Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

চট্টগ্রামে মাছের দর চড়া, কমছে মুরগি ও সবজির দাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৬:৫১ পিএম

চট্টগ্রামের বাজারে মাছের দাম বেড়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে মাছ মিলছে না। তাই সরবরাহ কম। ইলিশের সরবরাহও কমেছে। সবজির সরবরাহ বাড়ছে, এর ফলে দামও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গরু ও খাসির গোশতের দাম আগের মতো থাকলেও কমছে মুরগির দাম। পিঁয়াজ, রসুন, আদাসহ মসলার দামও পড়তির দিকে। তবে ডিমের দাম এখনও একশ টাকার মধ্যে উঠানামা করছে। ফার্মের মুরগি কেজি আর এক ডজন ডিমের দাম এখন প্রায় সমান। শুক্রবার নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজার ও স্টিল মিল কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদে পেঁয়াজসহ প্রায় সব মসলার দাম বাড়লেও এখন তা কমতে শুরু করেছে। বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে গেছে। অথচ মাছের চাহিদা বেশি। সব ধরনের মাছের দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখি। আবার মুরগির চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় সব ধরনের মুরগির দাম কমে গেছে। বাজারে আসছে শীতের সবজি। নতুন এসব সবজির দাম চড়া হলেও অন্যান্য সবজির দর স্থিতিশীল রয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, গুঁড়োদুধসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও আগের মতো আছে। বাজার ভেদে মাছ-গোশত ও শাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের তারতম্য রয়েছে।
অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সাথে বাজারে ইলিশের সরবরাহও কমে গেছে। প্রতিটি আধাকেজি ওজনের কম ইলিশের কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পৌনে এককেজি ওজনের ইলিশের দাম ৫৫০-৬০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিটি কমপক্ষে এক হাজার টাকা। আকার ভেদে রুপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ৮০০ টাকা। চিংড়ির দাম আকার ভেদে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা। রুই ২৫০ টাকা, কাতল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। পোয়া ৩৫০ টাকা, কোরাল ৬০০ টাকা, লইট্টা ১৫০ টাকা, ভাটা ৩০০ টাকা, বড় টেংরা ৬০০টাকা এবং কাপ্তাই লেকের ভাটা মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। জেলেরা সাগরে গেলেও সাগর উত্তাল থাকায় শূণ্য হাতে ফিরে আসছে। তবে আগামী সপ্তাহ নাগাদ সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।
গরুর গোশত হাড়সহ ৪৫০ টাকা এবং সলিড গোশত ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির গোশত প্রতিকেজি ৭০০টাকা। ফার্মের মুরগি ১১০ টাকা, সোনালীকা ২১০ টাকা এবং দেশি মুরগির কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ২০টাকা থেকে ৫০ টাকা কমেছে। রেয়াজুদ্দিন বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মনজুরুল হক বলেন, কোরবানির পর থেকে গোশতের চাহিদা কমে গেছে। এই কারণে মুরগির দাম পড়তি। ডিমের দাম প্রতি ডজন ৯৬ থেকে ১০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সব ধরনের সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে শীতকালিন সবজির দাম এখনও আকাশছোঁয়া। প্রতি কেজি বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঝিঙে ও কাঁকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ২০-২৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, চিচিঙা ৪০ টাকা, ঢেঁঁড়স ৩০ টাকা, তিতকরলা ৩০-৩৫ টাকা, চাল কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০টাকা, শসা ৩০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, কচুর ছড়া ৩০ টাকা। শীম ৮০-১০০ টাকা, মূলা ৫০-৬০টাকা, ফুলকপি ৮০-৯০টাকা এবং বাধাকপি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাঁজর ৮০ টাকা, দেশি আলু ৪০ টাকা, আলু ২৩-২৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা এবং টমেটো ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গতকাল দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা, এবং ভারতীয় পিঁয়াজ ২৩-২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। পিঁয়াজের পাশাপাশি রসুন ও আদার দামও কমেছে। প্রতি কেজি চীনা আদা ১০০-১১০ টাকা ও মিয়ানমারের আদা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রসুন প্রতিকেজি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আটা, ময়দা ও চালের বাজার আগর মতোই রয়েছে। ভাল মানের মশুরের ডাল একশ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডাল ১২০ টাকা, চিনি ৫২ থেকে ৫৩ টাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ