Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সংখ্যালঘুবিরোধী আইন ভারতের গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলেছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ভারতীয় গণতন্ত্রের দৃশ্যপট অব্যাহতভাবে বদলে যাচ্ছে, বিশেষ করে নাগরিক অধিকার এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নে। স¤প্রতি রাজ্যসভায় ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশান বিল ২০১৮ উপস্থাপন করা হয়েছে। নাগরিকদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদেরকে অর্ধ-মানবে পরিণত করাই এই বিলের উদ্দেশ্য।
সিটিজেনশিপ (সংশোধনী) বিল ২০১৬-ও বর্ণবাদী দোষে দুষ্ট। কারণ এখানে স্পষ্টভাবেই সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে। দুটো আইনই ব্যাপক হালকা, দুর্বলভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং মৌলিক মানবাধিকার এবং মর্যাদার পরিপন্থী। ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশান বিল বিশেষভাবে মনে হচ্ছে আসাম অ্যাকোর্ড, ইলিগ্যাল মাইগ্রেন্টস অ্যাক্ট ১৯৮৩ এবং ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি)-এর একটা সমন্বয়। যেখানে নাগরিকত্ব প্রমাণের বোঝা অভিযুক্তের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশান বিলের উদ্দেশ্য হলো পুরো ভারত থেকে ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে বিতাড়িত করা। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো জম্মু ও কাশ্মীর। এই বিলে ভারতের ‘আদিবাসী’দের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে দেশে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আদিবাসী জনগোষ্ঠি পরিচয় সঙ্কট ও সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তিতে ভুগছে। দেশের কর্মসংস্থানের ঘাটতির জন্য এই বিলে অবৈধ অভিবাসীদের দায়ি করা হয়েছে। খুবই হাস্যকরভাবে এখানে আদিবাসীদের প্রসঙ্গটিকে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে এটাও বলা হয়েছে যে, ‘অভিবাসীরা’ নিজেদেরকে মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্পষ্টতই জনগণের সাংস্কৃতিক ঐক্যের কারণেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ চিহ্নিত করাটা কঠিন হয়ে গেছে। এছাড়া, এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ‘অভিবাসীদের’ কারণে সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বেড়ে গেছে।
বিলে জনগণের একটা অংশের ব্যাপারে খুবই নেতিবাচক কথা বলা হয়েছে। এখানে দেশভাগের ইতিহাস অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এখানে শোষণমূলক শ্রম পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অর্থনীতির উদ্বেগগুলোকেও উপেক্ষা করা হয়েছে। পুঁজিবাদী তৎপরতা এবং রক্ষণশীল প্রকল্পগুলোর কারণে মানুষ যে ঘরবাড়িছাড়া হয়েছে, সে বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা হয়নি, যেটা প্রশ্নাতীতভাবে আদিবাসীদের ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।
বিলটি বর্তমানে রাজ্যসভায় প্রাইভেট মেম্বারস বিল হিসেবে রয়েছে। এতে এটাও বলা হয়নি যে, এই ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের নিয়ে কি করা হবে। অনেকটাই আসামের এনআরসির মতো ব্যাপার এটা। পরিশেষে, বিলে এটাও বলা হয়েছে যে, তারা ভারতকে বিশ্বের অভিবাসীদের রাজধানী হিসেবে দেখতে চান না।
এই বিল যদি পুরো ভারতে ছড়ানো হয়, তাহলে এটা বহু মানুষের দুর্ভোগের কারণ হবে। অনেকটা এনআরসির মতোই ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশান বিল ক্ষতিগ্রস্থদের সম্পদসহ অন্যান্য উদ্বেগজনক প্রসঙ্গে নিরব।
এই ধরনের আইন আমাদের গণতন্ত্রের সারবস্তুকেই ধ্বংস করে দেবে। ৩৭৭ ধারাকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া আমাদেরকে দেখিয়েছে যে, সংহতি জানানো এবং সড়কের প্রতিবাদের শক্তি রয়েছে। ফ্যাসিবাদ এবং মানুষকে অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ভালোবাসা। আমাদেরকে মানুষকে শিক্ষিত করতে হবে, আন্দোলন গড়তে হবে, সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে এবং ভালোবাসার শক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। কেউ অবৈধ নয়। আসুন, সেটা সম্ভব করার জন্য লড়াই করি। সূত্র : এসএএম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ