Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

লক্ষ্য ১৫ লাখ কর্মসংস্থান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

দেশেই বিশ্বমানের মোটর সাইকেল তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে এ খাতে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে মোটর সাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৮ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৮ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন না দিয়ে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চারজন প্রকৌশলী মন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশীয় মোটর সাইকেল শিল্পের প্রসার ঘটাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে, যেন মোটর সাইকেল আমদানি করতে না হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান মোটর সাইকেল সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে এখানে বিশ্বমানের মোটর সাইকেল উৎপাদন কারখানা সৃষ্টিতে উৎসাহিত করা হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মোটর সাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান পাঁচ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ১৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচিব বলেন, নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন করে মোটর সেইকেল তৈরি বা সংযোজন যেটাই করা হোক, দেশীয় শিল্প কারখানার মাধ্যমে তা উৎপাদন করা হবে। যানজট ও চলাচলের সুবিধার কারণে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মোটর সাইকেলের জনপ্রিয়তা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। এর মধ্যে সরকার রাইড শেয়ারিং নীতিমালা অনুমোদন করার পর মোটার সাইকেলের বিক্রি বাড়ছে হু হু করে।
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজারের আকার কেমন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিদিন হাজারের বেশি মোটর সাইকেল বিক্রি হচ্ছে, যা পাঁচ বছর আগেও এর অর্ধেক ছিল। বর্তমানে দেশে প্রতি ১১৬ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় এই সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ানোর সম্ভাব বলে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ লাখ মোটর সাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নীতিমালায়। দেশে মোটর সাইকেল তৈরির পর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো সরবরাহ করা হবে। মোটর সাইকেল শিল্প থেকে বর্তমানে ডিজিপিতে অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে তা ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৮’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন না দিয়ে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার করা হবে। প্রকৌশল গবেষণার জন্য যেহেতু প্রতিষ্ঠানটা হবে সেজন্য আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চারজন প্রকৗশলী মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। তিনি বলেন, যেহেতু চারজনই প্রকৌশলী তাই উনারা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই সংস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়গুলো দেখবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটাকে চূড়ান্ত করবেন। কয়দিনের মধ্যে মন্ত্রীরা এই আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন তা বেঁধে দেয়া হয়নি।
শিশু একাডেমি আইন চূড়ান্ত অনুমোদন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে শিশু একাডেমি পরিচালতি হচ্ছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সামরিক শাসনামলে প্রণীত আইন ও অধ্যাদেশগুলো নতুন করে বাংলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন আইনে ১৯ সদস্যের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। একাডেমির নির্বাহী প্রধানের পদকে পরিচালক থেকে উন্নীত করে মহাপরিচালক করা হচ্ছে। শফিউল আলম বলেন, এতদিন শিশু একাডেমির চেয়ারম্যানকে সরকার নির্দিষ্ট কিছু শর্তে নিয়োগ দিত। নতুন আইন পাস হলে প্রথিতযশা শিশু সাহিত্যিক, স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ বা সাহিত্যিকদের একজনকে চেয়ারম্যান করা যাবে।
রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক
এদিকে একাত্তরের বীরাঙ্গনা ও লেখক রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতেই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন এলাকার রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী রমা চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয়, ধর্ষণের পর তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ মে তিন শিশু সন্তান নিয়ে বোয়ালখালীর পোপাদিয়ার গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন রমা চৌধুরী। এ সময় তার স্বামী ছিলেন ভারতে। ওই ঘটনার পর থেকেই খালি পায়ে হাঁটেন রমা চৌধুরী। রমা চৌধুরীর দুই সন্তান সাগর (৫) ও টগর (৩) এই ঘটনার দুই বছরের মধ্যেই মারা যান। তার আরেক সন্তান মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। রমা চৌধুরী ’৭১ এর জননী’, এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’ ভাব বৈচিত্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৯টি বই লিখে গেছেন। নিজের লেখা বই নিজেই তিনি বিক্রি করতেন। উল্লেখ ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রমা চৌধুরী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ