Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

চলতি সংসদেই সড়ক আইন পাস করার আশা

ডিটিসিএ সভায় ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

চলতি সংসদেই সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস করিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগর ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সভায় আগামী রোববার এ আইনটি তিনি সংসদে উপস্থাপন করবেন বলেও জানান। এরপর এটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে। তারা যাচাই-বাছাই করবেন। পরে পার্লামেন্টের সর্বশেষ অধিবেশনে (অক্টোবরে) এটি পাস হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে অগাস্টের শুরুতে তড়িঘড়ি এ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে সরকার।
আন্দোলনকারীরা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদন্ডের দাবি জানালেও প্রস্তাবিত আইনে প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এক মতবিনিময় সভায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর-কিশোরীদের আন্দোলনকে স্যালুট জানিয়ে কাদের বলেছিলেন, তারা আন্দোলন করেছে বলেই আইনটা যেভাবেই হোক আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
কিছু কিছু জায়গায় সংশোধনের সুযোগ আছে; সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের মানুষের জন্য আইন যদি যুক্তিযুক্ত না হয় তাহলে আইন এর সুফল দেবে না।
গতকালের ডিটিসিএ সভায় মন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকবে। সামনে নির্বাচন, সব দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় যাবেন, সাংবাদিকরা যাবেন। ঢাকায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার গেটওয়ে গাজীপুর। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ওই রাস্তার দুর্ভোগ এড়াতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গাজীপুরে বিআরটির নামে রাস্তা বন্ধ করে খোঁড়াখুঁড়ি মোটেও এপ্রিশিয়েট করি না। যেহেতু এই কাজ শেষ করতে দেরি হবে, চার মাস পরে হলে কী হবে? রাস্তা খোঁড়াখুড়ি বন্ধ থাকলেও প্রকল্পের অন্য কাজ চলবে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার বিআরটি চালু হলে উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে চড়া শিশুদেরও হেলমেট পরা নিশ্চিত করতে সভায় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরার পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। এটা ইতিবাচক। তবে এটা শিশুদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে হবে। দুর্ঘটনায় পড়লে শিশুরাও যেন মারাত্মক ক্ষতির শিকার না হয়।
নাগরিকদের সচেতন করতে সেপ্টেম্বরজুড়ে ঢাকা মহানগরীতে বিশেষ ট্রাফিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কোনো মটরসাইকেল চালকের হেলমেট না থাকলে তার গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ না করতেও অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মন্ত্রী জানান, রাজউক থেকে ঢাকার পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে বাস ডিপো করতে ডিটিসিএ-এর নামে সাত একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রকিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সাভার, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী পৌরসভার মেয়র, পুলিশ, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা এ সভায় অংশ নেন। ###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ