Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০ হিজরী

ইসলামী কর্মতৎপরতা

ইসলামি সভ্যতার খোঁজে রাশিয়ার পথে পথে

| প্রকাশের সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:১২ এএম

আরব নিউজের সাংবাদিক মাহা আকিলি একবার ওআইসি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে রাশিয়ার মুসলিম প্রধান অঞ্চল ভলগা-উরাল সফর করেছেন। তিনি এ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এ লেখায়।

“ভলগাউরাল অঞ্চলটি বর্তমানে রাশিয়ান ফেডারেশনে অবস্থিত। ইসলামের আবির্ভাবের প্রথমদিকেই আরবভূমি থেকে বহু উত্তরে অবস্থিত এ অঞ্চলে শাস্তির বাণী পৌঁছে যায়। আধুনিক তাতারস্তান প্রজাতন্ত্র, বাশকরতোস্তান প্রজাতন্ত্র, চুভাশিয়া প্রজাতন্ত্র, আরি ইল প্রজাতন্ত্র, উদমুরতিয়া প্রজাতন্ত্র, মোলদাভিয়া প্রজাতন্ত্র এবং ভলগা ও উরাল অঞ্চলে অবস্থিত এলাকাগুলো নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে এই ভলগা-উরাল অঞ্চলটি গঠিত।
ভৌগোলিক দিক থেকে পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম সাইবেরিয়া সমভূমির মাঝখানে উরাল পর্বতমালার চারদিকে এই অঞ্চলটির অবস্থান। এর উত্তর দিকে উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণে ওরস্ক সিটির নিকটবর্তী উরাল নদী। অঞ্চলটির সীমানা ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যস্ত বিস্তৃত।
ইসলামী সংস্কৃতি, সভ্যতা ও শিক্ষার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাজান, আস্ত্রাযান, উফা, ওরেনবার্গ ও ট্রটস্ক। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটির একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং তাহলো বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের লোকদের একত্রে বসবাস ও সহাবস্থান।
ওআইসির মহাসচিব একমেলেদ্দিন ইহসানগুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের অস্তর্ভুক্ত হয়ে আমি সম্প্রতি সেখানে গিয়েছিলাম। এক শীতের রাতে আমরা তাতারস্তানের রাজধানী কাজান শহরে পৌঁছি। সেখানে বিমানবন্দরে সাদর অভ্যর্থনা জানান তাতারস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মিত্রতাইমার শামিয়েভ। তার সঙ্গে ছিল চমৎকার কারুকাজ করা লম্বা রঙিন ও শালীন পোশাক পরা একদল তরুণী।
বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা আমাদের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে বসায়। এরপর আমাদেরকে ঐতিহ্যবাহী রুটি ও সঙ্গে চক চক নামের এক ধরনের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। তাতারস্তানের ঐতিহ্যবাহী এ খাবারই সাধারণত মেহমানদের পরিবেশন করা হয়। পরদিন আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান বলগার নগরীতে।
কাজানের বাইরে অবস্থিত এই নগরীতে ৯২২ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছিল। অঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম এই স্থানটিতে ইসলাম ধর্মের চর্চা শুরু হয়। এখন এই স্থানটিতে খনন কাজ চলছে এবং এটিকে সংরক্ষিত এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সোভিয়েত আমলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন আমলের মসজিদগুলোও খুঁড়ে বের করা হচ্ছে। সদ্য আবিষ্কৃত ইসলামী শিল্পকর্ম ও পান্ডুলিপিসমূহ সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে এখানে একটি যাদুঘরও তৈরি করা হচ্ছে। ভলগা-উরাল অঞ্চলের অতীত ইসলামী সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বলগার হচ্ছে অন্যতম। স্থানীয়রা এলাকাটি পবিত্রস্থান বলে মনে করে থাকে।
মাহা আকিল
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

তমদ্দুন মজলিস
তমদ্দুন মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক ও প্রবীণ সাংবাদিক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল গফুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আ.জ.ম শামসুল আলম। এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহন করেন অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, আলমগীর মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. এম আক্তারুজ্জামান, মুহম্মদ আবদুল হান্নান ও এম আর মাহবুব প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, এ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিস এর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীসহ অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর