Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছেই

সাখাওয়াত হোসেন | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের (৬১) কোন হদিস মিলেনি নয় মাসেও। দীর্ঘ দিনেও কোন সন্ধান না পাওয়ায় এখন নিরাশ তার পরিবারের সদস্যরা। শুধু রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নন, অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার আশায় পথ চেয়ে আছেন কখন ফিরে আসবেন প্রিয় মানুষটি। আর একের পর এক নিখোঁজের ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে তালিকা। ঢাকা বারের আইনজীবী শওকত আকবর নিখোঁজ রয়েছেন ছয় দিন ধরে। সর্বশেষ গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজের সময় দেখা যায় মিরপুর-১০ নম্বরের এব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা শওকত আকবরকে। তারপর থেকে তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশের ধারণা জমিজমা নিয়ে দ্বন্ধের জেরে গুম হতে পারেন শওকত আকবর। তার চাচারা তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দিতেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী। গত বছরের ২৫ আগস্ট ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে নিখোঁজ হন কানাডার ‘ম্যাকগিল’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক আহমেদ (২০)। গত এক বছর ২০দিনে তার সন্ধান পায়নি পরিবার। ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় তিনি ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডির তদন্ত এখনও চলছে। গত বছরের ২ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গণিত বিষয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসি একরাম ফৌসিয়া ওই এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন ৩ জুলাই এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা এ কে এম ইকরাম উল্লাহ। ঘটনার এক বছর দেড় মাসেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। পরিবারও জানে না তিনি কোথায় আছেন।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, অপহরন বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের ব্যাপারে র‌্যাব কাজ করছে। সব সময় যে নিখোঁজের ঘটনা ঘটে তা নয়, অনেক সময় ব্যবসা বা টাকা পয়সা নিয়ে দ্বন্ধের কারনেও অনেকে আত্মগোপনে চলে যান বা নিখোঁজ হন। সব বিষয় মাথায় রেখেই র‌্যাব সারাদেশে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত বলেন, আমরা শিক্ষিকা ফেরদৌসি একরাম ফৌসিয়াকে এখনও হদিস পাইনি। আমরা খোঁজ করছি। এটা নিয়ে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন।
নিখোঁজ ইশরাকের বাবা জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এখন নিরাশ হয়ে গেছি। আমাদের যাবার মতো আর জায়গা নেই। আমি জানি না, আমার ছেলেকে কারা নিলো, কেন নিলো। তারাই বলতে পারবে। তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। বাসায় বসে কাঁদছি। এছাড়া আমাদের আর কিছু করার নাই। আমরা এখনও অপেক্ষা করছি। জিডির তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে আসলে কোনও অগ্রগতি নেই। জিডির তদন্ত কর্মকর্তাও পরিবর্তন হয়েছে। আগে যিনি ছিলেন তিনি ধানমন্ডি থানা থেকে বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে নতুন একজন এসআই তদন্ত করছেন। তিনিও কোনও তথ্য দিতে পারেননি। আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কোনও লাভ হয়নি।
সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান (৬১) গত বছরের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ২১৩) করেন। তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৮ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্র্রদূত ও যুক্তরাজ্যে কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি ধানমন্ডির বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ধানমন্ডির বাসা থেকে প্রাইভেটকারে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মেয়ে সামিহা জামান বিদেশ থেকে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। মেয়েকে আনতেই তিনি বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বিমানবন্দর যাননি, বাসায়ও ফিরে আসেননি। পরিবার তার কোনও খোঁজ না পেয়ে জিডি করেন। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন মারুফ জামানের ব্যক্তিগত গাড়িটি খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফিট সড়ক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিখোঁজ মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান বলেন, আমরা গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে বাবার কোনও তথ্য জানি না। তিনি কোথায় আছেন তা আমাদের জানা নেই। আমরা থানায় একটি জিডি করেছি। তবে বর্তমানে থানা পুলিশ আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করছে না।
ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা এখনও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ও ইশরাকের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করছি। এখনও কোনও আপডেট তথ্য নেই। সব ধরনের চেষ্টা চলছে।
নিখোঁজ আইনজীবীর স্ত্রী সানিয়া আক্তার গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্বামী ও ১০ মাসের একটি কন্যাসন্তানসহ আমি মিরপুরের বাসায় থাকি। আমার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন, ছিলেনও না। তবে গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে শওকতের বাবার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলী খোকন, শওকত আলী ওরফে বাবুল ও আমজাত আলী ওরফে বাদলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছে। তারা শওকতকে হত্যার হুমকিও দিতেন। হুমকির বিষয়ে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর পল্লবী থানায় একটি জিডিও করেন শওকত।
পল্লবী থানার এসআই আরিফ হোসেন বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি এখনও ক্লুলেস। তথ্য সংগ্রহ করে জড়িতদের গ্রেফতার ও ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।



 

Show all comments
  • Habib Rahman ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১১:৩৩ এএম says : 0
    government have a responsible to find out those who are disappointing. if government force did not find out them. there was huge question rising to Bangladeshi security force.
    Total Reply(1) Reply
    • Nannu chowhan ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৫:১১ পিএম says : 0
      You are right,about the disappearance Or cross fire government shouldn’t be silent or washing hand its unacceptable in the civilized world.

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ