Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া মস্কোর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:৫৪ পিএম | আপডেট : ৪:৪০ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া। এক সপ্তাহব্যাপী এ মহড়ায় চীন ও মঙ্গোলিয়ার সৈন্যসহ প্রায় তিন লাখ সৈন্য অংশ নিয়েছে। পেন্টাগন এই মহড়াকে ‘যুদ্ধ খেলা’ বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, তারা পুরো সময় এর উপর নজর রাখবে।
সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠেয় এ মহড়ার নামকরণ করা হয়েছে ‘ভস্তক-২০১৮’ (পূর্ব-২০১৮)। ন্যাটো এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বড় ধরনের সংঘর্ষের মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। মহড়াটি এমন এক সময় করা হচ্ছে যখন মস্কোর সাথে পশ্চিমাদের ইউক্রেন ও সিরিয়া নিয়ে উত্তেজনা চলছে। রাশিয়া এই মহড়াকে ১৯৮১ সালের তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের আয়োজিত ‘জাপাদ-৮১’ (পশ্চিম-৮১) সামরিক মহড়ার চেয়েও বড় হিসেবে বর্ণনা করেছে। সে সময়ে ওয়ার’শ জোটের এক থেকে দেড় লাখ সেনা তাতে অংশগ্রহণ করেছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শুইগো বলেছেন, এবারের সামরিক মহড়াটি অনেক বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সংযোজিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগুলো পরীক্ষা করা হবে। যার মধ্যে থাকবে পরমানবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নতুন ‘ইসকান্দার’ মিসাইল, টি-৮০ ও টি-৯০ ট্যাংক ও সর্বশেষ সংযোজিত এসইউ-৩৪ ও এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
রাশিয়ার সেনা প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরামিসোভ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এবং বুধবার সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা এবং প্রস্ততি চলবে। মূল মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। পাঁচদিনব্যাপী এই মহড়ায় তিন লাখ সেনা, ৩৬ হাজার সামরিক যান, এক হাজারের বেশি যুদ্ধ বিমান ও ৮০টি যুদ্ধ জাহাজ অংশ নেবে। ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর এই বৃহত্তম সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
রাশিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের উত্তরের বিতর্কিত দ্বীপ কুরিলের কাছে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে না। রাশিয়ার তিন বাহিনী এই মহড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দূর প্রাচ্যের শহর ভলাদিভস্তকে আয়োজিত ইকোমিক ফোরামে অংশ নেয়ার পর এই মহড়ায় যোগ দেবেন। ইকোনমিক ফোরামে অন্যতম অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
এর আগে শীতল যুদ্ধের সময় রাশিয়া এ ধরনের সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছিল ১৯৮১ সালে। সূত্র- এএফপি, সিএনবিসি।



 

Show all comments
  • মাহবুব ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:৪০ এএম says : 0
    এখানে আপনি আপনার মন্তব্য করতে পারেন এটা প্রস্তুতি ও বার্তা। এতদিন মেরামত পর্বে ছিল ।আমেরিকা যুদ্ধে ব্যস্ত ছিল । বিশ্ব রক্তার্ত হলো,নিরাপত্তাহীনতা জেঁকে বসল,মার্কিন নিন্দা প্রবল হলো,সঠিক সময় গর্জে উঠছে রাশিয়া ।অনেক মুসলিম দেশের শাসক ,ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সাথে দোস্তি করতে অপেক্ষমান ।রোহিঙ্গা,আফগান,সিরিয়া ,ই্যসূতে রাশিয়া ,মনে হয় ফিরিশতার মত নিঃষ্পাপ ? ন্যায় বিচার অবলম্বন না করে,সুযোগ বুঝে ,দুর্বলদের ব্যবহার করে,আত্মস্বার্থ রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়েে বিশ্বের নব মোড়ল হবার খায়েশ আংশিক পূরণ করা যাবে হয়ত বটে ।কিন্তু রক্ত গঙ্গা সৃষ্টি করে,এই অস্ত্র প্রযুক্তির উৎকর্ষতা তাকে কতটুকু সুরক্ষা করবে,আগামী পৃথিবী তা,দেখবে ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ