Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২২ মে ২০১৯, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম সঙ্কট

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

পণ্যের সাময়িক মজুদ ব্যাহত
চাহিদার তুলনায় ৪০ ভাগই কম


চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে। কন্টেইনার ওঠানামা এবং মজুদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। কিন্তু সাধারণ খোলা পণ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে তা সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। বন্দরে অপরিহার্য অবকাঠামো সুবিধা হিসেবে বন্দরের ভেতরে এবং বাইরে কাছাকাছি জায়গায় খাদ্যশস্য ও বিভিন্ন মালামালের গুদাম খুবই অপ্রতুল। অন্যদিকে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে কন্টেইনার মজুদের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খোলা সাধারণ কার্গোর পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ গুদাম সুবিধা হ্রাস পাওয়ার কারণে খাদ্যশস্য, রাসায়নিক সার, বিভিন্ন শিল্প-কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, শস্যবীজসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসামগ্রীর ট্রানজিট মজুদ ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দরে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কার্গো ওঠানামা হয়েছে ৯ কোটি ২৯ লাখ ২৩ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় তা বেড়েছে এক কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৭০৯ মেট্রিক টন। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। প্রতিবছরই কন্টেইনারের সমানতালে বন্দরে সাধারণ খোলা কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে বন্দরের ভেতরে-বাইরে গুদাম সুবিধা হ্রাসের কারণে আপৎকালীন পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ তথা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। খাদ্যশস্য ছাড়াও কৃষি-খামারে অত্যাবশ্যকীয় শস্যবীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দ্রব্য এবং বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য মজুদ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য বিনষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়তই। জরুরি খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচিত বিষয়। সেখানে বন্দরের অবকাঠামো সুবিধা তথা গুদাম সঙ্কুচিত হওয়ার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানামুখী সমস্যা।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, বীজ, সারসহ নিত্যপণ্য মজুদের জন্য ট্রানজিট গুদাম, শেড বা ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অন্তত ৪০ ভাগ অপর্যাপ্ত। তাছাড়া বন্দরের আশেপাশে খাদ্যশস্য ও বীজের গুদামের অধিকাংশই পুরনো, জরাজীর্ণ। দায়সারা মেরামতে পণ্য মজুদ করা হচ্ছে। নতুন গুদাম তৈরির উদ্যোগ নেই। এর পরিবর্তে কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মিত হচ্ছে বন্দরের এবং বেসরকারি উদ্যোগে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভেসেল থেকে ছোট ছোট লাইটারেজ কার্গো জাহাজযোগে মালামাল লাইটারিং করে ঘাটগুলোতে আনা হয়। সেখান থেকে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবাহিত হওয়ার আগে সাময়িক সময়ের জন্য ট্রানজিট গুদামে মজুদের জন্য গুদামের জায়গা সচরাচর পাওয়া যাচ্ছে না। আবার গুদাম, শেড অপ্রতুল থাকার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সৃষ্টি করছে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রীর কৃত্রিম সঙ্কট।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিমাসে গড়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন হিসাবে বার্ষিক অন্তত দেড় কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি আমদানি-রফতানিমুখী খাদ্যশস্য, বীজ, নিত্য ও ভোগ্যপণ্য, শিল্প কাঁচামাল খালাস করা হয়। বন্দরের জেটি-বার্থ থেকে সরাসরি (হুক পয়েন্ট) ডেলিভারি পরিবহন সচল রাখার জন্য বন্দরের খুব কাছাকাছি ট্রানজিট গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব পণ্যসামগ্রীর মজুদ সুবিধা থাকা অপরিহার্য। ট্রানজিট গুদাম থেকেই চাহিদামাফিক দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক ও রেল ওয়াগনে পণ্য পরিবহন সুবিধাজনক।
তারা অভিযোগ করেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শী, অসম নীতির কারণেই বন্দরে ট্রানজিট গুদাম অবকাঠামো সুবিধা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে করে খোলা সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল তেমন কমছে না। বেড়েছে জাহাজের পরিচালন ও বন্দর ব্যয়। বাড়তি ব্যয়ের খেসারত দিতে হচ্ছে ভোক্তা সাধারণকে।
বন্দরের আশপাশে ট্রানজিট শেড, গোডাউন বা ওয়্যারহাউস সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা সহজতর হবে। সারাদেশে খাদ্যশস্য, কৃষিবীজ ও নিত্যপণ্যের জোগান, বাজারজাত প্রক্রিয়ায় একটি সরবরাহ চেইন বজায় থাকবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম বন্দর

১২ আগস্ট, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ