Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

রিজার্ভের টাকা উদ্ধারে মামলার পথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:২৬ এএম

রিজার্ভের টাকা উদ্ধারে এবার আদালতে মামলার পথে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে তিনি এই নির্দেশ দেন। যদিও কয়েকমাস আগ থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করার ঘোষণা দেয়। কারণ ঘটনার ৩ বছরের মধ্যে মামলা করার তাগিদ রয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। তাই রিজার্ভ চুরির হোতা নির্দিষ্ট হওয়ায় মামলার বিষয়টি ত্বরান্বিত হলো। 

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুত্র মতে, নির্বাচনের আগেই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করা হতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হচ্ছে। মামলা হলে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে নিয়ে যাওয়া এই অর্থ উদ্ধার করে দ্রুত ফেরত আনা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম মামলার সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখনো জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এক হ্যাকারের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশের চুরি যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। যদিও এর আগে বাংলাদেশ আশাবাদী হয় ফিলিপাইনের আদালতে দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার স্ট্রিট শাখার সাবেক ম্যানেজার মায়া দেগুইতোর বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস শুরু হওয়ায়।
বিএফআইইউ সূত্র মতে, গত ৫ জুলাই ফিলিপাইনের আদালতে যে তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়েছে, সেখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ এফবি আইয়ের তদন্তেও হ্যাকিং প্রমাণিত হয়েছে। এফবিআই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। ফলে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনা আরও বাড়লো। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের অর্থ চুরি হয়েছিল, এজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইও এই ঘটনার তদন্ত করছে। এদিকে এফবিআই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ গঠনের নির্দেশই দেয়নি, তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। কারণ, পার্ক জিন একটি বড় হ্যাকার চক্রের সঙ্গে জড়িত।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পার্ক জিন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ ছাড়াও ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে যে সাইবার হামলা হয়েছিল, সেটি তাদের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালে সনি করপোরেশনের ওপর সাইবার হামলার পেছনেও তারা ছিল। এরপর ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাইবার হামলার পেছনেও এই চক্র জড়িত ছিল। ল্যাজারাস গ্রুপ নামে পরিচিত পার্ক জিন। গ্রুপটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন করপোরেশনকে টার্গেট করেছিল। কিন্ত সফল হতে পারেনি। পার্ক জিন গ্রুপের সাইবার হামলায় ব্রিটেনের একটি কোম্পানি অচল হয়ে পড়েছিল। চীনা কোম্পানি চুসান এক্সপোর আড়ালে পার্ক জিনের হ্যাকার গ্রুপটি কাজ করতো। ওই চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির কাছে আছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলমান। সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে গিয়েছিল দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। আর কিম অং ক্যাসিনোতে যাওয়া দুই কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ফেরত আনা গেছে। তবে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলারের ট্রেস করা যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ