Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সীমান্ত সুরক্ষায় ভারত-মিয়ানমারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে-ডিজি বিজিবি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১:০১ এএম

নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ভারত ও মিয়ানমারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সতর্কাবস্থায় রয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে তারা। গতকাল সোমবার দুপুরে পিলখানার বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ডিজি পর্যায়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলন বৈঠকের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিষয় জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এসময় দেশে যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না হয়, সেজন্য সরকারি নিদের্শনা মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সরকার চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে।
সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার যে আদেশ করবে বিজিবি সে আদেশ মোতাবেক কাজ করবে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি আমাদের এই দায়িত্ব পালন করতে হয়। নির্বাচনকালীন সীমান্ত যেন সুরক্ষিত থাকে সেজন্য আমরা ভারত ও মিয়ানমারের দুই বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে যেন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া যায় সেজন্য আলোচনা করেছি। কারণ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে হলে আমাদের জনবল ভাগ হয়ে যাবে। ফলে তখন আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত যাতে সুরক্ষিত থাকে সেজন্য সহযোগিতা চেয়েছি। সীমান্ত সম্মেলনে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিজিবি ডিজি।
মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, মাদক পাচারকারীরা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এমনভাবে ইয়াবা পাচার করছে তা কল্পনাতীত। মহিলারা যদি নিজেদের গোপনাঙ্গে ইয়াবা নিয়ে আসে তাহলে সেটা কীভাবে ধরব? ডাবের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে আসে, সবজির মধ্যে ইয়াবা নিয়ে আসে। তারপরেও আমরা ধরছি। না ধরলে এগুলো জানলাম কীভাবে?
সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে বিজিবি প্রধান বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় ও মিয়ানমার সীমান্ত বাহিনীর সাথে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। ২০০১ সালে সীমান্তে ৭১ জন, ২০১০ সালে ৬০ জন, ২০১৫ সালে ৪৫ জন, ২০১৬ সালে ৩১ জন, ২০১৭ সালে ৫ জন এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১ জন নিহত হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, আমাদের চেষ্টা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে। আশা করছি, এটা সামনের দিনগুলোতে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। ২০০১ সাল থেকে গত তিনটি সরকারের আমলেই সীমান্তে এক হাজার ৭৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ