Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারার হাটে পরিবর্তনের ছোঁয়া

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

ঝালকাঠির ভিমরুলি খালের ভাসমান পেয়ারার হাটে চলছে কোটি কোটি টাকার বেচাকেনা। এখান থেকেই প্রতিনিয়ত রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে পেয়ারার চালান যাচ্ছে। ভাসমান হাট ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রকৃতির দান শাখা নদী ও খাল পরিবেষ্টিত কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভিমরুলি গ্রামে শতবর্ষের পুরনো ভাসমান হাটে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের পেয়ারা নিয়ে ছুটে আসেন উৎপাদনকারীরা। শুধুমাত্র কীর্তিপাশা ইউনিয়নেরই প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হচ্ছে। এছাড়াও আটঘর-কুড়িআনাসহ পিরোজপুরের নেছারাবাদেরও বেশ কয়েকটি গ্রামে আরো কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হচ্ছে। হাটকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকদেরও সমাগম ঘটছে ভিমরুলিতে।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, দেশে প্রতিবছর উৎপাদিত প্রায় ২ লাখ টন পেয়ারার অধিকাংশই ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের বাগান থেকে আসছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের কাঞ্চন নগর ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মুকুন্দপুরেও বিপুল পরিমান পেয়ারা উৎপাদিত হচ্ছে।
তবে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের পেয়ারা বাগানের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে। এসব এলাকায় ছোট নদীর দুই তীরের জমির চারদিকে নালা তৈরী করে মাঝের ঢিবিতে পেয়ারা গাছ লাগানো হয়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনে সেচ দেয়াসহ গাছের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতারও খুব একটা ঘাটতি হয় না। এমনকি ওইসব নালা ব্যবহার করে পেয়ারা তোলা থেকে পরিবহনসহ সব কিছুই করা হচ্ছে নৌকায়।
গাছ থেকে সরাসরি নৌকায় করে এসব পেয়ারা চলে যায় ভিমরুলির ভাসমান হাটে। সেখানে পাইকাররা বাগান মালিকদের কাছ থেকে পেয়ারা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন। তবে অনেক ফড়িয়ারা আবার পুরো বাগানসহ পেয়ারা কিনে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে হাটে এনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকে।
ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারার হাট ও আশেপাশের বাগান দেখতে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে বিপুল সংখ্যায় মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন। ফলে হাটকে ঘিরে অন্যন্য ব্যবসারও স¤প্রসারণ ঘটছে। ঝালকাঠি লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে বা বরিশাল মহানগরী থেকে সড়ক পথেও ভিমরুলিতে যাতায়াত খুব সহজ।
পেয়ারা দেশীয় ফলের মধ্যে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। এর প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী অংশে ২১০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন-সি রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ‘কাজী পেয়ারা’, ‘বারি পেয়ারা-২’ ও ‘বারি পেয়ারা-৩’ ছাড়াও বেশ কয়েকটি উন্নত ও পুষ্টিকর জাতের পেয়ারার জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব পেয়ারার হেক্টর প্রতি ফলন ২৮ থেকে ৩০ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তবে পিরোজপুর-ঝালকাঠি এলাকার চাষিদের মধ্যে এখনো সনাতন জাতের দেশীয় পেয়ারা আবদেই আগ্রহ বেশি। তাদের মতে, দেশীয় এসব জাতের পেয়ারার স্বাদই আলাদা। তাই পুরনো স্বাদের এসব পেয়ারা যেমন সবার কাছে বেশি প্রিয়। তেমনি আবাদে তারা সব সময়ই গুরুত্ব দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ