Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

জাহেদ খোকন | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের মুখোমুখী হলেও সাফল্য পেলো না পাকিস্তান। সাফ সুজকি কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চির শত্রু পাকিস্তানকে হারিয়েই ফাইনালে মালদ্বীপের সঙ্গী হলো ভারত। গতকাল রাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেষ চারের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত ৩-১ গোলে হারায় পাকিস্তানকে। বিজয়ী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড মানভির সিং দু’টি ও সুমিত পাসি একটি করে গোল করেন। পাকিস্তানের হয়ে এক গোল শোধ দেন ফরোয়ার্ড হাসান বশির। আগামী শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে মালদ্বীপের মুখোমুখী হবে ভারতীয়রা। সাফের আগের ১১ আসরের মধ্যে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ১২তম আসরে এসে ১১ বারের ফাইনালিষ্টও হয়ে গেলে তারাই। শুধু তাই নয়, এটা নিয়ে সাফে টানা সাতবার ফাইনালে উঠলো ভারতীয়রা। এই ম্যাচের আগে সর্বশেষ নেপালের কাঠমান্ডুতে ২০১৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে পরস্পরকে মোকাবেলা করেছিল ভারত ও পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপের ওই ম্যাচে ভারত ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল। এবার ঢাকায় সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ার হাতছানি ছিলো পাকিস্তানের সামনে। কিন্তু না, পারলো না তারা মধুর প্রতিশোধ নিতে। ম্যাচে স্বাচ্ছন্দেই জয় পেল ভারত।
কাল একই ভেন্যুতে নেপাল ও মালদ্বীপের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনাল চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় মাঠ হয়ে পড়ে কর্দমাক্ত। ফলে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাভাবিক খেলা খেলতে দু’দলের খেলোয়াড়দের বেশ বেগ পেতে হয়। তবুও ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে ভারী মাঠেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে দু’দল। অপেক্ষাকৃত ভালো খেলে ভারতই। কর্দমাক্ত মাঠে শুরু থেকেই তারা পাকিস্তানকে চেপে ধরে। একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তানের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তুললেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ দেখেনি ভারত। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। ৪৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার আশিকের মাইনাসে দৌড়ে এসে দারুন এক প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে উৎসবে মাতান মানভির সিং (১-০)। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে আবারো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করেন মানভির। দু’মিনিট আগে বদলী হিসেবে মাঠে নামা লালিয়ানজুয়ানা চাংতের পাসে বল পান ভিনিত রায়। তার মাইনাসে নিশানা ভেদ করেন মানবির (২-০)। এরপরও যেনো গোলক্ষুধা কমে না ভারতের। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে বাঁ দিক থেকে আশিক কুরুনিয়ার লবে দৌড়ে এসে দারুন এক হেড গোল করেন বদলী খেলোয়াড় সুমিত পাসি (৩-০)। ৮৬ মিনিটে দু’দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। অবৈধ বাধাকে কেন্দ্র করে লালিয়ানজুয়ানা চাংতে পাকিস্তানী এক ফুটবলারকে ঘুষি মারেন। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে তাকে পাল্টা আঘাত করেন পাকিস্তানী মহসীন আলী। রেফারি শিভাকর দু’জনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে একটি গোল অবশ্য পরিশোধ করে পাকিস্তান। হাসান বশির বাঁ পায়ের শটে গোল করে ব্যবধান ঘুঁচিয়ে আনেন (৩-১)। কিন্তু দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই ফাইনালে যায় ভারত।
একই ভেন্যুতে বিকালে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। সঠিক সময়ে জ্বলে উঠা দলটির পক্ষে মিডফিল্ডার ইব্রাহিম ওয়াহেদ হাসান দু’টি ও আকরাম আব্দুল ঘানি একটি করে গোল করেন। টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোলশূণ্য ড্র দিয়ে এবারের সাফ মিশন শুরু হয় মালদ্বীপের। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে তারা ভারতের কাছে ২-০ গোলে হারলেও টসভাগ্যে লঙ্কানদের পেছনে ফেলে শেষ চারে জায়গা পায়। আর সেমিতে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বাজিমাত করে দ্বীপ দেশটি।
মালদ্বীপ ৩ : ০ নেপাল
ভারত ৩ : ১ পাকিস্তান



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।