Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ০৪ সফর ১৪৪০ হিজরী

এক মাসের মধ্যে দেশে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসবে

আলোচনা সভায় মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

আগামী এক মাসের মধ্যে দেশে অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, সময় আর খুব বেশি নাই, সময় ফুড়িয়ে আসছে। বিরাট চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আমরা কিভাবে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবো সেটির চ্যালেঞ্জ। আর এক মাস সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে। আমাদেরকে এমন প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে এই সরকারকে বাধ্য করা যায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘ভোটাধিকার, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার: বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, তারা (ক্ষমতাসীন দল) যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা-বার্তা বলছে সেটা ইমাজেনারি, এটা তাদের নিজেদের ইনভেন্টেড। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে কিছু নেই। তাদের নিজেদের খেয়াল খুশি মতো করবে। আসলে ওই নির্বাচনকালীন সরকারে তারাই থাকবে। কিন্তু দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। ১৪ দল ছাড়া সবাই ঐক্যমতে পৌছেছে। সবার দাবি একটাই নিরপেক্ষ নির্বাচন।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের যে রূপরেখা দেব নির্বাচনকালীন সরকারের জন্যে তার উপর ভিত্তি করে আজকে সমস্ত জাতির ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচন হবে একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এটা যদি সংবিধান থেকে বেরিয়ে এসে করা হয় তাতে কোনো অসুবিধা নাই। সংবিধান কোনো বাধা নয়। সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। আমরা এই ব্যবস্থাকে আবার বৈধতা দিতে পারব আগামী সংসদে নির্বাচনের পর পরবর্তি সংশোধনী এনে।
কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয় দাবি করে মওদুদ বলেন, বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ্য। যারা তাকে দেখে এসেছেন তাদের বর্ণনা শুনলে চোখে পানি এসে যায়। আমরা তার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করলেও কথা অনুযায়ী কাজ করেননি। যাদেরকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তাদের ৫ জন সদস্যের মধ্যে একজন আছেন বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। বাকী ৪ জনের মধ্যে তিনজন একেবারে তরুণ, তারা আওয়ামী লীগ করেন, তারা শুধু পদ-পদবীতেই নয়, তারা আওয়ামী লীগের এ্যক্টিভিস্ট। তারা সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগার।
তিনি বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যে ছলছাতুরী করা হচ্ছে তার জবাব একদিন দিতে হবে। অবিলম্ভে তার চিকিৎসার জন্য নতুন বোর্ড গঠন করা হোক। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারের বোর্ডের প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বলছে, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাকে পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করার যেতে পারে। যদি ঝুঁকিপূর্ণ না হয় উনি হাসপাতালে যাবেন কেন? সরকার তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে ছলচাতুরি করছে, যে ষড়যন্ত্র করছে, এর জবাব একদিন সরকারকে দিতে হবে, দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। এ বোর্ডের স্ববিরোধী প্রতিবেদন দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা না রাখার ব্যাপারে সরকারের গঠিত কমিটি যে সুপারিশ করেছে তার সমালোচনা করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ কেমন রাজনৈতিক দল। এটাও একটা প্রতারণা। এর আগেও তারা শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। প্রতারণার জন্য আগামী নির্বাচনে নতুন প্রজন্ম আওয়ামী লীগকে আর ভোট দিবে না। বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ