Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

জাবিতে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চলছে শিক্ষকদের ‘নোংরা’ রাজনীতি

জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

জাবি সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে শিক্ষক রাজনীতির যাতাকলে বন্ধ রয়েছে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা। ঠুনকো অযুহাতে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে অঘোষিতভাবে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না বিভাগের শিক্ষকদের বেশিরভাগ অংশ। শুধুমাত্র তিনজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। ফলে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ ‘নোংরা’ রাজনীতিতে জিম্মি হয়ে ছাত্রজীবন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন বিভাগের প্রায় সাড়ে তিনশ’ শিক্ষার্থী। ঝুলে রয়েছে বিভাগের ৪২ ব্যাচের স্নাতকোত্তরের চুড়ান্ত পরীক্ষা।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভাগটির কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকরা নিজেরা দ্বন্দে লিপ্ত হয়ে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছেননা। এভাবে চলতে থাকলে আমরা দীর্ঘ সেশন জটে পড়ে যাব। আমরা আশা করছি শিক্ষকরা শিগগিরই একটি সমাধানে এসে ক্লাসে ফিরে আসবেন। আমাদেরকে আর ক্ষতিগ্রস্থ করবেননা।’
এদিকে বিভাগটির আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ‘তাদের দাবি অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করলেই তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন। আর নয়তো তারা তাদের কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন।’
এ বিষয়ে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনায় বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মো. মনজুরুল হাসান। দীর্ঘ দিন পর তিনি সভাপতি হয়ে, বিভাগীয় শিক্ষকদের ওপর প্রতিশোধ পরায়ণ আচরণ শুরু করে একাডেমি সভা ডাকছেন না। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত একটি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা। কিন্তু সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পরে তিনি এখনো কোন সভা ডাকেনি। যার কারণে বিভাগের শিক্ষকদের নতুনভাবে কোর্স বন্টন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া ২০১৮-১৯ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।’
তবে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনজুরুল হাসান বলেছেন, ‘বিভাগটির উইকেন্ড মাস্টার্স কোর্সের অর্থিক লেনদেনে একটি ফাইলে গড়মিল রয়েছে। তাই তিনি ওই ফাইলটি সাক্ষর করেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত আছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষকরা যে ক্লাস-পরীক্ষা নিবেন না, সেটা আমাকে তারা লিখিতভাবে জানায়নি। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে যদি শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা না নেয় তবে সেটা হবে অমানবিক। তিনি আরো বলেন, আমি বিভাগের সব কিছু বুঝে ‘যৌক্তিক সময়ে’ একাডেমিক সভা আহবান করবো।’
বিভাগটির শিক্ষকদের এমন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বিভাগের গিয়ে ক্লাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন- শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার না হয়।’
এদিকে জানা যায়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষকদের এই কোন্দল শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের শেষের দিকে। তখন বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক মনজুরুল হাসান। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি পরীক্ষা শুরু করতে না পারায় তাকে অপসারণ করা হয়। এতে মনজুরুল হাসান বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। আর এ ঘটনায় বিভাগীয় সভায় তাকে ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভাগের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অধীনে একটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করে প্রশাসন। জানা যায়, এই স্ট্রাকচারাল কমিটি কোন কার্যকরী তদন্ত ও প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
কমিটির তদন্ত চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ অ্যাক্টের ৯(১) ধারা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর অধ্যাপক মনজুরুল হাসানের ওপর বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব আসে। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়াধীন থাকায় তাকে এ দায়িত্ব না দিয়ে অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির দায়িত্ব না পেয়ে অধ্যাপক মনজুরুল ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর ‘কেন তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবেনা’ জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এই রিটের আলোকে গত ২২ জুলাই অধ্যাপক মনজুরুলকে সভাপতির পদে দায়িত্ব দিতে হাইকোটের্র একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা অনুসারে গত ২৬ জুলাই তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এভাবে সভাপতি হওয়ার পর থেকে তার সাথে মতের মিল হচ্ছিলোন বিভাগের বেশিরভাগ শিক্ষকের। তারা সভাপতির নিকট একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকার দাবি জানান। কিন্তু সভাপতি সভা না ডাকায় বিভাগের তিনজন শিক্ষক ছাড়া বাকি সবাই ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত আছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ