Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

চট্টগ্রামে ধরপাকড়-মামলা

কারা ভীতি নেই বিএনপির  নিরপরাধী ধরবে না পুলিশ

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ এলাকার বাসা থেকে থানা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম, সহ-সভাপতি শহিদ উল্লাহ ভূঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া গোলাপকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। থানার ওসি জসিম উদ্দিনের দাবি নাশকতার পরিকল্পনা করতে বাসায় সভা করছিলেন তারা। গোপনে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে নাকশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলছেন, বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ বলছে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এর সমর্থনে পুলিশ কোন কিছুই দেখাতে পারেনি। গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে গ্রেফতারের আগে পরে পুলিশ আমিন জুট মিল এলাকার শ্রমিক নেতা আবু মুসা, যুবদল নেতা বেলায়েত হোসেন ভুলু, ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, জোনাব আলীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। বিএনপি নেতাদের দাবি তারা কেউ মামলার আসামি ছিলেন না, তাদের ধরে নিয়ে পুলিশ মামলা দিয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরপাকড় বাড়ছে। বাসা বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছে। বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরনো রাজনৈতিক মামলা সচল করারও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির ৪৫৩ নেতার বিরুদ্ধে তিনটি চার্জশিট আমলে নিয়ে আদালতে বিচার শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধরপাকড় জোরদার করতে পুলিশের উপর চাপ বাড়ছে। মহানগরীতে মাত্র তিন বছরে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৯৫টি মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৭২টি মামলায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি থানায় বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কয়েক হাজার। বিএনপির হিসাবে এসব মামলায় আসামি হয়েছেন লাখের বেশি নেতাকর্মী।
চার্জশিটে অভিযুক্ত হয়েছেন অন্তত এক ডজন নেতা যারা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব কারাবন্দি আসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান। চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র প্রায় সব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জেলা এবং মহানগরীর প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী এখনও কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় জোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে খুব শিগগির রাজপথে জোরদার আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আর এই আন্দোলন মোকাবেলায় নেতাকর্মীদের ধরপাকড় এবং নতুন মামলা দিয়ে দৌঁড়ের মধ্যে রাখার পুরনো কৌশলও শুরু হয়েছে। আগের মামলায় যারা জামিনে আছেন তাদের জামিন বাতিল এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর পুরানো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ ব্যাপারে পুলিশকে কঠোর হতে সরকারি মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে নাশকতার অভিযোগে নগরীতে ১৯৫টি মামলা করে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এ তিন বছরে নগরীর ১৬টি থানায় মামলা হয়েছে ১৯৫টি। এর মধ্যে যানবাহনে আগুন দেয়া, বোমা বিস্ফোরণ এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। আদালতের নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ১৭২টি মামলাতেই চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এসব চার্জশিটে তিন হাজার ৭৭২ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসব মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। আর তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে আরও ২৩টি মামলা। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় সব আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। জানা গেছে উপর থেকে এসব নেতাকর্মীদের উপর নজরদারি করার নির্দেশা দেওয়া হয়েছে পুলিশ বাহিনীকে।
ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, কারাগারকে বিএনপি নেতাকর্মীরা আর ভয় পায় না, কারণ দুঃশাসনে এখন পুরো দেশটাই কারাগার। আজগুবি সব অভিযোগে মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আইনগতভাবে এসব মামলা মোকাবেলা করছি। তিনি বলেন, নির্যাতন চালিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে বিএনপিকে ধরে রাখা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, পুলিশ নিরাপরাধ কাউকে গ্রেফতার করে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং ওয়ারেন্ট আছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারো রাজনৈতিক পরিচয় দেখে গ্রেফতার করা হয় না।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কোন কারণ ছাড়াই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ধরপাকড় আর মিথ্যা মামলা এবং দমন-পীড়ন করে সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে না।



 

Show all comments
  • প্রিতম ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:১৩ এএম says : 0
    নিরাপরাধীদেরই বেশি ধরা হচ্ছে
    Total Reply(0) Reply
  • Misbahuddin Sagir ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:৩৩ পিএম says : 0
    এসব ঠিক না।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ