Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে পদ্মা

সর্বস্ব হারিয়েছে নড়িয়ায় ৪ হাজার পরিবার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

মাদারীপুরেও শুরু হয়েছে ভাঙন
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি

পদ্মার ভাঙনে গত এক সপ্তাহে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চার শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মার ভাঙনে অন্তত ৩টি ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে বেশ কয়েকটি বাড়ি বাঙনের কবলে পড়েছে।
শরীয়তপুরে অব্যাহত ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এসব এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবার সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
স্থানীয়রা জানান,নদী ভাঙনে স্থানীয় সাধুর বাজার ও ওয়াপদা বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মুলফৎগঞ্জ বাজারের দুই শতাধিক দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার মুলফৎ বাজার, চর জুজির গাঁও, দাসপাড়া, উত্তর কেদারপুর এলাকার ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ঘরবাড়ির পাশাপাশি রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট এবং বিভিন্ন বড় বড় স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুলফৎগঞ্জ বাজারের আরও আট শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিচ্ছেন।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাসপাতাল মসজিদের একাংশ ইতোমধ্যে গ্রাস করে নিয়েছে নদী; এখন হাসপাতালটিও ভাঙনের মুখে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, পদ্মার ভাঙনে তারা সব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করলেও সরকারি কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। সাহায্য যা এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, গত ২/৩ দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিবচরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে ৩টি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক ঘর বাড়ি । ভাঙ্গন আক্রান্তরা ঘরবাড়ি নিয়ে অন্যত্র কোনমতে চলে যাচ্ছেন। এনিয়ে চলতি বছর ৩/৪ সপ্তাহের ব্যবধানে এ ৩ ইউনিয়নে ৪ টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫ শতাধিক ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে গ্রামীনফোনের টাওয়ারসহ শত শত ঘরবাড়ি, ব্রীজ , কালভার্ট, স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা।
ভাঙ্গনের তীব্রতা এতই যে আক্রান্তরা গাছ গাছালি এমনকি ঘরও রেখে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। হুমকিতে রয়েছে চরজানাজাতে সোলার প্যানেল চালিত গ্রামীনফোন টাওয়ার,ব্রীজসহ শত শত ঘরবাড়ি। গত ৩/৪ সপ্তাহে ৪টি বিদ্যালয় ভবন,৫শতাধিক ঘরবাড়িসহ চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,কমিউনিটি ক্লিনিক,খাসেরহাটের অর্ধশত দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হলো। চরজানাজাত ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্কুল চরজানাজাত ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, আঃ মালেক তালুকদার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২ নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্কুলগুলো অন্যত্র সরিয়ে কোনমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, গত ২/৩দিনে শিবচরের চরাঞ্চলে পদ্মা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। এনিয়ে চলতি বছর ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, ৪টি স্কুল,ইউনিয়ন পরিষদ,হাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) থেকে জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চর বয়ারমারী আমিন পাড়া গ্রমের ৩৫ টি বাড়ী ঘর বিলীন ও ১৫ টির অধিক বাড়ীঘর আংশিক ভাঙ্গনের ফলে বিলিত হতে বসেছে। এতে করে ওই গ্রামের বসবাসকারী লোকজন ভাঙ্গনের আতংঙ্কে দিনরাত যাপন করছে। গরু, ছাগল, হাস-মুরগী ধানসহ অন্যান্য গবাদি পশু সরাতে পারলেও অন্যত্র খোলা আকাশের নিচে বসাবস করায় চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন । চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য মাসুদ রানা উজ্জ্বল বলেন, গত টানা ১৫ দিনে পদ্মার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে চর বয়ারমারী আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫ টি বাড়ীঘর পুরোটাই পদ্মায় ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেছে। ১৫ টির অধিকবাড়ী বিলিনের পথে রয়েছে। যে হারে পদ্মার পানি অব্যাহত রয়েছে তাতে করে যে কোন সময় ওই গ্রামটি বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে জানান। শুধু বাড়ী ঘর না এইগ্রামের একটি বড় জামে মসজিদ ও প্রায় ৫০ বিঘার আবাদি জমি পদ্মার বুকে চলে গেছে। ফলে গ্রামটির ৫০টির অধিক পরিবারের প্রায় ৩০০ জন লোক চরম আতঙ্গের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে ভেঙ্গে পরেছে স্যানেটেশন ব্যবস্থা। টিউবওয়েল গুলো পানিতে ডুবে ও পদ্মায় নিয়ে চলে যাওয়াতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব রয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন জানান, হঠাৎ পদ্মার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধির ফলে সব কিছু বিলীন হয়ে গেছে। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিনপার করতে হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শিমুল আকতার বলেন, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বন্যার কথা অবগত হয়েছি। চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্থদের সঠিক তালিকা করতে বলেছি এবং তাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর