Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

তারা ১০ জন

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৫ এএম

ফুটবলে স্ট্রাইকারদের কদর সবচেয়ে বেশি। এর কারণ হলো, অনেক পা ঘুরে বেড়ানোর পর বলকে শেষ গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার দায়ীত্ব থাকে তাদের উপর। যে কারণে স্পটলাইটেও বেশি আসেন তারা। এমন দায়ীত্ব পালনে বর্তমান বিশ্বে যারা সিদ্ধহস্ত তেমন দশজন স্ট্রাইকারের কথা বলব আজ। গত কয়েক বছর ধরেই তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের প্রমাণ করে চলেছেন। এখানে ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ হিসেবে বলতেই হয়Ñ তালিকাটা যেহেতু সেন্টার-ফরোয়ার্ড বা স্ট্রাইকারদের নিয়ে তাই একের পর এক গোলের রেকর্ড গড়েও এই তালিকায় নেই লিওনেল মেসির নাম। একই কারণে জায়গা দেওয়া হয়নি নেইমার, মোহাম্মদ সালাহ কিংবা অঁতোয়ান গ্রিজম্যানদেরও। গোল করা নয়, গোল করানোই যে মাঠে তাদের প্রধান দায়ীত্ব।


১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (জুভেন্টাস)
রিয়াল মাদ্রিদে সাফল্যমন্ডিত নয় বছর পার করার পর চলতি মৌসুমের শুরুতে জুভেন্টাসে নাম লিখিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অবশ্য সেরি আ দলের হয়ে তিন ম্যাচে মাঠে নামলেও এখনো গোলের খাতা খুলতে পারেননি। কিন্তু দলে তার অবদান নিয়ে আলাদাভাবে বলার কিছু নেই। বর্তমান বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মত সক্ষমতা অর্জন করেছেন কেবল তিনিই। প্রতিপক্ষের ডি বক্সে তার রুদ্রমূর্তি দেখিনি কে। গত মৌসুমের শুরুটা বাজেভাবে হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে রিয়ালকে শিরোপা জেতাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এই পর্তুগিজ তারকা। যা ছিল তার রেকর্ড পঞ্চম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। আর্জেন্টাইন জাদুকরের সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচবার বর্ষসেরা হওয়ার যৌথ রেকর্ডটাও তার দখলে। বয়স ৩৩ হলেও পোস্টের সামনে তাকে নিয়ে তাই সন্দেহের অবকাশ নেই।


২. লুইস সুয়ারেজ (বার্সেলোনা)
আসছে জানুয়ারিতে ৩২ পার করবেন। এরপরও বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন লুইস সুয়ারেজ। বার্সেলোনার মত দলের আস্থাভাজন স্ট্রাইকার তিনি। ২০২ ম্যাচে কাতালান জার্সিতে করেছেন ১৫৪ গোল। বার্সার সাফল্যে লিওনেল মেসির পর কারো নাম আসলে তিনি হবেন লুইস সুয়ারেজই। শুধু গোল নয়, বার্সায় তার অবদান তার চেয়েও বেশি। টেকটিক্যালি তিনি যেমন এগিয়ে তেমনি শারিরীকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সহজে অতিক্রম করতে পারেন সাবেক লিভারপুল ও উরুগুয়ান তারকা। তার দিনে যে কোন প্রতিপক্ষই দুমড়ে মুষড়ে যেতে পারে।


৩. রবার্ট লেভান্দোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ)
পোল্যান্ডের হয়ে হতাশাজনক রাশিয়া বিশ্বকাপ পার করেছেন রবার্ট লেভান্দোভস্কি। সেনেগাল ও কলম্বিয়ার কাছে হেরে গ্রæপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় তার দলকে। এরপরও বলতেই হবে ৩০ বছর বয়সী বর্তমান বিশ্বের কয়েকজন ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকারদের একজন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার প্রমাণ গত কয়েক মৌসুম ধরেই দিয়ে চলেছেন। টানা তিন মৌসুমের প্রতিবারই সব প্রতিযোগিতা মিলে চল্লিশোর্ধো গোল করেছেন। রিয়ালে রোনালদোর শূন্যস্থান পূরণে অনেকবারই এসেছে তার নাম।


৪. হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম)
হ্যারি কেইনের পরিচয় দিতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে রাশিয়া বিশ্বকাপের কথা। যেখানে ইংল্যান্ডের হয়ে আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারস্বরুপ গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। অবশ্য গত কয়েক মৌসুম ধরেই নিজেকে চেনাচ্ছেন কেইন। গত মৌসুমেও টটেনহ্যামের হয়ে ৩০ গোলে করেন ২৫ বছর বয়সী। আগের মৌসুমে করেন ২৯টি। তারও আগের মৌসুমে ২৫ গোলের রেকর্ড বলে কেইনের ক্রমান্নতির কথা। প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যাম যে সম্প্রতি নিজেদের আলাদাভাবে চেনাচ্ছে তার মূল কারিগর তো কেইন-ই।


৫. সার্জিও আগুয়েরো (ম্যানচেস্টার সিটি)
আর্জেন্টিনার জার্সিতে সার্জিও আগুয়েরোকে নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে তিনি যে নিবেদিত প্রাণ তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিশেষ করে কোচ পেপ গার্দিওলার সংস্পর্শে যেন আরো শানিত হয়েছেন ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। প্রথম দিকে গার্দিওলার অপছন্দের হলেও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে দ্রæতই কাতালান কোচের আস্থাভাজনে পরিণত হন সিটির রেকর্ড গোল স্কোরার। যে কোন প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ডি বক্সে প্রবেশ ও অল্প জায়গায় পোস্টে শট নেয়ার মত ভয়ঙ্কর ক্ষমতা আছে তার। তার মত অল-রাউন্ডার স্ট্রাইকার তাই যে কোন কোচের পরম কাঙ্খিত।


৬. এডিনসন কাভানি (পিএসজি)
গত কয়েক মৌসুম ধরে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) সঙ্গে নামটি অনেকটাই সমর্থক। বিশেষ করে জøাতান ইব্রাহিমোভিচ চলে যাওয়ার পর থেকে। ইব্রাকে ছাড়িয়ে লিগ ওয়ানের দলটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে। যদিও বড় ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়া করার একটা দুঃখ্যাতি রয়েছে তার। কিন্তু প্রতিপক্ষের পোস্টের সামনে বরাবরই ভয়ঙ্কর উরুগুয়ান স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে তার তোপ ভালোমত টের পায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। পিএসজির হয়ে শেষ ৯৯ ম্যাচে তার গোল ৯১টি।


৭. রবার্তো ফিরমিনো (লিভারপুল)
ফিরমিনো স্ট্রাইকার হিসেবে না খেলে আরো নিচে খেলেন। কিন্তু লিভারপুল কোচ ইযুর্গুন ক্লপ তাকে স্ট্রাইকার হিসাবে খেলাতেই পছন্দ করেন। যে কারণে এই তালিকায় ব্রাজিল তারকাকে আনতেই হয়েছে। লিভারপুলের হয়ে শেষ ৯৯ ম্যাচে ৪০ গোল করেছেন ফিরমিনো। গোল করার পাশাপাশি মাঝমাঠে ও খেলা তৈরী করতেও বেশ পটু ২৬ বছর বয়সী। যে কারণে ব্রাজিল কোচ তিতের অন্যতম আস্থাভাজন খেলোয়াড় তিনি। দলের জন্য নিবেদিত খেলোয়াড়ের ছাট্ট তালিকা করলে ফিরমিনোর নাম প্রথম দিকেই চলে আসবে।


৮. মাউরো ইকার্দি (ইন্টার মিলান)
মাউরো ইকার্দিকে অবশ্য পরীক্ষিত স্ট্রাইকার বলা যাবে না। বিশ্বকাপ, এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসরেও অভিষেক হয়নি আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকারের। তবে ইতালিয়ান সেরি আ লিগে একের পর এক গোল করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। গত মৌসুমে করেন ২৯ গোল। চলতি মৌসুমেও সাবেক ইউরোপিয়ান জায়ান্ট দলের সব স্বপ্ন এই ২৫ বছর বয়সীকে ঘিরে।


৯. রোমেলু লুকাকু (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
বয়স মাত্র ২৫। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে হোসে মরিনহোর মত কোচের সমালোচনা সহ্য করা গুটি কয়েক খেলোয়াড়ের মধ্যে রোমেলু লুকাকুও একজন। এরপরও বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। ডি বক্সে বলে স্পর্শ ও শারিরীক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে নাস্তানুবুধ করতে জুড়ি নেই এই বেলজিয়ান স্ট্রাইকারের। রাশিয়া বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে নিতে তার অবদান ছিল বেশ, করেন চার গোল। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৬ গোল করা এই তারকার সবচেয়ে বড় গুণ ক্রমাগত উন্নতি।


১০. করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ)
বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্টের বিষয়টাই অন্য সব খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা করেছে করিম বেনজেমাকে। গত মৌসুমটা অবশ্য খুব একটা ভালো কাটেনি। ৪৭ ম্যাচে গোল মাত্র ১২টি। রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা তো একসময় তাকে দুয়ো দিতেও শুরু করেছিল। এরপরও বার্নাব্যুর মত দলের একাদশ থেকে বাদ পড়েননি বেনজেমা। চলতি মৌসুমের শুরুতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুভেন্টাসে পাড়ি দেয়ার পর মাদ্রিদের আলোটা আরো ভালোভাবে এসে পড়েছে বেনজেমার গায়ে। চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে এর প্রতিদানও দিচ্ছেন সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকার।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর