Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

পাকিস্তানে আরো বাড়ছে চীনের সহযোগিতা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৯:১৮ পিএম | আপডেট : ১২:২২ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে যখন বড় রকমের টানাপড়েন চলছে তখন চীন ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইমরান খান ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফর করছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং জি। সফরে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার সাথে সাক্ষাত করেন তিনি। এর আগে শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে সাক্ষাত করে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে কথা বলেছেন ওয়াং জি।
আলোচিত চীন ও পাকিস্তানের অবকাঠামোগত উদ্যোগ নিয়ে বৈঠক শেষে ওয়াং ই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানের জন্য কোনো রকমের বোঝা না হয়ে বরং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নজিরবিহীন সমৃদ্ধি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সম্পর্কে সমালোচনা নাকচ করে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্প থেকে লাভবান হওয়ার জন্য দু’পক্ষ অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিন্যাস করতে রাজি হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পাকিস্তানের ওপর কোনোভাবেই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়নি। ঋণের ৪৭ ভাগ আসবে আন্তর্জাতিক মনিটরিং ফান্ড (আইএমএফ) ও এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক থেকে।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্প যখন শেষ হবে তখন তা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।’ এ সময় তিনি সিপিইসি’র স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয় প্রত্যাখান করেন। তিনি বলেন, প্রজেক্টটি নিয়ে এসব উদ্বেগ মিথ্যা।
খবরে বলা হয়, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রজেক্টের জন্য পাকিস্তানকে পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের অঙ্গীকার করেছে বেইজিং। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি বলেছেন, নতুন সরকারের ক্ষেত্রেও সিপিইসি শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি এ প্রজেক্টের ফলে দু’দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও বলেন।
উল্লেখ্য, চীন পাকিস্তানকে একের পর এক ঋণসহায়তা দেয়ার পর গত জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা বা ঋণ না দিতে আইএমএফকে সতর্ক করে দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, আইএমএফ থেকে পাওয়া অর্থ সহায়তা ব্যবহার করে চীনের ঋণ পরিশোধ করতে পারে পাকিস্তান। চীন হচ্ছে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করেছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে চীন। দেশটির ডারউইনের কৌশলগত উত্তর বন্দর থেকে ২৭টি দেশের যৌথ প্রশিক্ষণে তিন হাজারেরও বেশি কর্মী অংশগ্রহণ করছে এ মহড়ায়। কাক্কাডু মহঢ়ায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৩টি জাহাজ এবং সাবমেরিন অংশ নেবে। সমুদ্রপথের বিরোধিতা প্রতিরোধ এবং ত্রাণ প্রচেষ্টা সমন্বয় ছাড়াও এসব বিষয়ে সক্ষম করে তুলতেই মহড়ার আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়া। সূত্র : ডন, পার্স টুডে, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর