Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

হাতিরঝিলের মূল নকশা ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে

| প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

রাজধানীর হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ির পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প এলাকায় গড়ে ওঠা নকশা বহিভর্‚ত ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এ সংক্রান্ত একটি রীট পিটিশনের শুনানী শেষে গত সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি হাফিজুল আলমের বেঞ্চ পরবর্তী ৭ দিনের সময় দিয়ে হাতিরঝিলের অবৈধ ও নকশাবহির্ভ‚ত স্থাপনা অপসারণের রুলসহ এই নির্দেশ জারি করেন। হাতিরঝিল বেগুনবাড়ি প্রকল্পের মূল নকশা রক্ষায় প্রজেক্টস প্ল্যান বহির্ভ‚ত স্থাপনা অপসারণে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না মর্মে রুলের জবাব দিতে পূর্ত সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা, রাজউক চেয়ারম্যান, ডিএমপি কমিশনার, হাতিরঝিল থানার ওসি ও প্রকল্প পরিচালককে পরবর্তী চার সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য হাতিরঝিল বেগুনবাড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উন্নয়নকৃত এলাকায় নকশা বহির্ভূত নানা স্থাপনা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করে। পাঁচ বছরের মধ্যেই দর্শনীয় হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকা তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে। সেই সাথে এ এলাকায় মাদক ব্যবসা, অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডের মুক্ত এলাকা হয়ে উঠেছে। প্রকল্পের নকশা বহির্ভ‚ত অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ এবং আইনশৃঙ্খলা ও অসামাজিক তৎপরতার বিস্তার থেকে বোঝা যায় প্রকল্প ও নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা দায়িত্বহীন ভ‚মিকায় ছিলেন। অবশ্য প্রকল্প ঘোষণার আগে থেকে অবস্থিত একটি কাঁচা মসজিদ নান্দনিকভাবে নবনির্মাণের দাবি উপেক্ষা করে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ভেঙ্গে দিয়েছে।
মেগাসিটি ঢাকার যানজট নিরসন, সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশগত উন্নয়নে সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে হাতিরঝিল প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে অগ্রগণ্য ও প্রশংসনীয়। যেখানে ঢাকার যানজট ও নাগরিক সমস্যা নিরসন এবং পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত অনেক প্রকল্পই সাফল্যের মুখ দেখেনি সেখানে সেনাবাহিনীর এসডবিøউও বা স্পেশাল ওয়ার্ক্স অর্গানাইজেশনের তত্ত¡াবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকা অল্পদিনের মধ্যেই নগরীর মানুষের কাছে একটি নতুন দর্শনীয় ও বেড়ানোর মনোরম স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবকাঠামো ডিজাইন মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই দখলদারিত্বের হুমকির মুখে পড়েছে। প্রায় পৌনে তিনশ একর অধিগ্রহণকৃত ভ‚মির উপর ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হাতিরঝিল বেগুনবাড়ি প্রকল্প এলাকার মূল নকশা কয়েক বছরের মধ্যেই বিকৃত রূপ লাভ করেছে। ইতোমধ্যেই প্রকল্প এলাকায় অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা’ এই প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে নগরবিদদের শংকিত করে তুলেছে।
রাজধানীসহ সারাদেশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাস্তবায়নের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় নজরদারী ও রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির শিকার। যমুনা বহুমুখী সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, মগবাজার ফ্লাইওভারসহ সাম্প্রতিক সময়ের সবগুলো প্রকল্পেই এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয়ে আমরা সর্বনি¤œ মানের অবকাঠামো নির্মাণ করছি। আবার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অল্পদিনের মধ্যেই তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকির মুখে পড়ছে। সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্ক্স বিভাগের তত্ত¦াবধানে বাস্তবায়িত হওয়ায় হাতিরঝিল প্রকল্প গতানুগতিক দীর্ঘসুত্রিতা ও অপচয়ের কবলে পড়েনি। তবে নগর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর থেকে এই প্রকল্পের নান্দনিক সৌন্দর্য ও এখানকার জননিরাপত্তা ক্রমশ হুমকির মুখে পড়তে শুরু করে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, বর্জ্য অপসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বৃত্তাকার নৌপথ চালুর মত প্রকল্পগুলো বিলম্বিত ও ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও সাম্প্রতিক। কোন কোন ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। হাতিরঝিলে তেমন ব্যর্থতা ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে টালবাহানার পুনরাবৃত্তি নগরবাসী দেখতে চায় না। নকশা বহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি হাতিরঝিলের রাস্তা, ওয়াকওয়ে, ব্রিজ ও উন্মুক্ত স্থানগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও সুগম রাখতে হবে। সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র ও মাদক বিক্রেতারা হাতিরঝিলকে নিরাপদ জোন হিসেবে বেছে নিয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে হাতিরঝিল প্রকল্পের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা রক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মহল ত্বরিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ