Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ভেজাল বীজধানে কৃষকের সর্বনাশ

আমতলী (বরগুনা) থেকে তালুকদার মো. কামাল | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

উপক‚লীয় জেলা বরগুার তালতলীতে বীজ ধানের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ভেজাল ও স্থানীয় বীজ সরবরাহ করে শত শত কৃষকের সর্বনাশ করার ঘটনায় অভিযুক্ত তোফায়ের প্যাদার ও গণি প্যাদা স্বীকারোক্তি। উপ-পরিচালকের চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিএডিসির প্যাকেটজাত ধানের বীজের প্যাকেটে জাত পরিবর্তন করা, কাটা ছেড়া করে মেয়াদোত্তীর্ণ, অন্যজাতের স্থানীয় বীজধান প্যাকেটে ভরে কৃষকের সর্বনাশ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে।
কৃষকের অভিযোগ, বিএডিসির সরবরাহ করা বীজধানের তীব্র সঙ্কটকে পুঁজি করে গণি প্যাদা ও তোফায়েল প্যাদার একটি প্রতারকচক্র পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বোরো মৌসুমে ব্রি-২৮ জাতের ধানের বীজের প্যাকেটে ব্রি-৪৯ জাত লিখে বাজারে ছাড়ে। যা ছিল ২০১৬ সালের পুরনো বীজধান। এ বীজধানের তৈরি বীজতলায় চারা রোপণ করার ১৫-২০ দিনের মধ্যে ধানের ছড়া-থোঁড়সহ ধানের শীষ বের হতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয় ঋণগ্রস্ত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। বরগুনার তালতলী উপজেলার হেলাঞ্চাবাড়িয়া, গাববাড়িয়া, ছোটবগী, মৌপাড়া, জাফোড়িয়াকান্দা, বেহেলাসহ ছয়-সাতটি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক কৃষক এ ক্ষতির সম্মুখীন হন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালতলীর পিকে স্কুল সংলগ্ন গণি প্যাদা ও তোফায়েল প্যাদা বীজধান বিক্রেতা এক কেজি ওজনের প্যাকেট এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি করে। প্রতারিত কৃষকেরা প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকেন। এসব অসাধু ডিলার ও সাব-ডিলারদের বিরুদ্ধে এলাকায় এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই।
বিএডিসির অসাধু কর্মচারীদের যোগশাজসে বিভিন্ন বীজের সীলমারা খালি প্যাকেট সংগ্রহ করে ঘরে বসে ও নিজ দোকানে বসে প্যাকেটের গায়ে ধানের জাতের নাম ব্রি-২৮ কেটে ব্রি-২৩ ধান লিখে, প্যাকিংয়ের ওভারাইটিং করে ২ অক্টোবর ২০১৮ করা হয়েছে। এভাবে স্থানীয় ডিলার সেজে এবং খুচরা বীজ বিক্রেতারা কৃষকদের বিএডিসির সঠিক বীজ না দিয়ে বিভিন্ন নিম্নমানের ও পুরনো বোরো মৌসুমের স্থানীয় নিম্নমানের বীজ বিক্রয় করে। আমন চাষের মৌসুমে আমনের ক্ষেতে ফলানো বীজকে বিএডিসির সীল দিয়ে ব্রি-২৩ ধান বলে চড়া মূল্যে বিক্রি করে কৃষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম বলেন, কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেই বিক্রেতা তোফায়েলের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, স্যার আমার ভুল হয়েছে। তার দোকান থেকে বীজের খালি প্যাকেট জব্দ করে নিয়ে আসেন। কৃষি কর্মকর্তা তিন-চার দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং বীজ বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র জানান, এখানে কোনো মামলা হয়নি, এটা আমার জানা নাই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।