Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিরোধী দল দমনে সরকারের নতুন ফন্দি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

বিরোধী দল দমনে সরকার ও পুলিশ নতুন ফন্দি অবলম্বন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মৌখিক অনুমতি দেয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে নোতকর্মীদেরকে গ্রেফতারের এক নতুন স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করেছে সরকার। অর্থাৎ অনুমতির কথা শুনে নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে কর্মসূচির জন্য এক জায়গায় জড়ো হবে, আর সেই সুযোগ পুলিশ অনায়াসেই তাদেরকে ধরতে পারবে। এটি আসলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে ধরতে পুলিশের একটি নতুন ফাঁদ। গতকাল (বুধবার) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের পর যেভাবে পুলিশ গ্রেফতার তান্ডব চালিয়েছে গতকাল অনশন কর্মসূচি শুরু ও শেষে রাস্তা অবরোধ করে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের নির্বিচারে গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, দখল ও সন্ত্রাসের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশ জনশূণ্য করার জন্যই পুলিশকে অবাধ কর্মকান্ডের সনদ দিয়েছে। সরকার দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর করছে। আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক চরিত্রই হচ্ছে হানাদারী আচরণে জনঅধিকার কেড়ে নেয়া। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের বাহিনী না বানিয়ে সবচেয়ে নিম্নমানের দাসত্বের তকমা ঝুলিয়ে দিয়েছে সরকার। পুলিশী গ্রেফতারের এই অবাধ কর্মকান্ডে জনগণের পুঞ্জীভ‚ত মধ্যকার নীরব ক্ষোভ প্রশমিত হবে না, বরং তা আগ্নেয়গিরির মতো উদগীরণ হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অবৈধ সরকার দেশকে অতি দ্রুত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একের পর এক চক্রান্তমূলক পরিকল্পনা আঁটা হচ্ছে সেইসব বৈঠকে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে-অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী দলের অস্তিত্ব সর্বোপরি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের জন্য মহা লজ্জার দৃষ্টান্ত তৈরী হবে। আওয়ামী সরকার এখন প্রান্ত বেলায়। খাদের কিনারে পতনের শংকায়। সেজন্য তারা শেষ ভরসা করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। কিন্তু এই ভরসায় তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। ক্ষমতার কানেকশন বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাথে থাকবে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জানান, গতকাল প্রতীকী অনশনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে দেড় শতাধিক ও সারাদেশে আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ