Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

মধ্যসত্বাভোগীরা হাতিয়ে নিচ্ছে কৃষকের শ্রমমূল্য

পাবনায় পাটের বাম্পার ফলন

মুরশাদ সুবহানী, পাবনা থেকে : | প্রকাশের সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

সোনালী আঁশ পাটে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেলেও ক্রমেই তা স্লান হয়ে আসছে। পাটের দরপতন শুরু হয়েছে। পাটের বাজার ফড়িয়া আর সিন্ডিকেটের দখলে। তারাই এখন পাটের বাজারের নিয়ন্ত্রক। মধ্যসাত্বভোগীরা হাতিয়ে নিচ্ছে কৃষকের শ্রমমূল্যের সোনালী স্বপ্ন।
পাবনা জেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই ফলনে কৃষকের মুখে সোনালী হাসি দেখা দিয়েছিল। প্রথম দিকে বাজার চাঙ্গা ছিল। এখনও ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। জেলায় চলতি মওসুমে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় । এর মধ্যে তোষা ও মেস্তা পাট আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৭৯ হেক্টর (তোষা পাট) আর ১১০ হেক্টর জমিতে মেস্তা পাট। দেশী জাতের পাট আবাদ হয়েছে প্রায় ১৫৩ হেক্টর জমিতে। এই পাট থেকে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার বেল পাট পাওয়া যাবে।
পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটঘরিয়া উপজেলায় ৩ হাজার ৮৮৬ হেক্টর, ঈশ্বরদী উপজেলায় ৫১০ হেক্টর, চাটমোহর উপজেলায় ৫ হাজার ৩৯৫ হেক্টর, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৫২৫ হেক্টর, ফরিদপুর উপজেলায় ৬৩১ হেক্টর, বেড়া উপজেলায় ১ হাজার ৬৮৩ হেক্টর, সাঁথিয়া উপজেলায় ৫ হাজার ৮৮২ হেক্টর, সুজানগর উপজেলায় ১০ হাজার ৫৩৫ হেক্টর, জমিতে তোষা, মেস্তা ও দেশী জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে পাট বেশী আবাদ হয়েছে সুজানগর উপজেলায়। বিগত সময়ের চেয়ে এবার বেশী পাট উৎপাদন হচ্ছে। সরকার পাটের বস্তা উৎপাদনের ঘোষণা দেওয়ায় পাট আবাদে কৃষকরা আগ্রহন্বিত হয়েছিলেন।
আবহাওয়া ভাল থাকায় এবং সার ও কীটনাশক সরবরাহ ও মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় কৃষক পাটে বাম্পার ফলন করতে পেরেছে। সোনালী আঁশ ছাড়িয়ে হাট-বাজারে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। প্রথম দিকে পাট -বাজারে ভাল দামেই পাট বেচাকেনা হয়েছে। মাত্র একমাসের ব্যবধানে বাজার সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। তাদের বেঁধে দেওয়া দামের বাইরে আড়ৎদার, ফড়িয়ারা পাট কিনছেন না। হাট বাজারে নতুন তোষা পাট ১৮ থেকে ২ হাজার টাকা মন দরে প্রথম দিকে বিক্রি হয়েছে। দেশী ও মেস্তা পাটের বাজার মূল্য এর চেয়ে কম ছিল। কৃষক ভাল জাতের পাট (তোষা) বিক্রি করে লাভজনক অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ করে সিন্ডিকেট দরপতন ঘটালে পাটের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে। এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে পাটচাষীদের লোকসান গুণতে হবে। সব এলাকায় এক সাথে পাট বাজারে আসেনি। আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টি কম হওয়ায় শ্রাবণে কাটা পাট জাগ দিতে বিলম্ব হয়। বিলম্বে রোপন করা পাট এখনও জাগে আছে। কোন জায়গায় পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাজারে নিয়ে আসা হলেও আগের মত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ