Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ১১ সফর ১৪৪০ হিজরী

কাশ্মিরে শিকল বেঁধে লাশ টানায় ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ছবিতে দেখা গেছে, এক বিদ্রোহীর রক্তমাখা ও অর্ধনগ্ন লাশ পায়ে শেকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সেনারা। এ ধরনের কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরাও। তাদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক মানবিকতাবিষয়ক আইনের লঙ্ঘন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বিদ্রোহীদের লাশ এভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
১৩ সেপ্টেম্বর জম্মুর রিয়াসি এলাকার কাকরিয়াল জঙ্গলে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। সাত ঘণ্টার ওই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় তিন বিদ্রোহী। পরে এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এক বিদ্রোহীর লাশ পায়ে বেঁধে দড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সেনারা। তার মুখ নিচের দিকে আর পা শিকলে বাঁধা। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডবিøউ) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাংগুলি এ ঘটনায় অবিলম্বে তদন্ত শুরুর আহবান জানিয়েছেন। নিহত বিদ্রোহীর দেহকে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়াকে মর্যাদাহানিকর কর্মকান্ড আখ্যা দিয়েছেন তিনি। টুইটারে মিনাক্ষী গাঙ্গুলি লিখেছেন, ‘এ থেকে বোঝা যায়, তাদেরকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ।’ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মৃতদেহের অঙ্গহানি নিষিদ্ধ। আর ভারত জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ।
মুবাশির নাসির নামে কাশ্মিরের স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ জানিয়ে আল জাজিরাকে বলেন, ‘কাশ্মিরে মৃতদেরকেও সম্মান দেওয়া হয় না। এসব ঘটনা যখন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়, তখন সবাই তা নিয়ে ধিক্কার জানায়। এতে কোনও কিছুর বদল ঘটে না। কাশ্মিরে সেনাবাহিনী কী ধরনের কর্মকান্ড চালাচ্ছে, সেটাই শুধু এর মধ্য দিয়ে সামনে আসে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার সমালোচনাগুলো নাকচ করে দিয়েছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বন্দুকযুদ্ধের পর বিদ্রোহীর লাশ টেনে নিয়ে যাওয়াটা তাদের ‘স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রক্রিয়া’। লাশে বিস্ফোরক থাকতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেহগুলো সরাসরি স্পর্শ করা হয় না। ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি জানি না কেন এ নিয়ে এতো আলোচনা তৈরি হয়েছে। আপনাদের বিবেচনায় নিতে হবে ওই লোক কেন এখানে এসেছে। তার সঙ্গে এমনটাই করা উচিত।’
ওই ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা লাশ সরাসরি স্পর্শ করি না। পায়ে একটি দড়ি বেঁধে নেওয়া হয় এবং টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনও কখনও তারা জীবিতও থাকতে পারে। আমাদেরকে বোকা বানানোর জন্য এটা তাদের কোনও ফাঁদ হতে পারে, লাশে বিস্ফোরক ও গ্রেনেড থাকতে পারে। অনেকসময় এমনটা হতে দেখা গেছে।’
ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকান্ডে ক্ষোভ জানিয়ে কাশ্মিরভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী খুররাম পারভেজ বলেন, ‘ভারতীয় সেনারা এটা সেটা বলে সবসময় নিজেদের পক্ষে সাফাই গায়। আন্তর্জাতিক মানবিকতাসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, যুদ্ধবন্দিদের মতো করেই লাশকে সম্মান দেখাতে হবে ও লাশ সংরক্ষণ করতে হবে।’
খুররাম পারভেজ আরও বলেন, ‘সবসময় সবকিছু ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। তবে এখানে তা ঘটে।’ খুররামের দাবি, গত বছর দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত তিন বিদ্রোহীর দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকরণ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতা থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদিন সবচেয়ে সক্রিয়। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটিকে ভারতের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। আদর্শগতভাবে সংগঠনটি কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। সূত্র : আল জাজিরা।



 

Show all comments
  • জাকির ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ২:৩২ এএম says : 0
    এখানে আপনি আপনার মন্তব্য করতে পারেন আহত বা নিহত বেকতির সাথে এমন আচরন খুবই দুঃখ জনক ।
    Total Reply(0) Reply
  • Adel ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৯:১৪ এএম says : 0
    How can human being be so inhuman?
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul Majid ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:৪২ পিএম says : 0
    কাশ্মীরের জনগণের সাথে আমিও স্বপ্ন দেখি একদিন স্বাধীন হয়ে সকল নিযার্তনের জাবাব দিবে। আল্লাহ তুমি এদের প্রতি সহায় হও।
    Total Reply(0) Reply
  • Shohidul Islam ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:৪৪ পিএম says : 1
    পৃথিবীরর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ.........বৃহত্তম জুলুমবাজ দেশ।
    Total Reply(0) Reply
  • Mazharul Islam ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৩:৪৫ পিএম says : 0
    ভারত একটা ....... রাষ্ট্র ।
    Total Reply(0) Reply
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৪:২৯ পিএম says : 0
    কাশ্মীরের মানুষরের উপরে এই রকমের ,,,অন্যায়,অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন করছে,,,ভারতীয় সেনা,,, আর এর কি কোনোই বিচার হবেনা,,,,আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ