Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

একেই বলে ভাগ্য!

নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

একেই বলে ভাগ্য! গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ খেলে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে সাফ সুজুকি কাপের সেমিফাইনালে এসেই বাজিমাত। টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোলশূণ্য ড্র করে এবারের সাফ মিশন শুরু হয় মালদ্বীপের। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে তারা ভারতের কাছে ২-০ গোলে হারলেও টসভাগ্যে লঙ্কানদের পেছনে ফেলে শেষ চারে জায়গা পায়। আর সেমিতে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বাজিমাত করে দ্বীপ দেশটি। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের বৃষ্টিভেজা মাঠে সাফ সুজুকি কাপের প্রথম সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। বিজয়ী দলের পক্ষে মিডফিল্ডার ইব্রাহিম ওয়াহেদ হাসান দু’টি ও আকরাম আব্দুল ঘানি একটি করে গোল করেন।
সাফে কখনোই নেপালের বিপক্ষে হারের রেকর্ড নেই মালদ্বীপের। তাই অনেকটা নির্ভার থেকেই কাল নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামে দ্বীপ দেশটি। তবে ম্যাচের অধিকাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি আক্রমণে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পারেনি নেপালীরা। বরং পাল্টা আক্রমণের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে দারুণ জয়ে সাফ সুজুকি কাপের ফাইনালে উঠে যায় মালদ্বীপ। এ নিয়ে সাফে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে জায়গা পেল ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা। তারা সর্বশেষ ২০০৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে খেললেও শিরোপা জিততে পারেনি। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় মালদ্বীপের।
কাল সাফ সুজুকি কাপের প্রথম সেমিফাইনালের আগে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এরই মধ্যে ম্যাচ শুরু হলে নেপাল-মালদ্বীপ দু’দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। তবে পরে বৃষ্টি বাড়লে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। ফলে ফুটবলাররা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি। শুরুতেই সুযোগ কাজে লাগায় মালদ্বীপ। ম্যাচের ৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। এসময় নেপালের ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় মালদ্বীপ। আকরাম আব্দুল ঘানি’র বাঁ পায়ের বাঁকানো ফ্রি-কিক ঠিকানা খুঁজে পেলে এগিয়ে যায় তারা (১-০)।
নেপালী ডিফেন্ডার সুমন আরিয়াল বল প্রতিহত করতে গিয়েও পারেননি। তার দু’পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে প্রবেশ করে। গোলরক্ষক কিরণ কুমার বোকা বনে যান। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন সুমন দলকে বিপদমুক্ত করতে পারবেন।
প্রথমার্ধের বাকিটা সময় চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি টুর্নামেন্ট থেকে স্বাগতিক বাংলাদেশকে বিদায় করে দেয়া নেপাল। ম্যাচের ২২ মিনিটে সুনীল বালের ফ্রি-কিকের পর ডি-বক্সে জটলার মধ্যে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ নেপালের ভারত খাওয়াস। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে এবং সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে ২৭ মিনিটে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। প্রায় আধঘন্টা খেলা বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয় ম্যাচ। ৩৯ মিনিটে বিমল ঘারতি মাগারের শট মালদ্বীপের গোলরক্ষক মোহাম্মদ ফয়সাল ফিরিয়ে দিলে ভারত খাওয়াস শট নেন। কিন্তু তার শট লক্ষে থাকেনি। ৪৯ মিনিটে মালদ্বীপের হাসান নাইমের শট পিচ্ছিল মাঠে পড়ে যাওয়া গোলরক্ষক কিরন কুমারের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। কিন্তু ভারত-বিমল কেউই জালের ঠিকানা খুঁজে পাননি। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিতীয় গোল পায় মালদ্বীপ। আসাদুল্লাহ আব্দুল্লাহর ক্রস দিনেশ রাজবানসি ফেরানোর পর বল পেয়ে যান সামনে থাকা ইব্রাহিম। তিনি জোরালো শটে গোল করে মালদ্বীপকে আরো এগিয়ে নেন (২-০)। দু’মিনিট পর ইব্রাহিমই নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান ৩-০ তে নিয়ে আসেন। এতেই গুড়িয়ে যায় নেপালের প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার স্বপ্ন।
মালদ্বীপ ৩ : ০ নেপাল



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ