Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫, ০৭ সফর ১৪৪০ হিজরী

রাজধানীসহ তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

রাজধানীসহ তিন জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কক্সবাজারে দু’জন করে চারজন ও পাবনায় একজন নিহত হন। গত সোমবার মধ্যরাত এ সব ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজার এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। দু’জনের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর হবে। র‌্যাব জানায়, নিহত দু’জন ডাকাত দলের সদস্য। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রায়েরবাজারের বেড়িবাধ সংলগ্ন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে র‌্যাব-২ এর সাথে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত দু’জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
র‌্যাব-২ এর সিইও লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে, একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে অবস্থান করছে। পরে র‌্যাবের একটি দল রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতরা টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই দুইজন নিহত হয়। ডাকাতদের গুলিতে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মোহাম্মদপুরে থানা পুলিশের একটি দল গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ‘অচেতন দুই ব্যক্তির অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে।’ মোহাম্মদপুর থানার এসআই আনিসুর রহমান জানান, গতকাল বিকেল ৬টা পর্যন্ত নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাদের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল ও চাপাতিসহ আরও কিছু ধারালো অস্ত্র পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মোহাম্মাদপুর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ১০০ ও ১০১।
উখিয়া (কক্সবাজার) উপজেলা জানান : উপজেলার মরিচ্যাবাজার এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার আবদুস সামাদ (২৭) ও যশোরের অভয়নগর উপজেলার আবু হানিফ (৩০)। গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে মরিচ্যাবাজারে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে র‌্যাবের তল্লাশি চৌকির পাশে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের দাবি, নিহত দু’জন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭ (কক্সবাজার) এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, র‌্যাবের কাছে ইয়াবা পাচারের গোপন তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে একটি ট্রাক মরিচ্যা চেকপোস্টে পৌঁছালে র‌্যাব সদস্যরা সেটিতে তল্লাশির জন্য সংকেত দেন। কিন্তু ট্রাকটি না থেমে চেকপোস্ট অতিক্রম করে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা বাধা দেয়। এ সময় ট্রাক থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তখন র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
র‌্যাব সূত্র জানায়, ঘটনার পরে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৮টি গুলি ও ৮টি গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের দাবি, ট্রাকটি টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। এছাড়া নিহত দুই ব্যক্তি ইয়াবা কারবারি।
উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, গুলিতে নিহত দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
সাঁথিয়া (পাবনা) উপজেলা জানান: উপজেলার আতাইকুলায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুরবান আলী (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত কুরবান আটঘরিয়া উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের কিয়াম উদ্দিন ওরফে আদুর ছেলে। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তি চরমপন্থী সংগঠনের নেতা। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, গত সোমবার রাত ২টার দিকে থানার লক্ষীপুর ইউনিয়নের কৈজুরী গ্রামের শ্মশানের পাশের কাঠাল বাগানের মধ্যে একদল সন্ত্রাসী নাশকতার লক্ষ্যে গোপন মিটিং করছে এমন তথ্য পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আহতাবস্থায় কুরবান আলীকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভালবার, ৪ রাউন্ড গুলি ও ২টি গুলির খোসা, ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ওসি আরও জানান, নিহত কুরবান আলী চরমপন্থী সংগঠন ‘নকশাল’ গ্রুপের আঞ্চলিক নেতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ