Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সংশোধিত শ্রমআইন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সরদার সিরাজ | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

সংশোধিত শ্রম আইন-২০১৮ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধিত এই শ্রম আইনের মূল বিষয় হচ্ছে: কোনো কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য ৩০% শ্রমিকের সমর্থনের স্থলে ২০% সমর্থন প্রয়োজন। ধর্মঘট ডাকার ক্ষেত্রে দু-তৃতীয়াংশের সমর্থনের পরিবর্তে ৫১% সমর্থন দরকার। কোনো শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ এক লাখ টাকার স্থলে দুই লাখ টাকা, আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে তার ক্ষতিপূরণ এক লাখ ২৫ হাজার টাকার স্থলে আড়াই লাখ টাকা। কিশোর বা প্রতিবন্ধী শ্রমিককে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো যাবে না, কারখানায় নিয়োজিত শিশুদের বয়স ১২ বছরের স্থলে ১৪ বছর নির্ধারণ এবং ১৪ বছরের নিচে শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগ করা হলে সংশ্লিষ্ট মালিকের পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হবে। আইনে মালিক ও শ্রমিকদের অসদাচরণের জন্য শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হবে। আগে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছিল ২ বছর। বলপ্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোনো স্থানে আটক রাখা, শারীরিক আঘাত এবং পানি, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বা অন্য কোনো পন্থায় মালিককে কোনো কিছু মেনে নিতে বাধ্য করলে এবং শ্রমিকরা বেআইনি ধর্মঘটে গেলে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া কোন শ্রমিককে আহার ও বিশ্রামের বিরতি ব্যতীত ১০ ঘণ্টার অধিক কাজ করানো যাবে না। তবে সরকার বিশেষায়িত শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের কাজের সময় পরিবর্তন করতে পারবে। উপরন্তু, শ্রমিকদের উৎসব ভাতা প্রদান করা ও নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ৮ সপ্তাহ ছুটি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করার তিন দিনের মধ্যে তাঁরা এই ছুটি এবং অন্যান্য সুবিধাদি পাবেন। তাছাড়া, সন্তান সম্ভবা মা’কে মাতৃত্বকালীন ছুটি বঞ্চিত করলে মালিক পক্ষের ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হবে। কোনো কারখানায় ২৫ জনের বেশি শ্রমিক থাকলে তাদের জন্য পানির ব্যবস্থাসহ খাবার কক্ষ রাখতে হবে, সেখানে বিশ্রামেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে। শ্রম আদালতগুলোকে মামলা দায়েরের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রায় দিতে হবে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে রায় দিতে হবে। এতদিন রায় দেয়ার জন্য ৬০ দিন নির্ধারিত ছিল। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালেও কেউ আপিল করলে তা ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এক্ষেত্রেও কোনও কারণে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই শেষ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিদ্যমান আইনে এ অপরাধের সাজা ছয় মাসের কারাদণ্ড। আইনে মৃত শ্রমিকের অপরিশোধিত মজুরি শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শ্রমিকের মনোনীত প্রতিনিধির হাতে হস্তান্তরের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আইনে শ্রমিক সংগঠন বিদেশ থেকে চাঁদা নিলে সরকারকে সে বিষয়ে অবহিতকরণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একটির বেশি ইউনিয়ন অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইন সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আইএলও’র কনভেনশন অনুযায়ী শ্রম আইন শ্রম-বান্ধব করার জন্য আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকার শ্রম সংগঠনগুলোর রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি আদর্শ কার্যপ্রণালী পদ্ধতি (এসওপি) প্রস্তুত করবে। নির্দিষ্ট ফর্মে রেজিস্ট্রেশনের জন্য শ্রম সংগঠনগুলোর আবেদনের মাধ্যমে তা ৫৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রায় ৯০টি ধারা সংশোধন হয়। বর্তমানে অনেকগুলো ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন: বর্তমানে ধারা রয়েছে ৩৫৪টি। সংশোধনী প্রস্তাবে দুটি ধারা, চারটি উপধারা, আটটি দফা সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগের ৬টি উপধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন করে ৪১টি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী সংশোধিত আইনে মালিক, শ্রমিক ও সরকার মিলে একটি ত্রি-পক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ গঠন করতে পারবে। সংশোধিত শ্রম আইন ইপিজেড এলাকার কারখানার জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে বিদ্যমান আইনগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা চলছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই আইন পাস করা হতে পারে।
সংশোধিত শ্রম আইন মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট সব মহল থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় তারা শ্রম আইন সংশোধন করছেন। এতে শ্রমিকের অনেক সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আইনের এসব সংশোধনী প্রস্তাব শ্রম-বান্ধব। এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্টে বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার নিয়ে শিল্প মালিকদেরও মানসিকতার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কালেক্টিভ বার্গেনিং যদি হয়, তাহলে একটা প্লাটফরম তৈরি হয়, যেখানে স্ট্রাকচারাল ওয়েতে আলোচনা করা যায়। আমাদের ইতোমধ্যে পার্টসিপেশন কমিটিগুলো হয়েছে, আমরা চাই, সেগুলো আস্তে আস্তে ট্রেড ইউনিয়নে রূপান্তরিত হোক। এতে আমাদেরও সুবিধা হবে। যে কোনও সমস্যা হলে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের সাথে আলোচনা করা যাবে। বিলস’র নির্বাহী পরিচালক জাফরুল হাসান বলেছেন, শ্রম আইনের খসড়ায় কিছু বিষয় ইতিবাচক থাকলেও এটা শ্রমিকদের আকাক্সক্ষা পুরাপুরি পূরণ করতে পারবে না। বিশেষতঃ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, অপরাধের দায়ে মালিকদের শাস্তি এবং শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে অসন্তোষ দূর হবে না। বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ বলেছেন, শ্রমিক নেতাদের দেয়া পরামর্শ অনেকাংশেই উপেক্ষিত থেকেছে। এ খসড়া আইনটিতে দেশের সংবিধান বা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক বিষয়গুলিকেও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার পথে প্রতিবন্ধকতা থেকেই যাবে। আর শ্রমিককে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে যা বলা হয়েছে, তাতে অনেক মেহনতি মানুষ শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না। স্কপ এক বিবৃতিতে শ্রম আইনের সংশোধনী শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এটা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অবিহিত করে এই আইন বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংশোধিত শ্রম আইন নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত হচ্ছে: আধুনিক যুগে প্রতিটি দেশেই আইন প্রণীত হয় মানুষের কল্যাণের জন্য। আমাদের দেশেও তাই হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কোন আইনের কল্যাণ তখনই হয়, যখন আইনটি পূর্ণভাবে কার্যকর হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কোন আইনই ভালোভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রেই চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই শ্রম আইন সংশোধন করে যতই শ্রম-বান্ধব করা হোক না কেন, সেটা যদি পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে শ্রমিকদের কোন কল্যাণ হবে না। দ্বিতীয়ত সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকর করা হলেও তার সুফল পাবে নিয়মিত শ্রমিকরা। অনিয়মিত শ্রমিকদের আইনের সহায়তা নেয়ার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। যদি তাই হয়, তাহলে দেশের কত-ভাগ শ্রমিক নিয়মিত? নিশ্চয় নগণ্য। কিছুদিন আগে শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশের মোট শ্রমিকের মাত্র ১৫% শ্রমিক প্রাতিষ্ঠানিক খাতের। বাকী শ্রমিকরা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের। ইনফরমাল সেক্টরের শ্রমিকরা শ্রম আইনের আওতা বহির্ভূত। অর্থাৎ দেশের মোট শ্রমিকের ৮৫% শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নয়। বাকী যে ১৫% শ্রমিক ফরমাল সেক্টরে আছে, তার বেশিরভাগই কর্মরত গার্মেন্টে, যার ৮০ শতাংশই চাকরিতে কোন নিয়োগপত্র পায়নি বলে কিছুদিন আগে এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে। মালিক পক্ষ এর কোন প্রতিবাদ করেনি। তাই অভিযোগটি সত্য। তদ্রæপ অবস্থা অন্য খাতেও বিদ্যামান। তাহলে যারা চাকরিতে নিয়োগ পত্র পায়নি, তারা কীভাবে আইনের আওতায় আসবে মামলা হলে? আসবে না। কারণ, তারা শ্রমিকের প্রমাণপত্র দেখাতে পারবে না। এই অবস্থায় সংশোধিত শ্রম আইন যত শ্রম-বান্ধবই হোক না কেন, তা অধিকাংশ শ্রমিকের কোন কাজে আসবে না। এমনকি অর্থমন্ত্রী বেসরকারি খাতে পেনশন চালু করার কথা বলেছেন, তাও পাবে না। তাই শ্রমিকদের সত্যিকার কল্যাণ করার জন্য দেশের সব খাতের শ্রমিকের চাকরির নিয়োগ পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করে তা বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। তাহলেই সব শ্রমিক আইনের আওতাভুক্ত হতে পারবে।ফলে সংশোধিত শ্রম আইনের সুফল পাবে সব শ্রমিক। দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে: দেশে ফরমাল সেক্টরের শ্রমিকের মধ্যেও একক মজুরি নেই। একেক খাতের শ্রমিকের মজুরি একেক রকমের। যেমন: মজুরি বোর্ডের উপাত্ত অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরির হার হচ্ছে- ট্যানারি (১২,৮০০ টাকা), নির্মাণ ও কাঠ (প্রায় ১০,০০০ টাকা), ফার্মাসিউটিক্যাল (৮০৫০ টাকা), ওয়েল মিলস এন্ড ভেজিটেবল প্রোডাক্টস (৭,৪২০ টাকা), স মিলস (৬,৮৫০ টাকা), অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ (১,৯৩০ টাকা), টি গার্ডেন (১,৯৭৮ টাকা), বেকারি, বিস্কুট ও কনফেকশনারি (২,৪৩২ টাকা), সিনেমা হল (২,৬১০ টাকা) এবং কৃষি ও গৃহ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পকারখানা (৩,০০০ টাকা)। এছাড়া, নিম্নতম মজুরি বোর্ডে গার্মেন্টসহ ছয়টি শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির সুপারিশের কাজ চলছে। আরও দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মজুরির পার্থক্য পাহাড়সম। যেমন: সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের মজুরি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিকের মজুরিতে রয়েছে আকাশ-পাতাল বৈষম্য। উভয়কে সামাজিক নিরাপত্তা দেয় যে সরকার, তার করা আইনেও রয়েছে এই বৈষম্যের প্রকাশ! সরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়, একই খাতের বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার মজুরি নির্ধারণ করে দেয় তার তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়া বেসরকারি শ্রমিকের মজুরি পুননির্ধারণেও উদাসীনতা দেখানো হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পাঁচ বছর পর পর মজুরি পুননির্ধারণ করা হলেও বেসরকারি এমন অনেক খাত আছে, গত ৩৫ বছরেও যে খাতে পুননির্ধারণ করা হয়নি মজুরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সরকারি শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে জাতীয় মজুরি এবং উৎপাদনশীলতা কমিশন। বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য মজুরি নির্ধারণ করে সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ড। ৪২টি বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য মজুরি নির্ধারণ করেছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে ব্যবধান রয়েছে আকাশ-পাতাল। একই মানের জীবনযাপনে শ্রমিকদের কারো বেতন ১৬ হাজার টাকা আবার কারো বেতন চার হাজার টাকা। কাজের ধরন ও ঝুঁকির ফলে মজুরির কিছুটা তারতম্য হতে পারে। কিন্তু একেবারে আকাশ-পাতাল বৈষম্য হওয়াটা অন্যায়। স্মরণীয় যে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিকের মধ্যে আরও পার্থক্য আছে। তা হচ্ছে: সরকারি খাতের শ্রমিকের চাকরির নিশ্চয়তা ও অবসরের পর গ্র্যাচুইটির সুবিধা আছে। আর বেসরকারি খাতের শ্রমিকের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। সকালে থাকে তো বিকালে থাকে না। সর্বোপরি বিদায়ের পর খালি হাতে বাড়ী যেতে হয়। কোন আনুতোষিক পায় না। এই অবস্থায় দেশের সব শ্রমিকের মজুরি ও সুবিধাদি এক করা দরকার। অর্থাৎ দেশের সকল শ্রমিককে একক মজুরি তথা জাতীয় নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করে তার আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন। সর্বোপরি দেশের শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি হওয়া উচিৎ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সমান। বিশেষ করে ভারতের। এটা যতদিন না হয়, ততদিন বেসরকারি খাতের সব শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ও সুবিধাদি সরকারি খাতের শ্রমিকের সমান করা আবশ্যক। এছাড়া, সর্বত্রই অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার কার্যকর এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অপরাধে চাকরিচ্যূতি/মামলা/হামলা/নির্যাতন ইত্যাদি বন্ধ করা দরকার। নতুবা বেসরকারি খাতের শ্রমিকের কোন কল্যাণ হবে না। আর সেটা না হলে শ্রমিক অসন্তোষ দূর হবে না। শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে না। ফলে দেশের ক্ষতি হবে।
বহুল প্রচলিত প্রবাদবাক্য হচ্ছে: শিশু না কাঁদলে মা দুধ দেয় না। তদ্রুপ শ্রমিকরা যদি তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য চেষ্টা না করে, তাহলে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না কোনোদিনই। এটা অতীতেও হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। তবুও সে দিকে দেশের শ্রমিকদের ভ্রূক্ষেপ নেই। তাই শ্রমিকরা মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক হলেও তারা সংগঠিত নয়। সংগঠিত শ্রমিকের সংখ্যা মোট শ্রমিকের ১% হবে কি-না সন্দেহ আছে। উপরন্তু যারা সংগঠিত, তারাও বহু ধারায় বিভক্ত। দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে তারা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শুধুমাত্র নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে। শ্রমিকদের কল্যাণে তেমন কিছুই করে না। তবুও শ্রমিকরা আদর্শ দলের হুকুম জি হুজুরের মতো পালন করে। তাই শ্রমিক সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে তেমন পরিলক্ষিত হয় না। অথচ একদা স্কপ খুবই শক্তিশালী ছিল। এরশাদের শাসনামলে স্কপ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিল। তাই তৎকালীন সরকার স্কপের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে স্কপের কার্যক্রম দুর্বল হতে হতে এখন নেই বললেই চলে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নতুবা তারা যে গরীব রয়েছে, সে গরিবই থেকে যাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে। অর্থাৎ শ্রমিকদেরকে আবার জেগে উঠতে হবে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।