Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

১৫ দিনে লাখো মামলা সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

১৫ দিনেই বিএনপির লাখো নেতাকর্মীর নামে মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলকে দমনের কৌশল অবলম্বন করেছে সরকার। একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মামলার ধরণ দেখে আমরা দেখছি মৃত মানুষ কবর থেকে ওঠে এসে ককটেল নিক্ষেপ করছে। এই হচ্ছে এই সরকারের হাস্যকর মামলা। গতকাল (রোববার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও নেতৃবৃন্দের নামে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, সাজিয়ে গুজিয়ে মামলা দেয় তার প্রমাণ হচ্ছে এখন মৃত ব্যক্তির নামে মামলা হচ্ছে। মক্কা শরীফে পবিত্র হজ পালন করতে গেছেন এখনো দেশে ফিরে আসেননি এমন ব্যক্তির নামে ককটেল বিস্ফোরণ, নাশকতার মামলা দেয়া হচ্ছে। তাদের মামলা দেখে মনে হয়, মৃত ব্যক্তি কবরস্থান থেকে ওঠে এসে ককটেল নিক্ষেপ করছে। মক্কায় পবিত্র হজ পালন করতে গেছে এমন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যে বারবার বলে এসেছি সরকারের পরিকল্পিত অত্যাচার, নির্যাতন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগই দিচ্ছে প্রত্যেকটা মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক। এই সরকার মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সরকার কাল্পনিক ও বিভ্রান্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শুধুমাত্র বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বন্যার ঢলের মতো অপপ্রচার চালায়। মিথ্যা ছাড়া তাদের আর অর্জন নেই। মিথ্যার যে এতো বৈচিত্র তা একমাত্র আওয়ামী লীগই দেখাতে পেরেছে। বিএনপির এই নেতা মামলার সমালোচনা করে বলেন, সরকারের মামলাগুলো দেখে মনে হচ্ছে- একই সময়ে বিএনপি নেতাকর্মী মক্কা শরীফে হজ করছেন আবার একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার কাজও করছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন সুপার হিউম্যানে পরিণত হয়েছে। তারা আলোর চেয়ে দ্রæত গতিতে আসা-যাওয়া করে।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, এক জনপদ থেকে আরেক জনপদ, স্টিমার, লঞ্চ, বাস, ট্রেন প্রত্যেকটি জায়গায় মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। কিন্তু তাকে চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতাকে আরও গুরুতর ও অবনতিশীল করার জন্য এহেনও কাজ নাই যা সরকার করছে না। তার একমাত্র দোষ তিনি দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এজন্য সরকার প্রধান প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে তার বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক ও অমানবিক আচরণ করছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসী চরম উৎকণ্ঠায় আছেন। বেগম জিয়া এতটাই অসুস্থ যে, তার বাম হাত ও পা প্রায় অবশ হয়ে যাচ্ছে। চলাফেরা দ‚রের কথা, তিনি উঠে দাঁড়াতেও পারছেন না। সাংবাদিকরা তার এই অবস্থা সচক্ষে দেখে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তারপরও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও কারাকর্তৃপক্ষ একই সুরে বলেছেন বেগম জিয়া ততটা অসুস্থ নন। তারা বলেছেন বেগম জিয়া পূর্বে যেসব রোগে ভুগতেন এখন সেসব রোগেই তিনি ভুগছেন। আওয়ামী লীগ নেতা ও কারাকর্তৃপক্ষের বক্তব্য বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে তাচ্ছিল্য করে তাঁর জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, যা চরম অমানবিকতারই এক নিষ্ঠুর বহি:প্রকাশ। বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে হানিফ ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা। বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করে দিতেই আওয়ামী সরকার তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে নিষ্ঠুর ও অমানবিক পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার জীবন হুমকির মুখে থাকবে, আর দেশবাসী চেয়ে চেয়ে দেখবেন তা হবে না। কাল বিলম্ব না করে তাকে ইউনাইটেড বা অন্য কোনো বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে টালবাহানার পরিণতি ভাল হবে না।
রিজভী বলেন, ‹অভুক্ত রেখে, বিনা চিকিৎসায় ভোগাতে বেগম জিয়াকে কারাবন্দী রেখেছেন শেখ হাসিনা। কারাবন্দী বেগম জিয়ার ভাগ্য আদালতের ওপর নয়, নির্ভর করে শেখ হাসিনার মর্জির ওপর।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গণবিচ্ছিন্ন হতে হতে জনগণের কাছ থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সেজন্য একমাত্র পুলিশই আওয়ামী সরকারের ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশের শাসনভার শেখ হাসিনা একচেটিয়াভাবে ধরে রাখার জন্য ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই চালিয়ে এসেছেন মানুষ গুম, নরহত্যা, বিনা বিচারে আটক ও ক্রসফায়ার। বাংলাদেশ নামক ‘পুলিশ রাষ্ট্রটি’ এখন শাসিত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির দ্বারা যার ক্রোধানলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই দেশের নিয়ন্ত্রণ মজবুত রাখতে চাচ্ছেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর