশাপাশি চলতি বছরেও রাখাইন ছেড়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য। সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। ওই মিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নতুন নিষেধাজ্ঞার চিন্তা করছে ইইউ।

আগামী সোমবার কয়েকজন রোহিঙ্গা সদস্য মিয়ানমার সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপে চাপ সৃষ্টি করতে ব্রাসেলস সফর করবেন। তারা কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ও ইউরিপোয়ী কমিশনের কাছে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলবেন।

সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার একটি বিকল্প হতে পারে মিয়ানমারের শীর্ষ দুটি ব্যবসায়িক কোম্পানি দি ইউনিয়ন অব মিয়ানমার ইকোনোমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনোমিক কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। এই দুটি কোম্পানির অধীনে দেশটির রত্ন, কপার, স্বর্ণ, পোশাক, সিমেন্ট ও দেশটির শীর্ষ টেলিকম কোম্পানি মাইটেল এর বাণিজ্য পরিচালিত হয়। তবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের অর্থনীতির বিপর্যন্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় এসব কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই কর্মকর্তা পলিটিকোকে একথা জানিয়েছেন।
মিয়ানমারের সেনা অভিযানের কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়েছে

এক কূটনীতিক বলেন, ‘এই পর্যায়ে আমরা অর্থনৈতিক বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করছি না। কারণ আমরা মনে করি এতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। আর দেশজুড়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্থ হবে’।

নিষেধাজ্ঞার আরেকটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে এককভাবে অথবা যৌথভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ। এর মধ্যে থাকতে পারে সম্পত্তি জব্দ ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকতে পারেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইং ও তার সহকারী জেনারেল সোয়ে উইন।

ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রাখাইনে ভয়ানক মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ী ও সহায়তাকারীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরমধ্যেই সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আর এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা চলছে এবং তার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত সবসময়ই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইইউ নিষেধাজ্ঞার কোনও সিদ্ধান্ত হলে তা ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে’।

বর্তমান নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করতে কয়েকটি দেশে দোলাচলে রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট পার্লামেন্টে বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সফর করবেন তিনি। এছাড়া জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গত সপ্তাহে মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সহযোগীদের নিয়ে সামনে এগোনোর বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছেন তারা।

আশা করা হচ্ছে সামনের সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ নিয়ে আলোচনার জন্য ইতিমধ্যে মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপরাধের আলামত পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার বরাবরের মতো ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেছে। তাদের দাবি সেনাবাহিনী রাখাইনে বৈধ বিদ্রোহী দমন অভিযান পরিচালনা করেছে।
ইইউ

বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক কিয়াও উইন ইইউকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসহ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে ইইউ’র ব্যর্থতা শুধু আরও রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়াবে’। লন্ডন থেকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গণহত্যা এখনও শেষ হয়নি, এটা চলছে। প্রতিটা দিন আমরা দেরি করবো, আর তা বার্মাতে কারও প্রাণহানির কারণ হবে’। তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখনও থেকে যাওয়া ৫ লাখ রোহিঙ্গা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

উইন বলেন, দি ইউনিয়ন অব মিয়ানমার ইকোনোমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনোমিক কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদেক্ষপ বলে বিবেচিত হবে।

মিয়ানমারের ওপর নতুন নিষষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কূটনীতিক বলেন, ‘বার্মা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন একটি সারাংশ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আমরা ওই সারাংশ পেয়েছি ও তা পরীক্ষা করে দেখছি। ওই প্রতিবেদনে আরও নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ রয়েছে আর আমরা তাতে সাড়া দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছি’।



 

Show all comments
  • Shahed Parvez ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:০৩ পিএম says : 0
    এখনও ভাবছে !
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ