Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিপুল জনপ্রিয়তায় খালেদা জিয়ার কাল হয়েছে -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ২:৩০ পিএম

সারাদেশের মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজ। তিনি বলেন, এই জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার তাকে নিঃশেষ করার জন্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছ। আজকে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, জনপদ থেকে জনপদ সর্বত্রই বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। অথচ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও কারাকর্তৃপক্ষের বক্তব্য বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে তাচ্ছিল্য করে তাঁর জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। যা চরম অমানবিকতারই এক নিষ্ঠুর বহিঃপ্রকাশ।

রোববার(৯ সেপ্টেম্বর)দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন,'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় দেশবাসীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। বেগম জিয়া এতটাই গুরুতর অসুস্থ যে, তাঁর বাম হাত ও পা প্রায় অবশ হয়ে যাচ্ছে। চলফেরা দুরের কথা, তিনি উঠে দাঁড়াতেও পারছেন না। সাংবাদিকরা তাঁর এই অবস্থা সচক্ষে দেখে পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতদসত্বেও গতকালও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও কারাকর্তৃপক্ষ একই সুরে বলেছেন বেগম জিয়া ততটা অসুস্থ নন। তারা বলেছেন বেগম জিয়া পূর্বে যেসব রোগে ভুগতেন এখন সেসব রোগেই তিনি ভুগছেন।আওয়ামী লীগ নেতা ও কারাকর্তৃপক্ষের বক্তব্য বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে তাচ্ছিল্য করে তাঁর জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, যা চরম অমানবিকতারই এক নিষ্ঠুর বহি:প্রকাশ।

তিনি বলেন,'বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে হানিফ ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা। বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে নি:শেষ করে দিতেই আওয়ামী সরকার তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে নিষ্ঠুর ও অমানবিক পথ বেছে নিয়েছে। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক এবং সবশেষে আইনজীবীরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা বেসরকারী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার কোন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।

রিজভী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,'বেগম জিয়ার জীবন হুমকির মুখে থাকবে, আর দেশবাসী চেয়ে চেয়ে দেখবেন তা হবে না। কাল বিলম্ব না করে তাঁকে ই্উনাইটেড বা অন্য কোন বেসরকারী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বেগম জিয়ার চিকিৎিসা নিয়ে টালবাহানার পরিণতি ভাল হবে না। অভূক্ত রেখে, বিনা চিকিৎসায় ভোগানোর জন্য বেগম জিয়াকে কারাবন্দী রেখেছেন শেখ হাসিনা। কারাবন্দী বেগম জিয়ার ভাগ্য আদালতের ওপর নির্ভরশীল নয়, তা নির্ভর করে শেখ হাসিনার মর্জির ওপর।

বিএনপির এই নেতা বলেন,'আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গণবিচ্ছিন্ন হতে হতে জনগণের কাছ থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সেজন্য একমাত্র পুলিশই আওয়ামী সরকারের ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশের শাসনভার শেখ হাসিনা একচেটিয়াভাবে ধরে রাখার জন্য ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই চালিয়ে এসেছেন মানুষ গুম, নরহত্যা, বিনা বিচারে আটক ও ক্রসফায়ার। বাংলাদেশ নামক ‘পুলিশ রাষ্ট্রটি’ এখন শাসিত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির দ্বারা যার ক্রোধানলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই দেশের নিয়ন্ত্রণ মজবুত রাখতে চাচ্ছেন। দেশজুড়ে চলছে এখন গায়েবী মামলার ছড়াছড়ি। মৃত ব্যক্তিকেও এখন ককটেল ছুঁড়ে মারতে দেখছে পুলিশ। সরকার কী অদ্ভুত বাহিনীতে পরিণত করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে।

সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন,'বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ধারাবাহিকতায় গতকাল টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, নোয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ এবং পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্তৃক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কদমতলী থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১৯৬ জন নেতাকর্মীর নামে গত ৫ সেপ্টেম্বর বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কদমতলী থানাধীন বিএনপি নেতা মো: মুনসুর আলী গত ২৭ অক্টোবর তারিখে মৃত্যবরণ করলেও তাকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমতার জোরে মিথ্যার বেস্যাতি করতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এতটাই পারঙ্গম ও লাগামহীন যে, মৃত ব্যক্তিকেও এরা আসামী করেছে। এছাড়া এ বছর পবিত্র হজ¦ পালনের জন্য উক্ত থানাধীন বিএনপি নেতা আসলাম মোল্লা, ফারুক হোসেন এবং আব্দুল হাই মক্কা নগরীতে অবস্থান করলেও রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার অসৎ উদ্দেশ্যে তাদেরকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির সাধারন সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।



 

Show all comments
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:০৯ পিএম says : 0
    ........... রিজভৗ বলে কি. রিজভৗ একজন ..................
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ