Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

নৌ ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে সমঝোতার চেষ্টা

প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ১৫ দফা দাবি আদায়ে নৌ শ্রমিকদের ধর্মঘট গতকাল (শনিবার) তৃতীয় দিনের মতো পালিত হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে গত তিন দিন দেশের প্রায় সব নদী বন্দর দিয়ে সকল প্রকার মালবাহী নৌ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বেশিরভাগ যাত্রীবাহী নৌ যানও বন্ধ রাখে ধর্মঘটীরা। তবে গতকাল নৌযান শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতি নিরসনের লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক সমন্বয় সভা ডাকে শ্রম মন্ত্রণালয়। এ খবর লেখা পর্যন্ত সভা চলছিল।
নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারাদেশে অভ্যন্তরীন রুটে নৌপথে সব ধরনের পরিবহন গতকাল (শনিবার) দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ ছিল। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম, খুলনা, মঙলাসহ সব বন্দর ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ, নৌ পথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে নৌ-যান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। বুধবার দিনগত মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ নৌ-যান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে অভ্যন্তরীন রুটে প্রায় ১৫শ জাহাজ ধর্মঘট পালন করছে, এরমধ্যে ৩শ জাহাজ তেল পরিবহন ও ৩শ জাহাজ সমুদ্রে মৎস্য আহোরন করে থাকে। ‘গত ২৬ জানুয়ারী সরকার ও মালিক পক্ষের সাথে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় এই ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছে নৌ যান শ্রমিকরা, মালিকরা কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা, তারা এই নিয়ে আলোচনায়ও আসছে না,’ উল্লেখ করেন তিনি।
তবে নৌযান শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতি নিরসনের লক্ষ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মালিক-শ্রমিক সমন্বয় সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর শ্রম পরিদফতরে (শ্রম ভবন) সভাটি শুরু হয়। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সভা চলছি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে সভায় সচিব মিকাইল শিপারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি শ্রমিক-মালিক সংগঠনের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, শ্রমিক নেতাসহ মালিক পক্ষের নেতাদের সভায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। তারা যথা সময়ে সেখানে যাবেন এবং দাবিগুলো তুলে ধরবেন।
মূলত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নৌপথে চুরি-ডাকাতি বন্ধ, নদী খননসহ ১৫ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘট। এতে ১২ হাজার নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী তাদের কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন শুরু করেন। অবশ্য শুক্রবার রাত থেকে তাদের কর্মবিরতি স্থগিত রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ