Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর ঐক্য গঠনের পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১:০১ এএম

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে যৌক্তিক ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের পরামর্শ দিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যানেরা। তারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় তথা রাজনৈতিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সাথে মতবিনিময়কালে এই পরামর্শ দেন তারা। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে রাত সোয়া ৯টায় শেষ হয়। তবে এই বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি।
বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দলের নীতি-নির্ধারকদের সাথে ভাইস চেয়ারম্যানদের মতবিনিময়কালে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা, আগামী নির্বাচন, আন্দোলন, জাতীয় ঐক্য, নেতা-কর্মীদের মামলা ও গ্রেফতারের প্রসঙ্গসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ইস্যুত ভাইস চেয়ারম্যানেরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের পরামর্শ-প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারকরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে করণীয় চ‚ড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে দলীয় বিভিন্ন ফোরামের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সাথেও মতবিনিময় করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। এর অংশ হিসেবে এই মতবিনিময়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানেরা সঙ্কট উত্তোরণে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় আজ কারাগারে বন্দি। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি জানানো হলেও সরকার তাতে ঠিক সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে সরকারের বাইরে থাকা প্রায় সকল রাজনৈতিক দলই সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে। বিএনপির অনেক দাবির সাথে তারাও একমত। এদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একই প্লাটফর্ম থেকে দাবি জানাতে পারলে সরকার তা অগ্রাহ্য করতে পারবে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় তথা রাজনৈতিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম, জেএসডির মতো দল ও জোটগুলোর তেমন জনসমর্থন না থাকলেও তাদের নেতাদের দেশ-বিদেশে ইতিবাচক ইমেজ রয়েছে। তাই দাবি আদায়ে সরকারি জোটের বাইরের সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে যৌক্তিক ছাড় দিতে হবে। ভাইস চেয়ারম্যানেরা বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আমাদের আন্দোলনেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে ছিলেন-আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল মান্নান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ প্রমুখ। একইস্থানে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সাথে মতবিনিময় করবে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম-মহাসচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ