Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

চার জেলার নিম্নাঞ্চলে অকাল বন্যা

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:৪২ এএম

ভারতের উজানের ঢলে ফুঁসে উঠেছে রাক্ষুসী যমুনা : ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মায় পানিবৃদ্ধি ভাঙন অব্যাহত : তিনটি নদী পাঁচ স্থানে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে, পদ্মা গোয়ালন্দে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই


দেশ প্রায় অনাবৃষ্টির কবলে দীর্ঘদিন। কিন্তু হিমালয় পাদদেশ অঞ্চলসহ ভারতে গত তিন সপ্তাহের অতিবর্ষণে উজান থেকে অবিরাম নেমে আসা ঢল-বানের তোড়ে ভাটিতে বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী অসময়েই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং পদ্মাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে গতকাল (সোমবার) পানি আরও বৃদ্ধি পায়। এতে করে ফুঁসে উঠেছে রাক্ষুসী যমুনা নদ। চারটি জেলার নিম্নাঞ্চলে অকাল বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ।
এ চারটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও কিছুটা অবনতি হতে পারে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একের পর এক প্লাবিত হচ্ছে নদ-নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। বৃদ্ধি পাচ্ছে নদীভাঙন। তবে এসব অঞ্চলে বন্যা স্বল্পমেয়াদি বা সাময়িক (অনধিক দশ দিন) হতে পারে বলে পাউবো সূত্র জানায়। অন্যদিকে উত্তাল পদ্মায় পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সর্বনাশা পদ্মাপাড়ে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, যমুনা, ধলেশ^রী এবং আত্রাই এই তিনটি নদী ৫টি পয়েন্টে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া যমুনা সিরাজগঞ্জ ও কাজীপুরে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পদ্মা নদীর পানি আরো বেড়ে গিয়ে গোয়ালন্দে বিপদসীমার কাছাকাছি (মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে) অবস্থান করছে। পদ্মার ভাটিতে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে নদী পাড়ের অগণিত বাসিন্দা।
অন্যদিকে উত্তর জনপদে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে গিয়ে চিলমারীতে এখন বিপদসীমার ২০ সেমি নিচে অবস্থান করছে। ঘাগট নদী গাইবান্ধায় ১৯ সেমি নিচে থাকলেও ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পূর্বাভাসে জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ এবং পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা আগামী ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। সেই সাথে জামালপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। পদ্মার উজানে গঙ্গা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং পদ্মাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরো দুয়েকদিন বাড়তে পারে। এরপর থেকে পানি কমতির দিকে থাকবে। নিম্নাঞ্চলের এ বন্যা হবে স্বল্পমেয়াদি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও এ মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার কথা জানানো হয়েছিল।
দেশের নদ-নদীর ৯৪টি পানির সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৪১টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি এবং ৪৭টিতে হ্রাস পায়। গত রোববার ৪৮টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায়। গত শনিবার ৪৭টি পয়েন্টে, শুক্রবার ৫৯ পয়েন্টে, বৃহস্পতিবার ৭৪ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায়।
গতকাল সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, যমুনা নদের সারিয়াকান্দি, ফুলছড়ি ও বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে পানি আরও বেড়েছে। এই তিনটি পয়েন্টে যথাক্রমে ১৫, ৮ ও ৬ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা সিরাজগঞ্জে বিপদসীমার মাত্র ৫ সেমি নিচে ও কাজীপুরে ৩ সেমি নিচে রয়েছে। মধ্যাঞ্চল টাঙ্গাইলে ধলেশ্বরী নদীর পানি আরো বেড়ে এলাসিন ঘাটে বিপদসীমার ২১ সেমি উপরে রয়েছে। বাঘাবাড়ীতে আত্রাই নদী বিপদসীমার ৪ সেমি উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে পদ্মার উজানে গঙ্গা নদী পাংখা পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৬ সেমি নিচে ও রাজশাহীতে ১১৬ সেমি নিচে অবস্থান করছে। পদ্মা নদীর পানি গতকাল কিছুটা বৃদ্ধি পায়। গোয়ালন্দে বিপদসীমার মাত্র ৫ সেমি নিচে, ভাগ্যকুলে ২৯ সেমি নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাটির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নদীভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ