Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর থেকেই তারা নিখোঁজ

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনদের কান্না

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

হজ থেকে আমি ফিরলাম আর দু’ছেলেকে তুলে নিয়ে  গেল : রমিছা খানম
যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি নিতে পুলিশের অস্বীকৃতি


পবিত্র হজ্জ পালন শেষে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য আমরা মাইক্রোবাসে উঠি, ঠিক তখনই একদল সাদা পোষাকের লোক ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অনেক মানুষের সামনে থেকে টেনে হেঁছড়ে আমার দুই ছেলেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৪ দিনেও আমার ছেলেদের কোন সন্ধান পাচ্ছি না। ঢাকার প্রতিটি থানায় ও ডিবি অফিসে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কেউই নিখোঁজদের বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারছেন না। আমি এখন কোথায় যাব কার কাছে বিচার পাব। গতকাল শনিবার রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসহায়ত্বের কথা এভাবেই তুলে ধরেন নিখোঁজ শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম। তিনি বলেন, ওই রাতে প্রথমে আমার দুই সন্তান ও তার বন্ধু মো আবুল হায়াতকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে। তার পর আরো দু’জনকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ পাঁচ ব্যক্তির কোথাও সন্ধান মিলছে না এমন অভিযোগে করেছেন তাদের পরিবার। নিখোঁজরা হলেন, ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী শাফিউল আলম, হাইটেক বাংলার কর্মকর্তা মনিরুল আলম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মো আবুল হায়াত, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহ ও ডগাইর ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসাইন মায়াজ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখোঁজ শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, পবিত্র হজ্জ পালন শেষে গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছে রাত সাড়ে ৮টা সময় হযরত শাহজালাল অন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সন্তানদের নিয়ে মাইক্রোতে উঠি। হঠাৎ একদল অপরিচিত লোক আমার দুই ছেলেকে বহু মানুষের সামনে গাড়ী থেকে নামাতে টানা হেঁচড়া শুরু করে। তাৎক্ষণিক আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ওরা পরিচয়পত্র ও অস্ত্র দেখিয়ে নিজেদের সাদা পোশাকদারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী (ডিবি) দাবী করে। চোখের সামনে থেকে আমার সাথে থাকা দুই ছেলে শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা আমার ছোট ছেলের বন্ধু আবুল হায়াতকেও তুলে নিয়ে যায়। পরে সে রাতেই আমার ছেলে শাফিউলকে নিয়ে গভীর রাতে তাঁর যাত্রাবাড়ি মীর হাজীরবাগস্থ বাসায় যায় তারা। এসময় বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা শাফিউলের অপর দুই রুমমেট সফিউল্লাহ ও মোশারফ হোসাইন মা’য়াজকেও তুলে নিয়ে যায়। যার মধ্যে মোশারফ হোসাইন মা’য়াজ নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গত তিনদিন রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করলেও প্রশাসনের কেউ এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করছেন না। যাত্রাবাড়ি থানায় এ ব্যাপারে জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নিতে অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমি একজন মা! গত চারদিনে আমার দুই সন্তানের খোঁজ না পেয়ে আমার চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। আমার পাশে বসে থাকা মায়েরও একই অবস্থা। সন্তানকে না পেয়ে এই মায়েরাও বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। সন্তানদের খুঁজছেন। ইতিমধ্যে দুজন মা তাদের সন্তানদের শোকে অসুস্থ হয়ে পরেছেন। দয়া করে আমাদের সন্তানদের সন্ধান দিন। দেশের আইনে তারা যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাদের জন্য আইন আছে। তাদেরকে আদালতে হাজির করে আইনের আওতায় আনুন।
তিনি আরো বলেন, পবিত্র হজ্জ থেকে ফিরে দেশের মাঠিতে যখন নামলাম তখনই তুলে নেয়া হল আমার দু’ছেলেকে। ৪ দিন পরও তাদেরকে আটক না দেখানো দেশের প্রচলিত আইনে বে আইনি। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশেরও সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। যা অস্বাভাবিক বিষয়। আমারা এখন আমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে শঙ্কিত। সন্তানরা যদি সত্যিই কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম। মোশারফ হোসাইন মা’য়াজ-এর বাবা ছাইদুল ইসলাম ও মা রোকেয়া বেগম ও বড়বোন কামরুন্নাহার এবং সফিউল্লাহর ছোট ভাই মোঃ নাসরুল্লাহ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিবি


আরও
আরও পড়ুন